![]() |
কবিতার কালিমাটি ১৪৩ |
ইচ্ছাপত্র
ক্রৌঞ্চী বলে,
‘আমার মরণকালে,
বসন্ত লিখে দিও–
জংলি পিয়ালে।’
ক্রৌঞ্চ হাসে,
‘তোমার চিতার কাছে,
আমার সমাধি আছে।’
লিখে যায় প্রেয়সী
আড়ালে অস্ফুটে,
কবিতা জমে ওঠে
জীর্ণ চিরকুটে,
‘হে বন্য ব্যাধ,
আমারে বধিও তুমি,
আবার জন্ম হোক
তোমারই হাতে।’
বিরহী সোহাগ
ভোরের আলো জাগেনি,
এখনও আঁধার গাঢ় ঘুমে।
নিঝুম পাড়ায় আজানের ডাক,
চুপ হয়ে যায় রাতের কোকিল।
ডেকেই চলছিল নাগাড়ে,
গ্রীষ্মের তাপে বিরহী কোকিল,
একলা রাতে পাতার আড়ালে
লুকিয়ে খোঁজে কোকিলা সোহাগ।
জাম্পত্য
শহরের ধারে নোংরা ফুটপাতে
রোজই মাতে ঝগড়ায়,
এক দম্পতি, কঙ্কালসার
ঝলসানো চামড়া, দুর্গন্ধে ভরা।
স্নান করেনি কত মাস,
হলদে দাঁতের কালচে মাড়ি
মাথা ভর্তি উকুনের ঝাঁক,
গায়ের চারপাশে সারাক্ষণ
মশা, মাছি ভনভন করে।
তবু ওরা বাঁচে, সাধারণ জীবনে
মূল্যহীন, উদ্দেশ্যহীন, অস্বাস্থ্যকর।
ফুটপাতের কমা চালের ভাত,
চা, কাঁচা পাঁউরুটি, ছোলা-বাদাম,
অপুষ্টিকর, ধুলোমাখা খাবার,
জানে না, কত রোগ আছে
বাসা বেঁধে, ওদের শরীর জুড়ে--
ওরা অসভ্য, বস্তির লোক,
নোংরাই ওদের জীবন,
পচাগলা গন্ধটাও বড় ঘরোয়া
নেই সঞ্চয়, সংসার জানে না,
ভাবে না ভবিষ্যত,
ওরা বাঁচে বর্তমানে।
নিষ্কর্মা ওরা, কাজ আসে
আলেকালে, তবু মন লাগে না
বেকারত্বেই ওদের সুখ
ওরা ঝগড়া করে, চেঁচিয়ে,
কখনও কাঁদে, কখনও হাসে
বড় খারাপ ওদের ভাষা,
ওরা কেবল ঘুরে বেড়ায়
দিনরাতে বেহিসেবি চাল
তবুও ওরা বাঁচতে চায়
প্রেমে, যাপনে, আবেগে,
ভালোবাসায়।
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন