![]() |
কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৩৩ |
ধূলোবালি
শূন্যে ওড়ে শাদা পালক। কী নিটোল বুকের কলজের গভীরে ক্রীতদাসের ক্রন্দন। জানালা দিয়ে ভেতরের দৃশ্য। হিম। মসৃণতা পুড়ছে প্লট। চুমু। কান্না। বিয়ে বাড়িতে অ্যালকোহলের ঘ্রাণ।
এতো অস্থির কেন? যাকে ভালোবাসা তাকে বলা পাবলো নেরুদা পড়েছ। সুন্দরী হলে বিশ্বস্ত হয় না অথবা বিশ্বস্ত হলে সুন্দরী। দস্তয়েভস্কি আর আন্না প্রিগরিয়েভনের প্রেম।ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট।
প্রেমিকা হাতকাটা ব্লাউজে মায়াহাসি আঁকে। চারফোঁটা অশ্রু।
আর চুরির কাপড় দিয়ে বুনি শাড়ি। নিজের চিতায় তুলি
নিজের সময়কে। স্তন, সহবাস, কুয়াশা রাতে ক্লান্ত।
:তুমি কি পাগল?
:কে?
:কে আবার তুমি?
:সোমবার বিকালে বউয়ের কোলের ভেতর শুয়েছিলে।
:কেন ?
:এগারোবার ফোন দিয়েছি।
:আর আমি হাজারোবার কল দিই। সারারাত ধরে।
:মদের সাথে নাচ। হেসে কুটিকুটি। সঞ্জয়ের সাথে একটা ছবি।
:সঞ্জয়টা কে?
:যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন আমায় নাকি ভালোবাসতো।
তারপর বিদেশ চলে যায়। এখনও বিয়ে করেনি।
:জ্বলে শরীর। শুধু একটা ছবি।
রাঘব চট্টোপাধ্যায়ের গান ও আমার মন উড়ি উড়ি মন কেউ জানে না। কোন ঠিকানায়। তেপান্তরের মায়ায়।
:তুমি তো পাগল। মনটা ফিরে আসে।
:কেঁপে ওঠে গলা। মাথাটা কাজ করছে না
প্যারালাল ওয়াল্ডর্স মিচিও কাকু সামনে। হেরে গিয়ে আবার ফিরে আসবো। সুভাষ ঘোষের মদ-মাতাল হরিণী - কলিজার ফুল।
:হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কথা বলার সময় কেন কেঁদেছিলে?
:আজ রাতে কথা হবে না?
ফোনের লাইনটা কেটে দিই।
বেদুইন টান। জীবনের সীমান্তে পুড়তে পুড়তে অনুশাসন। বহুদূরে বিছানায় এলোমেলো তোমার পোশাক আজ। নীলের নেশা। অপেক্ষায় ছুঁয়ে দেখার। ক্রমশ এগোয় মৃত্যু। অর্ধ মরা পুকুর। ঘাসের গন্ধ। দেবী রায় -নিয়তি? তুমিও ঝটপট বলে ফ্যালো কী তোমার অভিযোগ।
গোধূলি বেলায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। এক স্ট্রোকে ফুটে ওঠে গোলাপ তোমার চুলে চেপে ধরে বামদিকে। আলোয় সব শাদা। সব শূন্য।
আজ মধ্যরাতে জেগে আছি। পাবলো নেরুদার ভাষায় সবাই ধূলোবালি। তোমার বিছানায় লেপ্টে থাকা লিপস্টিকের ঘ্রাণ টেনে নিয়ে চলে গভীর রাতকে। তবে জানি আজ মধ্যরাতে বেঁচে আছো অন্য নীল আগুনের ঠিকানায়। ঘুম ভাঙবে ভীষণ ঝড়ের কাছে।
এখন থেকে খিলখিল করে হেসে ওঠে দক্ষিণের রাত। ধূলোবালির গভীরতায় ভাবি শালা আমি কি পাগল? আষ্টেপৃষ্টে ঘুম আয়। অন্তত আজ ঘুম একবার ছুঁয়ে যা...
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন