![]() |
কবিতার কালিমাটি ১৪৩ |
রাতপূরণের পরিকল্পনায়
অভাবের ময়লাহাতে ঈশ্বরের নিঃশ্বাস। দূরে ধঞ্চেবনে
আগুনের মহড়া। নিজেকে নিজের কাছে সম্পূর্ণ পরিচিত করে নেবার সুযোগ বেখেয়ালে হাতছাড়া।
অথচ চরিত্রে কোনও কালোবৃত্ত নেই। মহোৎসবে যজ্ঞভার সামলানোর অভিজ্ঞতাও হয়ে গেছে বহুবার।
তারপরেও কোনও এক অকুতোভয় কঞ্জুষের হাড়মাসের ভেতর বাঁশি হয়ে বাজার অভিলাষে বলরামের চেলা
হবার যে শখ তার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারিনি মহামান্য ওয়াদালতের কাছে। যে মানুষ না চেনার
ভান করে তাকিয়ে দেখ তার আশে বা পাশে নিশ্চয়
কোনও প্রেমিকা নিষিদ্ধ না সুসিদ্ধ তা জানার সফটওয়্যার নেই। তবে রাতপূরণের পরিকল্পনায়
কীভাবে পরির কল্পনা সাজিয়ে নিতে হয় তা জানার জন্যে হস্তশিল্প দরকার দিনফুরনের আগেই।
নইলে অযথা ভিড়ে মামুলি রেশনটুকু বন্ধ হয়ে ধুন্দুমার। তাই ঈশ্বরের নিঃশ্বাসই শেষ ভরসা।
আকাশে নক্ষত্রজল
নিঃশ্বাস পড়েনি রাতে, তবু তার কথাগুলি ওড়ে। দু’পাশের
ছিটকারি ফুলে সহসা সুরের ঝর্না। গা ভাসাতে পরির পরিযায়ী হাজিরা। অসামান্য বৈভব ফোটাতে
কত-না সওয়াল জবাব বয়ে গেছে প্রান্তরের মুক্তিপথ বেয়ে। কবেই বা কার চোখ আটকে গেছে স্থাপত্যের
খোঁজে। অনুসন্ধানপ্রয়াসী কিছু রূপবাহী তরুণীর দল ধূসর আকাশের নীচে রাশিফল লিখে রাখে
খেরোর খাতায়। বদনামে কী কীর্তন জমে! দধিমুখী দক্ষিণের দরজা ঘেঁষে আমি অসম্ভব কিছু আশা
নিয়ে বসি। আকাশে নক্ষত্রজল। তিরের ফলার দ্রুতি নিয়ে নেমে আসে শিলা। ঝঞ্ঝা নেই বৃষ্টি
নেই শিলা আসে আগে। বাকি সব তার পর। তুষারডিম্বের দিকে তাকিয়ে থাকে নয়াবসন্তের কিশলয়।
পৃথিবী যে কত কী ঘটায়! প্রকৃতি বৃদ্ধা হলে নব নব খেলাপাতি সাজায়। রাস্তা জুড়ে পড়ে থাকে
হরিণের ছুট।
ভুয়ো জন্মদিন
একটা ভুয়ো জন্মদিন আসে নীল আকাশ কাঁপিয়ে
মধ্যবর্তী চিহ্নের থেকেও বেশি ষড়যন্ত্রপ্রবণ
যার ঘাটে বহুকাল নৌকো বন্ধ তার একাদশী উতলা।
কখনও কাঁপছে বীর্যতারা কখনও চোখের ভুল
পথের সঞ্চয় না কী জমিয়ে ফেলার সব রাস্তাই বন্ধ।
মধুতে আছড়ে পড়ে যে লোভী বণিক
তার হাওয়ামহলের আসা যাওয়ারা প্রতীক্ষার মুখে
স্বীকারোক্তি লেখে, দৈনিকের অন্নজলে রহস্য ভেজানো।
ক্কচিৎ আসলের সঙ্গে জুড়ে যায় সুদ
অপরাহ্ণের পাখিরা শেখেনি মিথ্যে শ্রেণি বাঁধা
আমরা ক’জন মেঠো ঘরপোড়া গোরু
সামন্তশাসন বুঝে হাওয়ামোরগ এখনও চিনি না।
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন