কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১২৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১২৮

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫

রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়

 

সমকালীন ছোটগল্প


ছবি

সম্বন্ধ করেই সৌম্যর বিয়ে হয়েছিল মন্দিরার সঙ্গেবয়সের অনেকটা ফারাক এবং সৌম্যর দুর্বল উপার্জন সত্ত্বেও মন্দিরার মা আর দাদা এই বিয়েতে রাজী হয়েছিল দুটো কারণেসৌম্যকে বেশ দেখতে, আশপাশ থেকে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে নেশাভাং করে না, ভদ্র, দায়িত্ত্ববান প্রকৃতির ছেলে আরেকটি কারণ, সৌম্যর পরিবার ওর বাবা মা মাটির মানুষ বাবা ইন্ডিয়ান অয়েলের মোটা মাইনের চাকরী করে অবসর গ্রহণ করেছেন, সুন্দর দোতলা বাড়ি আনন্দপুরে। স্বচ্ছল পরিবারের একমাত্র ছেলে সৌম্য কিছু না করলেও চলে যাবে

একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এগুলো কি সত্যিই কোন যুতসই কারণ? মন্দিরার বাবা যখন মারা যান, তখন মন্দিরার দাদা মন্থন ক্লাস থ্রি এবং মন্দিরা স্কুলে ভর্তিই হয়নি আত্নীয়স্বজনরা কতটা সাথে ছিল বুঝতে হলে এটুকুই যথেষ্ট যে, একজন বিধবা ভদ্রমহিলা ব্যাচের পর ব্যাচ প্রাইভেট টিউশন পড়িয়ে নাবালক নাবালিকা সন্তান মানুষ করেছেনআন্তরিকতা ও সৌজন্যর মধ্যে তফাতটা তখন থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল

এছাড়া কয়েক বছর আগে ঘটা করে দেওয়ের মেয়ে মৈত্রেয়ীর বিয়ে হল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সুকল্পর সঙ্গেমৈত্রেয়ী ফিরে এল কয়েক মাসের মধ্যেই সু-রোজগেরে হলেও সুকল্প এতটাই খারাপ ছেলে যে কহতব্য নয় মৈত্রেয়ী সদ্য ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে কোনক্রমে কিন্তু আর বিয়েতে রাজী হতে চাইছে না কিছুতেই

মন্দিরার পড়াশোনা খুব একটা বেশীদূর এগোয়নি মন্থন ইকনমিক্সে পিএইচডি করে কোলকাতার এক নামী কলেজের নামজাদা অধ্যাপক হতে পারলেও, মন্দিরা টেনেটুনে মাধ্যমিকের গন্ডী পেরোতে পেরেছে মোটামুটি সুন্দরী, কিন্তু এই কমজোরি দিকটার জন্য ওর যে দামী পাত্র যোগাড় হবে না, এটা ওর মা ও দাদা উপলব্ধি করেছিল এসব কারণে সৌম্য পছন্দ হয়েছিল ওদের আরও একটি কারণ রয়েছে, তাকে সচেতনভাবে গোপন রাখতে চেয়েই তড়িঘড়ি করে মন্দিরার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল মন্দিরার মা কোন রিস্ক নিতে চাননি মায়ের বাস্তববুদ্ধিকে অস্বীকার করতে পারেনি অধ্যাপক দাদাও

গিরিশ পার্কের মত হার্ট-অফ-দ্য-সিটি এলাকায় ছোট থেকে মানুষ হয়ে আনন্দপুর মন্দিরার প্রথম থেকেই ভালোলাগেনি দু পা হাঁটতে না হাঁটতেই পুকুরের পর পুকুরসেখানে সবাই স্নান করছে, এমনকি মহিলারাও! রাস্তাঘাটে প্রচুর সাইকেল এবং কখনো কখনো মোটরসাইকেলের সঙ্গে গরুও হেঁটে যাচ্ছে সন্ধ্যার পর ঝিঁঝির ডাকে কান পাতা দায় রাস্তার কল থেকে লোকজন খাওয়ার জল নিচ্ছেওঃ কি সাঙ্ঘাতিক সব ব্যাপারস্যাপার! সৌম্যর সঙ্গে মন্দিরার রুচিরও পার্থক্য ছিল বিস্তর সৌম্যর যেখানে গ্রুপ থিয়েটার, অ্যাকাডেমি, নন্দন, বইমেলা, ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল পছন্দের বিষয় মন্দিরার এসব পছন্দই হতনা।

সৌম্য প্রথম থেকেই মন্দিরার মন জুগিয়ে চলার পন্থা নিয়েছিল আর এই করতে গিয়ে সৌম্যর প্রিয় বন্ধু নারায়ণ, অনন্ত, গোবিন্দের সাথেও ওর দূরত্ব বেড়ে গেল সৌম্য নানা অজুহাতে ওদের এড়িয়ে যেত, কারণ ওদের নাম, কথা বলার ধরন, পছন্দের বিষয় মন্দিরার হাস্যকর মনে হত আশ্চর্যের বিষয় সৌম্য কোন প্রতিবাদ করত না সৌম্য কখনো মন্দিরাকে বলে উঠতে পারেনি, এভাবে হঠাৎ করে এতদিনকার সম্পর্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায় না সৌম্যর বাবা মা টুকটুকে পুত্রবধূ পেয়ে আহ্লাদে গদগদ শ্বশূরমশাই সঙ্গে করে পুত্রবধূকে নিয়ে গিয়ে বি বি গাঙ্গুলী স্ট্রীট থেকে একটার পর একটা গয়না কিনে দিচ্ছেন, আর এম সি এ বসাক থেকে শাড়ি, মন্দিরা যা বলছে তাই হয়ে যাচ্ছে পরিবারে পারিবারিক মূল্যবোধও যে একটু একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছেকেউ খতিয়ে দেখেনি

এরই মধ্যে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল বিয়ের এক বছর হতে না হতেই মন্দিরা মা হল। ‘দুর্ঘটনা’ – কারণ মন্দিরা সরাসরি অভিযোগ করল সৌম্য ওকে না জানিয়ে… বাটানগর এবং গিরিশ পার্ক দু জায়গাতেই উৎসবের ঢল নামল যেন মন্দিরা এত তাড়াতাড়ি মা হতে চায়নিসৌম্য কিছু একটা হিসেব করে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে বেশীদিন পিছিয়ে দিতে চায়নি বিয়ের পর মন্দিরার প্রায় সব কথা প্রতিবাদহীন মেনে নিলেও এই একটা জরুরী কাজ ও নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী করেছিল মন্দিরা যদিও অপবাদ দিয়েছিল, “ওই জ্যেঠুমার্কা বন্ধুগুলোর সঙ্গে লুকিয়ে যোগাযোগ রাখে ও ওরাই এই বদবুদ্ধি দিয়েছে ওকে” বিয়ের পর ‘বাচ্চা নেওয়া’ বদবুদ্ধি!

মন্দিরার মা ও দাদা নানারকমভাবে বুঝিয়েও কিছুতেই শান্ত করতে পারেনি ওকে নিজেরাও বুঝতেও পারেনি যে এই মানসিক দ্বন্দ্বই একদিন বিধ্বংসী হয়ে উঠবে, ভাঙন ধরবে সম্পর্কে একদিকে মা ও দাদার প্রতি রাগ এবং সৌম্যর প্রতি তীব্র ঘৃণায় মন্দিরার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে গেল। এমনকি ছেলে পিকাইয়ের প্রতিও ওর তেমন নজর ছিলনা গিরীশ পার্কে থাকাকালীন ওর মা-ই সব সামলাতেন এমনকি বাচ্চাটাকে ব্রেস্ট ফিডিং করাতেও ওর তীব্র অনীহাফিগার নষ্ট হয়ে যাবে এই অজুহাতে মন্দিরার মা সৌম্যকে বা ওর বাড়িতে এসব জানাননি যদি মৈত্রেয়ীর মত কিছু ঘটে যায়, এই দুশ্চিন্তায়

আনন্দপুরে আসার পর সৌম্যর মায়ের চোখে ফাঁকিটা ঠিক ধরা পড়ে গেলতিনি ধীর স্থির শান্ত স্বভাবের মহিলা সৌম্যর বাবাকে কিছু জানালেন না এই ভেবে যে, পুত্রবধূকে নিজের মেয়ে ভাবা মানুষটা কষ্ট পাবেন সৌম্যকেও উনি কিছু জানিয়ে উঠতে পারেন নি রাত্রিবেলা দরজা বন্ধ করার পর মন্দিরা সৌম্যর সঙ্গে যে ভাষায় কথা বলত, সৌম্য সেসব কাউকে কিভাবে জানাবে! কিন্তু স্নেহে অন্ধ শ্বশূরমশাই পর্যন্ত একদিন বিরক্ত হয়ে মন্দিরাকে বলে ফেললেন, “দাদুভাইকে এতক্ষণ একা রেখে কোথায় গেছিলে মা? আমরা বুড়োবুড়ি কি আর ওকে এতটা সময় রাখতে পারি?” মন্দিরা বিড়বিড় করে কি বলল সৌম্যর বাবা শুনতে না পেলেও সৌম্যর মা ঠিক শুনে ফেললেন তাঁর মত নিরীহ মহিলাও সেদিন হঠাৎ রিঅ্যাক্ট করে ফেললেন

কি বললে তুমি?”

যা শুনেছেন, সেটাই বলেছি

ছিঃ! একটা ভদ্র বাড়ির মেয়ে তুমি, ভদ্র বাড়ির বউ হয়ে এসেছ, এই তোমার মুখের ভাষা! তোমার শ্বশূরমশাই শুনলে তো হার্টফেল করবেনএত ভালোবাসেন তোমাকে!”

এতে আমার…” বলে মন্দিরা কুৎসিত একটা ভঙ্গী করল শাশুড়িকে সৌম্যর মা দুচোখ বুজে শুধু বললেন, “হে ঈশ্বর!” উত্তেজনার চোটে খেয়ালই করেননি সৌম্যর বাবা চুপ করে গোটা দৃশ্যটাই দেখে ফেলেছেন

নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে বুকে হাত দিয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিলেন বৃদ্ধ মানুষটি তখনো সৌম্য এসে পৌঁছয় নি সৌম্যর মায়ের কান্নাকাটিতে পাড়ার লোকজন জড়ো হল তারাই সৌম্যর বাবাকে নার্সিংহোমে নিয়ে গেল মন্দিরা তখন নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে

ফেরানো গেলনা মানুষটাকে সৌম্যর মা অকাতরে কেঁদেই যাচ্ছিলেন এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তির কোন উপায় যে নেই, তিনি বুঝে গিয়েছিলেনদুই বাড়ির সম্পর্ক আর স্বাভাবিক হয়নি পিকাই বড় হয়ে উঠছে ঠাকুমা আর বাবার সাহচর্যে মা তার জীবনে থেকেও নেই এলাকারই এক লক্কামার্কা ছেলের সঙ্গে মন্দিরাকে ঘোরাফেরা করতে, বাইকে চড়ে হুশ করে বেরিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছিল বহুদিন ধরেই সৌম্যর চেহারাতেও লজ্জার ছাপ বাবার মৃত্যুর জন্য মন্দিরাই দায়ী, মায়ের কাছে শুনে ইস্তক এক গভীর অপরাধবোধ ক্রমশঃ ওকে ম্রিয়মাণ করে তুলছিল

একদিন নারায়ণ ও অনন্ত একপ্রকার জোর করেই ওকে নিয়ে বসল কারণ এই মফস্বল শহরে ঢি ঢি পড়ে গিয়েছিল চ্যাটার্জ্জীবাড়ির পুত্রবধূর নোংরা কীর্তিকলাপে এমনও শোনা গেল নাগরিক মঞ্চ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নাকি এলাকার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সৌম্যকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে চলেছেসৌম্যর মায়ের কানেও কিছু কিছু কথা এসে পৌঁছত নীরবে অশ্রুপাত করা ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা তাঁর

কাউকে কিছুই করতে হলনা একদিন মাঝরাতে হঠাৎ মন্দিরা ওই জঘন্য ছেলেটার সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল সৌম্য হাজার বুঝিয়েও ওকে আটকাতে পারল না পিকাই কাঁদতে কাঁদতে মায়ের পিছনে ছুটেছিল উদ্ধত মন্দিরা ফিরেও তাকালো নাসঙ্গে নিয়ে গেল ওর সব গয়নাগাটি কিছু কাপড়চোপড় ভর্তি একটা ব্যাগ সেই রাতেই সৌম্য ফোন করে গিরিশ পার্কে জানালো ঘটনাটা মন্দিরার বৃদ্ধ মা সৌম্যর কাছে ক্ষমা চাইলেন। সৌম্যর মায়ের সঙ্গে কথা বলার মুখ নেই ওনার। সৌম্যর মা এই ঘটনার পর আর মাত্র সাত মাস বেঁচেছিলেন

সৌম্য পিকাইকে একাই বড় করে তুলছে মন্দিরার মা শুধু কাতর মিনতি জানিয়েছিলেন, পিকাইযের যেন মামারবাড়ি আসা-যাওয়াটা বন্ধ না হয়সৌম্য কথা রেখেছিল। দূর থেকে পিকাইকে ছেড়ে দিয়ে চলে যেত। পিকাই পড়াশোনায় আশ্চর্যরকম ভালো হয়েছে ক্লাস ওয়ান থেকে ফার্স্ট হয়ে আসা ছাত্রটি স্কুলের শিক্ষকদেরও যথেষ্ট প্রিয় সৌম্য প্রধানশিক্ষককে সব ঘটনা জানিয়ে অনুরোধ করেছিল সৌষ্ঠবকে ওর দুর্ভাগ্যের জন্য কোনরকম অতিরিক্ত সুবিধা যেন না দেওয়া হয় ও যা অর্জন করবে নিজের যোগ্যতাতেই করুক পিকাই খুব ভালো মার্কস নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হল সৌম্যকে একজন সবসময় থাকার লোক রাখতে হয়েছে সারাদিনের রান্না এবং সব কাজ সেরে রাত্রিবেলায় রমাদি চলে যান পিকাই উচ্চ মাধ্যমিকেও খুব ভালো ফল করেছিল মামারবাড়ি যাওয়াটা আস্তে আস্তে কমে আসছিল ওর

এর মধ্যে সব খুইয়ে মন্দিরা ফিরে এসেছিল দাদার কাছে। কি হাল হয়েছে ওর! বউদির তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও দাদা বোনকে ফেলে দিতে পারেনি অত্যন্ত অনাদরে, অবহেলায় জীবন কাটতে লাগল মন্দিরার

একটা ছবি মাথায় নিয়ে বড় হয়ে উঠেছিল পিকাইকাউকে বুঝতেই দিলনা যে এক বিস্ফোরণকামী আগ্নেয়গিরি বুকের ভেতর পুষে রেখেছে কাউকে জানতেও দিলনা এই গোপন একদিন না একদিন মারাত্মক অগ্নুৎপাত ঘটাবেইএকটা দেশি কুকুর পুষতে শুরু করল হঠাৎ সৌম্যও কিছু বলেনা এ আর বলার মত কি এমন ব্যাপার! পিকাই কুকুরটার সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাতো। একদিন সৌম্য খেয়াল করল কুকুরটার ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্য হয়ে গেছে এবং ততোধিক রাগ তার ডাক শুনলে ভয় করত পিকাই অফিসে থাকলে তাকে সবসময় বেঁধে রাখা হত

প্রতিদিন ভোরবেলা পিকাই তার কুকুর নিয়ে হাঁটতে বেরোয় একজন মাঝবয়সী লোক আছেন, তাঁকে দেখলেই কুকুরটা এমন হিংস্র হয়ে উঠতে চায়, পিকাই সঙ্গে সঙ্গে কুকুর নিয়ে ফিরে আসে ভদ্রলোক হাঁটতে পারেন না হাঁটলেই হাঁফ ধরে যায় তাঁর পিকাই ওনার সামনে পর্যন্ত গিয়ে আর যায়না

সেদিন সকালেও একই ঘটনা হঠাৎ কুকুরটা কিভাবে যেন পিকাইয়ের হাত ফস্কে ভদ্রলোকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। পিকাই গিয়ে আটকানোর আগেই ছিঁড়েখুঁড়েযেভাবে একটি বাচ্চাছেলের কাছ থেকে তার মাকে, একজন নির্বিবাদী লোকের কাছ থেকে তার স্ত্রীকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়েখুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল একটা গোটা সংসার যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ভদ্রলোক যখন মুমূর্ষুপ্রায়, পিকাই প্রচন্ড রেগে গিয়ে গলার চেন দিয়েই ফাঁস আটকে কুকুরটাকে মেরে ফেলল সবার সামনে মনে মনে বলল, “তোর আর প্রয়োজন নেই

উপস্থিত সবাই বলল, “এভাবে পোষা প্রাণীকে কেউ মেরে ফেলতে পারে!”

পারে সে যদি এমন এক নৃশংস মৃত্যুর কারণ হয়, অবশ্যই পারতে হয়

সৌম্যর কাছে এসে পিকাই বলল, “বাবা, আজ তারিখটা মনে আছে?

সৌম্যর তোবড়ানো গাল বেয়ে গড়িয়ে এল অশ্রুধারা পিকাই বাবার চোখের জল মুছিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “ছবিটা ছিঁড়ে ফেলতে দেরী হয়ে গেল, বাবা শেষপর্যন্ত পেরেছি

সেদিন কুকুর নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর সৌম্য বহুদিন পর পিকাইয়ের ঘরে গিয়ে দেখেছিল, একজন মানুষের অনেকগুলো ছবি ছড়িয়ে আছে মেঝেতে। সব ছবিগুলোকে কুকুরটা দাঁত নখ দিয়ে ছিঁড়ে কুটিকুটি করেছে এ কে? আর ছবিটারই বা এই দশা কেন!

অভিশপ্ত তারিখটা মনে করিয়ে পিকাইয়েরপেরেছিবলায় সৌম্য কেঁপে উঠল ভেতরে ভেতরে। বুঝতে পারল যে অনুভূতিটা ওর দেখানো উচিত ছিল, কিভাবে যেন তা পিকাইয়ের মধ্যে এসেছে।

মনে মনে পিকাই তখন বলছিল, “সন্তান হয়ে মাকে বড়জোর উপেক্ষা করতে পারি। এভাবে তো…”

_

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন