![]() |
সমকালীন ছোটগল্প |
বন্দুক লোপাটের সচ্চি কাহানি
আমাদের টাটানগর রেল কলোনিতে কখনো কখনো কলোনি কাঁপানো ঘটনা ঘটতো। আমার ঐ কলোনিতে থাকার আঠেরো বছরে বার কয়েক তেমন ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড়ো ঘটনাটা ছিল হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার। যাতে বিলকিসদের জোড়া কোয়ার্টারটা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছিল। সে ঘটনার কথা আগে বলেছি। আজ বলবো সেরকমই একটা কলোনি কাঁপানো ঘটনার কথা। সেটা RPF মানে রেলওয়ে সুরক্ষা বল-এর সুবেদার উমাশংকরজীর বন্দুক গায়েব হবার কথা। উমাশঙ্করজীর টাইটেলটা আমরা জানতাম না। আমরা অত্যন্ত সমীহের সাথে ওনাকে ডাকতাম সুবেদার মুচ্ছেদার বলে। সংক্ষেপে মুচ্ছে বালে উমা শংকরজী বলে। সে নামটা যে তাকে কে দিয়েছিল সেটাও আমরা জানতাম না। তবে কেন দেওয়া হয়েছিল সেটা জানতাম। উমা শংকরজীর একজোড়া জব্বর গোঁফ ছিল। তাতে তরিবত করে আঠা মাখানো হতো। এবং ঐ আঠা মাখানো গোঁফজোড়াকে পাকিয়ে পাকিয়ে উর্দ্ধমুখী করা হতো। যার দুই প্রান্ত হতো ছুঁচের মতো সূচালো। এমনিতে রোগা লম্বা মানুষটার দুর্বল পার্সোনালিটি ঐ উর্দ্ধমুখী সূচালো গোঁফ জোড়ার জন্যেই জব্বর দমদার হয়ে থাকতো। উনি সেটা জানতেন। তাই তার একটা হাত সবসময়ই ঐ গোঁফ জোড়ার তরিবত করতে ব্যাস্ত থাকতো। তরিবত মানে গোঁফে আঙ্গুল বোলানো। তাদের প্রান্ত দুটিকে মুচড়ে মুচড়ে সূচালো করে রাখা। এক কথায় তখন যাকে বলা হতো "মুচ্ছে মে তাও দেনা"।
এমনি RPF সিপাহীদের অস্ত্র হিসেবে
লাঠিই দেওয়া হতো। দু এক জন বল্লমধারী সিপাহীও দেখেছি। সেটা ঐ লাঠির মাথাতেই সূচালো
একটা লোহার টুপি লাগিয়ে বানানো হতো।
টাটানগর রেল ইয়ার্ডটা ছিল বিশাল। বিরাট এলাকা জুড়ে অসংখ্য রেললাইনের জাল। সেখানে সবসময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো মালগাড়ির বগি, এক্স যাকে আমরা বলতাম ডিব্বা।
বেশিরভাগ পরস্পরের সঙ্গে জোড়া।
কয়েটা একা একলা ডিব্বাও থাকতো। কিছু খালি কিছু মালে ভরা। টিস্কো ছাড়াও অনেক ইন্ডাস্ট্রি
ছিল, আছে জামশেদপুর টাটানগর জোড়া শহরে। তাদের মাল আনা নেওয়া হতো, হয় ঐ সব মালগাড়িতে
করে। মালে ভরা ঐ মালগাড়ির সুরক্ষার জন্য রেলওয়ে সুরক্ষা বলের বিশেষ দস্তা বা টিম
ছিল। তারা রাত জেগে ঐ ইয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে পাহারা দিত। উমাশংকরজী ঐ নাইট শিফট দস্তাতে
জায়গা পেয়েছিলেন। কঠিন গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাতে ইজ্জতও বেশি। সবচেয়ে বড়ো ইজ্জত ওই
দস্তার সিপাহীদের বন্দুক দেওয়া হয়। ঐ দস্তায় যোগ দিয়ে উমা শংকরজী বন্দুক পেয়ে
ছিলেন।
এতে করে তার ঘমন্ড আর মুচ্ছায়
তাও দেওয়া বহুগুণ বেড়ে গেছিল। শুধু তার নয় ঘমন্ড বেড়ে গেছিল তার বিবি বাচ্চাদেরও।
তারা সগর্বে কলোনিতে বলে বেড়াচ্ছিল।
- উনকো রাইফেল মিল গয়া।
উমা শংকরজীর বড়ি বেটি দুলারী আমাদের
সমবয়সী। গীতার সাথে দোস্তী ছিল তার। ও গীতাকে বলেছিলো।
- হমরি পাপা অবকে রাইফেল ধারি সুবেদার
বন গইলন।
উমাশংকরজীর রাইফেল প্রাপ্তির ফলে
তাদের গোটা পরিবারের হওদা মানে পজিশন বেড়ে গেছিল।
যদিও সোমনাথ খবর এনেছিল।
- দূর দূর। রাইফেল টাইফেল নয়।
মামুলি বন্দুক। রাইফেল আরো অনেক উঁচু লেভেলের ব্যাপার। সে সব সোলজাররা ব্যাবহার করে।
- কি করে জানলি?
- পরি স্যার বলেছে।
পরি স্যার ছিলেন কলোনির বেস্ট প্রাইভেট
টিউটর। এবং আমাদের সব রকম জ্ঞান, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভুগোল, সাধারণ জ্ঞানের সাপ্লাই দাতা।
আমরা তার দেওয়া ইনফরমেশন কে অভ্রান্ত মানতাম।
সুতরাং আমরা জানলাম উমাশংকরজীর
রাইফেলটা আসলে বন্দুক।
হোক বন্দুক সেটাও বা পায় কজন।
আমাদের তখনকার কলোনিতে আর কারোরই তো সেটা ছিল না।
তাই যখন খবর এলো।
মানে উমাশংকরজীর বিবি হাহাকার করে
পাড়ায় জানালেন।
- হায় রাম। গজব হো গইলন। কাল রাত
উনকা রাইফেল খো গইলন।
তখন গোটা টাটানগর রেল কলোনি কেঁপে
উঠেছিল। সেটা ছিল যাকে বলে কলোনি কাঁপানো একটা ঘটনা। পাড়ার সব ঘরে ঘরে, রাস্তাঘাটে,
চায়ের দোকানে তখন একটাই আলোচনা
- আরে সব্বোনাশ উমাশংকরের বন্দুক
গায়েব হয়ে গেছে। এবার কি হবে?
প্রথমেই উমাশংকরজী শার্ট প্যান্ট
হয়ে গেলো। এই শার্ট প্যান্ট মানে সাসপেন্ড ফ্রম সার্ভিস। চাকরি যাওয়া নয়। তবে একে
সাময়িক বরখাস্ত বলা যায়। বিনা কামকাজ ঘর বৈঠে বৈঠে বেতন মিলি আধা।
সিপাহীদের বর্দিতে পট্টি আর স্টার
দিয়ে তাদের পদমর্যাদা বোঝানো হয়। শুরু হয় এক পট্টি দিয়ে। পদোন্নতির সাথে সাথে এক
পট্টি দুই পট্টি তিন পট্টি হয়। তার ওপরে উঠলে আর পট্টি নয় তখন বর্দিতে স্টার লাগে।
উমাশংকরজীর বর্দিতে স্টার লেগেছিল।
এবার ওনার ঐ স্টার ছিনা যায়গা।
তার পজিশন 'গর্দিশ মে হ্যায় তারে' হয়ে যাবে।
কিন্তু গভীরতম সওয়াল হোলো
- বন্দুক হো য়া ফির রাইফল। উ গায়েব
হুয়া কৈসে?
গোটা রেল কলোনি এই বিষয়ে দিমাগ
ঘামাতে লেগে গেছিল।
আর ঠিক সেই সময় দুলারী এসে গীতাকে
বলেছিলো।
- এ গীতোয়া। তোহার সোমুকো বোলনা
পাপাকে রাইফিলকা পতা লগায়ে।
এই সোমু মানে সোমনাথ। তার করিতকর্মের
অজব গজব কাহানী কলোনির সবাই জানতো। সবাই মানতো এই পরীক্ষায় ফেল করা ছোকরা অসাধ্য সাধন
করতে পারে। দুলারীও জেনেছিল।
গীতা সোমনাথকে বলেছিল।
- এই সোমুদা। দুলারীর বাবার রাইফেলটা
খুঁজে দে না।
- রাইফেল না কচু। ওটা বন্দুক। পরি
স্যার বলেছেন।
- হোক বন্দুক। সেই বন্দুকটাই খুঁজে
দে না।
- মুস্কিল আছে। জানিস তো টাটানগর
রেল ইয়ার্ডটা কত্তো বড়ো। গিজগিজ করছে মালগাড়ির বগি। কোথায় খুঁজবো বল?
- তার মানে তুই শিওর বন্দুকটা ঐ
রেল ইয়ের্ডেই গায়েব হয়েছে।
- শিওর মানে টু হান্ড্রেট পার্শেন্ট
শিওর। তোর দুলারীর বাপ উমা শংকর তো বন্দুক কাঁধে ওখানেই রাত ডিউটি দেয়।
চোখ মটকে সোমনাথ বলেছিল।
- অন্য রকম রাতের ডিউটিও করে ওখানেই।
আমরা তখনকার রেল কলোনির ছেলেমেয়েরা
খুব অল্প বয়সেই পেকে যেতাম। জীবনের অনেক গোপন রহস্য কম বয়েসেই আমাদের জানা হয়ে যেত।
যদিও সে সব ছিলো আমাদের জন্য পুরোপুরি নিষিদ্ধ ব্যাপার।
এই জানতে পারার পেছনে কারন ছিল।
গোটা কলোনিতেই আমাদের সমবয়সী বিয়ে হওয়া মেয়ে ছিল অনেক জন। তারা অল্প অল্প সংসার
কোরতো আর সমবয়সী ছেলে মেয়েদের সাথে অনেক অনেক খেলাধুলা আর গল্প স্বল্প কোরতো। তাদের
সেই গল্পগুলো খুবই মশালেদার রগরগে হোতো। সে সব শুনে শুনে আমরা অকালেই অকালপক্ক হয়ে
যেতাম।
একবার অকালপক্ক হয়ে গেলে আর কোনো
বাধা নেই। সব নিষিদ্ধ কথাই তখন টপাটপ কানে এসে যেত। জানা হয়ে যেত।
আমরা জানতাম রেল ইয়ার্ডে পড়ে
থাকা ফাঁকা রেল ডিব্বায় ও সব হয়। জুগসলাই বস্তী থেকে বাজে মেয়েরা আসে। দারুও আসে।
ফাঁকা বগিতে বগিতে রাতভর ফুর্তির আসর বসে।
সোমনাথের বিশ্বাস ওরকম কোনো আসরেই
যখন উমাশংকর ফুর্তি করছিলেন। তখনই ওনার বন্দুকটা কেউ গায়েব করে দিয়েছে।
- জানিস যখন তখন তুই তো খুঁজে আনতেই
পারিস।
- কে যাবে ঐ বদনাম রেন্ডি মহল্লায়?
রেন্ডি শব্দটার খুব প্রচলন ছিল
তখন। এমনকি পাড়ার মহিলাদের মধ্যে ঝগড়া যখন ভয়ানক স্তরে উঠে যেত। তখন এই গালাগালিটা
পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা হোতো।
মজার কথা রেল কলোনির কোনো ঝগড়াই
খুব টেকসই হোতো না। ঝগড়ার কিছুদিন পরেই ভাব হয়ে যেত।
যাই হোক। আমরা ধরে নিয়েছিলাম উমা
শংকরজীর বন্দুক আর ফিরে পাওয়া যাবে না। ফলে উমাশংকরজীর বর্দি থেকে স্টার খসে যাবে।
চায় কি তার শরীর থেকে বর্দিটাই খসে যাবে।
কিন্তু সেটা হয় নি।
এবার তার কথাই বলি।
গীতা একদিন চোখ বড়ো বড়ো করে আমাকে
বলেছিল।
- দুলারীটা না ভারি অসভ্য মেয়ে।
- কেন? কি হয়েছে?
- বলে কি সোমু অগর রাইফল খোঁজ দেগা
তো মৈ উসে কিস দেইব- ঔর লেইব। জিতনা মর্জি উতনা। কোনো রোক ঠোক নহি।
- এমন কথা বললো?!!!
- বললই তো।
- তুই সে সব কথা সোমনাথ কে বলেছিস?
- পাগল নাকি। তবে দুলারীটাকে বিশ্বাস
নেই। নিজেই সোমুকে বলে দিতে পারে।
- তা পারে। যেমন বাপ, মেয়ে তো
তেমনই হবে। তবে সোমনাথ কে ওভাবে পটাতে পারবে না। সোমনাথ আলাদা ধাতু দিয়ে তৈরি।
- তোকে পারবে?
গীতার এই কথা শুনে ক্ষেপে গিয়ে
আমি গীতাকে মারতে গেছিলাম। আর ও হাসতে হাসতে পালিয়ে গেছিল।
পাড়ায় উমাশংকরের বন্দুক গায়েব
নিয়ে রোমহর্ষক নানা রকম গল্প ও শোনা যাচ্ছিল। কেউ বলছিল
- ওসব চুরি টুরি বাজে কথা। ওরা
উতরি বিহারের লোক। ওখানে জমিজমা নিয়ে খুব মারপিট খুনোখুনি হয়। বন্দুকটা উমাশংকর নিজেদের
দেশেই চালান করে দিয়েছে। আর এখন গল্প বানাচ্ছে।
কেউ আবার বোলেছিল।
- চম্বলের ডাকাতরা এভাবে হাতিয়ায়
জোগাড় করে। উমা শংকর তাদের কাছ থেকে বন্দুকের বদলে নির্ঘাৎ অনেক টাকা পয়সা পেয়েছে।
কারো মতে চক্রান্তটা আরো গভীর।
- শয়তানটা নিজেই বন্দুকটা নিজের
কাছে লুকিয়ে রেখেছে।
- কিন্তু কেন?
- কারো উপর বদলা নেবে। চাকরিটা
গেলে আর সে বাবদে সব টাকা পয়সা পেয়ে গেলে। তখনই সেই দুশমনের বুকে দড়াম করে গুলি
দেগে দেশে পালিয়ে যাবে।
কে সেই উমাশংকরের দুশমন? তা নিয়েও
ভাবনা চিন্তা শুরু হয়ে গেছিল। তাতে অনেকগুলো নামই খুঁজে পাওয়া গেছিল। অনেক গুলো সম্ভাব্য
দুশমন। উমা শংকরের সাথে ঝগড়া হয়েছে এরকম অনেক লোকের নামই মনে পড়তে লেগেছিল সবার।
মহিলা মহলে আবার অন্য রকমের একটা
গপ্পো চলছিল।
- উমাশংকর নয় বন্দুকটা লুকিয়ে
রেখেছে উমাশংকরের জরু।
নিজের মরদের রন্ডিবাজীর জন্য বউটা
তো দারুন ক্ষেপে ছিল। কিন্তু ভারতীয় নারি তো তাই তার যতোটা গুস্যা বরের উপর তার চেয়ে
ডবল ট্রিপল গুস্যা ঐ রেন্ডিগুলোর উপর। মৌকা মতো তাদের উপরেই গোলি চালাবে ও।
এটাও অসম্ভব কিছু নয়। মোট কথা
গোটা টাটানগর রেলকলোনিটা ঐ রকম নানা সম্ভাবনার চর্চায় মুখরিত হয়ে গেছিল।
এমন সময় একদিন সোমনাথ এসে আমাদের
খবর দিয়েছিল।
- দু এক দিনের মধ্যে বন্দুক ফেরত
এসে যাবে।
- কি করে জানলি?
- খবর পেয়েছি। পাকা খবর।
- কোত্থেকে পেলি?
- জুগসলাই রেন্ডি বস্তী থেকে।
- তুই গেছিলি ওখানে?
এ প্রশ্নটা করেছিলাম আমি। আর চোখ
কপালে তুলে গীতা বলেছিল।
- মতলব। লাডলী তোকে কিস্সি দিয়েছে!
মা গো সোমু তুই নিলি সে সব?
আগের দিন যেমন আমি দৌড়ে ছিলাম
গীতাকে পিট্টি দিতে। সেদিন সোমনাথ দৌড়ে ছিল ওর পেছনে।
কিন্তু আমার মতই সোমনাথও গীতার
নাগাল পায় নি।
তারপর এসেছিল সেই দারুন দিনটা।
গোটা রেল কলোনির লোক বিস্ফারিত
চোখে একটা ছোটো মিছিল দেখেছিল। মিছিলের আগে উমাশংকরের বিবি। পেছনে লাডলী সহ তাদের বাকি
ছেলে মেয়েরা। সব চেয়ে অবাক কান্ড উমাশংকরের বিবির কাঁধে উমাশংকরের হারিয়ে যাওয়া
বন্দুকটা। ওটা ফিরে এসেছে। আর সেটাই এভাবে মিছিল করে পাড়ায় জানাতে বের হয়েছে ওরা।
কিন্তু উমাশংকর কোথায়? তাকে তো দেখা যাচ্ছে না।
লাডলী জানিয়ে ছিল।
- বাবুজী তো বেহোশ হো কর ঘরমে পড়া
হ্যায়।
- কি করে বেহোশ হোলো?
- মম্মিনে লৌটে সে মারিস। উসিসে।
মিছিল ঘোষ বাবুর মিষ্টির দোকানের
সামনে থেমেছিল। এবং ঢের সারি মিঠাই কিনে সে মিছিল তাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে গেছিল।
সেখানেও একটা আজব গজব দৃশ্য দেখা গেছিলো। এক বিব্রত মহিলাকে জোরজার করে মিঠাই খাওয়াচ্ছিল
উমাশংকরের বিবি। আর যে লৌটার আঘাতে হোঁশ হারিয়ে ছিলেন উমাশংকরজী। সেই লৌটা দিয়েই
লাডলী জমিনপর লেটে হুয়ে উমাশংকরজীর মাথায় জল ঢাল ছিল। যাতে তার হোঁশ ফিরে আসে।
সে দৃশ্য দেখতেও ভিড় হয়েছিল।
আমরাও গিয়ে দেখে এসেছিলাম।
- যাকে লাডলীর মা মিষ্টি খাওয়াচ্ছে
ওটা কে রে সোমনাথ?
- ওটাই তো সাকিনা। জুগসলাই বস্তীর
রেন্ডিটা।
এরপর সোমনাথের কাছ থেকে যে গল্পটা
শোনা গেছিল সেটা এরকম। সেদিন রাত্তিরে রেল ইয়ার্ডে দাঁড়ানো একটা মালগাড়ির খালি বগিতে
ফুর্তি চলছিল। ছিল উমা শংকর। ছিল আরো কয়েকজন। হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে গাড়িটা নড়ে
উঠে ছিল। প্রথমে গাড়ি কেনো নড়ছে কেউই বোঝেনি। নেশা করে ধুত ছিল সবাই। পরে যখন গাড়ি
স্পিড নিয়েছিল তখন সবাই বুঝতে পেরেছিল, মালগাড়িটা এই রাতেই চলতে শুরু করেছে। এটা
এখন কোথায় যাবে কে জানে। তাই তাড়াহুড়ো
করে সবাই যে যেমন অবস্থায় আছে
বগি থেকে লাফ দিয়েছিল। লাফিয়ে ছিলেন উমাশংকরজীও। তবে বন্দুক ছাড়া। সেটা রয়ে গেছিল
বগির মধ্যেই। তবে লাফিয়ে নামতে পারেনি সাকিনা।
- কপড়া সমেটতে সমেটকে ট্রেইন স্পিড
পকড় লি থি।
যখন কোথাও গিয়ে মালগাড়িটা থেমে
ছিল তখন সাকিনা ট্রেন থেকে নেমে ছিল। এবং বুদ্ধি করে উমাশংকরজীর বন্দুকটাকেও সঙ্গে
নিয়ে নিয়েছিলো।
- উসে কপড়েমে বড়িয়াসে লপেটকে
চলতে চলতে চলতে মৈ ঘর বাপিস আ গয়ি থি। লেকিন ঘর পঁহুচকে যব ইধরকা হাঙ্গামা কে বারে
মে শুনি। তো ডর গই মে। দুবককে বৈঠ গই ঘর মে।
- ফির কাল এক ছোকড়া আকর বোলা।
ডরনেকা কোই বাত নেহি। মুঝে ভরোসা দিয়া। তব যাকে মেলা এঁহা আনেকা হিম্মত হুয়া।
এক ছোকড়া মানে যে সেটা সোমনাথ
এটা আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি।
তবে ঐ একবারই আমরা সকলে দেখেছিলাম
এক মুসলমান রেন্ডিকে গেরস্ত বাড়ীর এক বউ যত্ন করে মিঠাই খাওয়াচ্ছে।
উমাশংকরজীর বন্দুক গায়েবের এই
হোলো কাহিনী। যা একদা টাটানগর রেল কলোনিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
দেখুন এ কাহিনী শুনে এখন আপনারা
কেঁপে উঠছেন কি না?
বেশ কিছু টাইপো আছে। সংশোধিত হলে ভালো হয়। সেটা করা যায় কি?
উত্তরমুছুন