কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১২৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১২৮

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫

অচিন্ত্য দাস

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৩৩


রূপকথা নয়

ছোটকুমার পক্ষীরাজে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন, নেমেই সোজা ছুটলেন রাজার কাছে। বললেন, “এক্ষুণি সৈন্যসামন্ত নিয়ে রাজ্যের উত্তর দিকে যেতে হবে। উত্তরের পাহাড়ে শত্রুসেনা জড়ো হচ্ছে দেখলাম।” এদিকে কদিন আগে নদীতীরে মৎস-কন্যারাও জেলেদের সাবধান করে বলে গেছে – শত্রু দেশ রণতরী সাজাচ্ছে। তারও আগে একদিন নগরকোটাল নকশিকাঁথার মাঠে কী জন্য যেন গিয়েছিলেন, সেখানে গাছের ওপর ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমীও বলছিল, “যুদ্ধ হবে, যুদ্ধ হবে”

আর বিলম্ব করা উচিত হবে না। রাজা সেনাপতিকে বললেন, “সেনা ছাউনিতে খবর দাও, যুদ্ধ হতে চলেছে, যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হবে।”

তারপর সে তো হৈহৈ পড়ে গেল। নগরের লোকেরা দেখল রাস্তা দিয়ে চলেছে বিরাট বাহিনী। প্রথমেই বাদকের দল – তারা বড় বড় শিঙা, কাড়া-নাকাড়া, ঝাঁজর, ঢাকঢোল সব বাজাতে বাজাতে যাচ্ছে। সে কি আওয়াজ, কান ফেটে যাবার যোগাড়। তারপর এল পায়ে হেঁটে চলা সেনারা। তাদের সবার হাতে এই বড় ঢাল আর লম্বা চকচকে তরোয়াল। সৈন্যরা একে অন্যের তরোয়ালে ঘা দিয়ে ঝনঝন ঝনঝন শব্দ তুলছে। তারা যেতে না যেতেই এসে পড়ল ঘোড়সওয়ারের দল। এক হাতে ঘোড়ার লাগাম আর অন্য হাতে বড় বড় শাঁখ। শাঁখে তারা ফুঁ দিচ্ছে আর ভো ভো গমগমে শব্দে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠছে। এরপর কারা আসছে জানো? আসছে পাচকের দল। সৈন্যরা যুদ্ধ করবে – তাদের  খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে তো! সকলেই নিজের নিজের অস্ত্র আর বাজনায় শোর তুলেছে, তাই ভুঁড়ি-ওয়ালা রাঁধুনিরাও ডেকচি, হাঁড়ি, কড়াইয়ের ওপর হাতা বা খুন্তি যা পারে তা দিয়ে ঝড়াং ঝড়াং করে তাল মিলিয়ে চলছে। তারপরেই তো আসছে তারা যাদের দেখে ভীষণ ভয় করে  – একচোখো খোক্ষসের পাল। কাঁসর ঘণ্টা বাজাতে বাজাতে তারা চলেছে সারি বেঁধে। ওরা বলেছে এবার থেকে তারা রাজার হয়েই যুদ্ধ করবে। এদের পেছনে চলেছে হাতীর দল, দামামার তালে তালে পা মিলিয়ে। গাছে আর একটাও পাখি নেই, এত হট্টোগোল দম-দমাদম আওয়াজে সব ভয় পেয়ে উড়ে গেছে।

হঠাৎ এ কী হলো? সব কিছু একেবারে চুপচাপ নিস্তব্ধ হয়ে গেল যে!

ওঃ, তাই বল, খোকা ঘুমিয়ে পড়েছে।

ইস্ – পক্ষীরাজ, মৎস্য-কন্যা, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, খোক্ষসদের মতো যুদ্ধ ব্যাপারটাও যদি রূপকথার গল্পমাত্র হতো!


4 কমেন্টস্: