![]() |
কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৩৩ |
পায়ে শেকল বেঁধে বেঁধে
সেদিন আপিসে যাইনি। মদনদা বলল, “এলি না কেন?” আমি উত্তর দিলাম না। সেদিন রাইটার্সে হিলারি ক্লিনটন এসেছিল। ফলত লম্বা চেহারার গম্ভীর ইয়াংকি কম্যান্ডোগণ কালো কালো চশমা পরে সাতদিন ধরে ঘুরে ঘুরে ঠিক করল একটা গেটের কাছে গাড়িরা যাবে। শুধু একটা গেট দিয়ে সিএম সিএস র হিলারি ক্লিনটনের গাড়ি ঢুকবে। অন্য কোন গেট দিয়ে, অন্য কোন গাড়ি ঢুকবে না। অনেক দূরে হোমরাচোমরা আমির ও ওমরা অথবা মেয়েমদ্দ সব নেটিভের বাচ্চারা গাড়ি বাস মিনি থেকে নামবে। সারসার বাঁশ বাঁধা হবে আর সেই বাঁশের ফাঁক দিয়ে দিয়ে দিয়ে দিয়ে সব নেটিভের বাচ্চারা ঢুকবে। তখন তাদের পায়ে পরিয়ে দেওয়া হবে যাকে বলে জঞ্জির। একটা সিনেমা দেখেছিলাম জঞ্জির, সেখানে অমিতাভ জঞ্জির ভেঙেছিল আমরা হাততালি দিয়ে দিয়ে উঠেছিলাম গুরু গুরু গুরু। এটা সিনেমা ছিল না।ইয়াংকিরা সেদিন সবার পায়ে জঞ্জির পরিয়ে দিয়েছিল আর বাঁশের ফাঁক দিয়ে লোকে, নেটিভেরা সার দিয়ে হেঁটেছিল অনেকটা। তারা বুঝতে পারেনি যে পায়ে জঞ্জির পরানো আছে। আমি বুঝেছিলাম কি? না আমিও বুঝিনি, কিন্তু বাঁশের সারির ফাঁক দিয়ে দিয়ে ওভাবে পা ঘষে যেতে আমার ভালো লাগে না কোনকালে। ওই জন্য আমি কোনকালে ঠাকুর দেখতে যাই না। এককথায় বলা যায় সেই সব বাঁশেদের আমার মোটে ভালো লাগেনি, কিন্তু সেটা মদনদাকে বলিনি। বললে তার কোন মানেও দাঁড়াত না। কী বলতাম আমি? হ্যাঁ, বলতাম কি? বাঁশ আমার ভালো লাগে না? এটা বলা যায়? কেউ বলতে পারে? তখন কী করে বুঝব যে সার দিয়ে দিয়ে এর ওর পেছন পেছন যেতে যেতে জঞ্জির পরতে হয়। এটা জানার পর আমি বুঝতে পারলাম কেন যেদিন হিলারি ক্লিনটন এসেছিল সেদিন রাইটার্সে কোন নেটিভের বাচ্চার গাড়ি ভেড়ানোর অধিকার ছিল না শুধু সিএম মানে মুখ্যমন্ত্রী আর সিএস মানে মুখ্যসচিব ছাড়া। আমি কোনটাই ছিলাম না, তাই যাইনি। আর গেলে সেদিন আমার পায়ে নির্ঘাত জঞ্জির মানে শেকল পরানো থাকত। সেই শেকল বেঁধে বেঁধে আমাকেও সব নেটিভের বাচ্চার সঙ্গে পরের পর সার দিয়ে দিয়ে যেতে হতো আর অনবরত ওয়াজ হতো ঝন ঝন ঝন ঝন। সেটা ইয়াংকি কম্যান্ডোরা গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখত। তারা সবাই লম্বা লম্বা কালো কোট পরা আর চোখে কালো কালো চশমা। তারা ওয়াজ শুনতেই থাকে ঝন ঝন ঝন ঝন। নেটিভদের পায়ে পরানো শেকলের ওয়াজ।
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন