কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১২৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১২৮

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫

প্রণব চক্রবর্তী

 

সমকালীন ছোটগল্প


অতৃপ্তি ও উদযাপন

চম্পকপুরের ভবসুন্দর ভালো টাকার ভাড়া পেয়ে দুপুরেই খেয়েদেয়ে বেরিয়ে পড়েছে  রূপতলার কদম্বহাটির দিকে। এক ট্রলি মাল নামিয়ে দিয়ে এলে আট'শো। পেশিটেশি ফুটে থাকা কর্মঠ ভবসুন্দর কালোয় চকচক করে। উঠতি বয়সী যুবক সকাল থেকে ট্রলি চালিয়ে রোজগার খারাপ করে না। যেহেতু ট্রলিচালক তাই তার নাম ভবসুন্দর থেকে ভবা হয়ে গেছে। ভবার কাজ যেন সদাই প্রস্তুত। ভাড়া নিয়ে তার কথাই শেষ কথা। টাকা পেলে "কোথায় যেতে হবে বলুন"। আপাতত রূপতলার কদম্বহাটি। যেতে যেতে সন্ধ্যে পার হয়েছে। মাল নামিয়ে টাকাপয়সা বুঝে হাইওয়ে ধরে লম্বা পথ একটু দম নিয়ে ফেরার পথে ব্যস্ত ভবা আবারও গতি বাড়িয়ে প্যাটেল মারতে থাকে। জাতীয় সড়কের আঁধার ফাটিয়ে মাঝে মাঝেই তীব্র আলো, দুচোখ ঝলসে দিয়ে সামনে পেছনে দৌড়ে যায় নানারকম গাড়ী। চোখটায় ধাঁধা লেগে যায়। ভবা বা ভবসুন্দর খুব স্থির মাথার ছেলে। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বা ছটফট সে পছন্দ করে না। পরিশ্রম বেশি হয়ে গেলে মাঝেমাঝে একটু দেশী খেয়ে নিজেকে চাঙ্গা করে নেয়। সে বাসনা আজকেও তার মাথায় আছে। ট্রলি নিয়ে এগোতে এগোতে প্রায় অর্ধেক পথ সে পার করে এসেছে। রাত প্রায় নটা বেজেছে। গরমের রাত। গায়ে একটা হাতকাটা গেঞ্জী, কোমর বাঁধা গামছায়, পরনে একটা গোটানো লুঙ্গি। এটাই তার বরাবরের পোষাক বা ইউনিফর্ম যাই বলা হোক। চম্পকপুর আর রূপতলার মাঝামাঝি সোহাগতলা। এই সোহাগতলার হাইওয়ে থেকে নেমে দুপাশের ধানজমির মধ্যে দিয়ে একফালি পথ ট্রলি যেতে পারে। মিনিট তিনেক টেনে গেলেই দেশী মদের একটা ভাঁটি। ভবার আজ মন টেনেছে নেশায়। দ্বিতীয় কিছু না ভেবে সোজা নেমে যায় ভাঁটির পথে। এখানে সে আগেও এসেছে। মালিক তাকে চেনে, আর চেনে চুমকুরি। চুমকুরি মালিকের কমবয়সি বউ। বেশি ভীড় থাকলে বাইরে আসে না। ভবসুন্দর কাউকেই বেশি ঘাটায় না। দুগ্লাস মদ চুপচাপ খেয়ে পয়সা মিটিয়ে বেরিয়ে যায়। এই আসা যাওয়ার ফাঁকেই দু-একবার দেখা হয়েছে চুমকুরির সঙ্গে। কথা বউটি নিজেই গায়ে পড়ে বলেছে তার সাথে। নামটা তাই জানা হয়ে গেছে। চুমকুরি বেশ চনমনে মেয়ে মানে মহিলা মানে বৌদি। এর আগে হঠাৎ করেই আড়ালে এসে বলে বসেছিল, "এত রাতে না ফিরে, থেকে যাও না আমাদের বাড়ি! ওই বুড়োটাতো মাল বেচে আর ফাঁকে ফাঁকেই খেতে থাকে, সে জন্যই তো দোকানে আমাকে থাকতে হয়। খেতে খেতে বেহুঁশ হয়ে গেলে ঘরে শুইয়ে এসে দোকান তো আমাকেই বন্ধ করতে হয়! তুমি থাকলে আমিও তোমার সঙ্গে একটু খেয়ে নেব। থেকে যাও না!" ভব এসব কথায় তেমন পাত্তা দেয় না। "পরে একদিন আসবো" বলে সে বার দুয়েক কেটে পড়েছে। কতজনকে যে এভাবে ঘরে ঢুকিয়েছে, কে জানে! ভবার ভালো লাগে না। বৌটা কম বয়েসী এবং বুক চোখ একেবারে টসটস করছে। তবে খুব ঢলঢলে, গায়ে পড়া। ভবা খাটে, খায়। আর কিছু তার মাথায় আসে না। মেয়েছেলে বলতে যখন বিয়ে হবে, তখন ভাববে। এখন তার মাথায় পরদিনের পরিশ্রমী নতুন দৌড়, নতুন কামাই।

কিন্তু আজ রোজগার ভালো হলেও মাল টেনে আনতে কলজে কয়লা হয়ে গিয়েছে। মনে মনে ঠিক করে নেয় আজ একপাত্র বেশিই মাল টানবে। দোকানের পাশে কিছুটা আবছা অন্ধকারে একগ্লাস মদ এনে ট্রলিতে বসেই খাচ্ছে বেশ রসিয়ে। খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ দেখে চুমকুরি আরেক গ্লাস মদ নিয়ে সোজা চলে এসছে ভবার কাছে। "এই নাও কালোমাণিক, তোমার তো একগ্লাসে হয় না, তাই আমিই নিয়ে এলাম। দোকান বন্ধ করবার সময় হয়ে গেছে, তাই এত তাড়া।"    কথাটা বলতে বলতে একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে চুমকুরি অদ্ভুত এক চাপা শব্দ করে হাসছে। "তোমাকে আজ আমি কিছুতেই ছাড়বনা। আজ আমার এখানে থাকতেই হবে তোমাকে। রাত্রি সাড়ে নটা বেজে গেছে। আমাদের ঝাঁপও এখন বন্ধ করে দেব। তুমি কিন্তু আজ আমার সঙ্গে থাকবে।" ভবসুন্দর কোনো কথা না বলে প্রথম গ্লাসটা শেষ করে চুমকুরির হাতে দিতে দিতে বলে, "থাকলে মন্দ হয় না, মদটা খেয়ে শরীরটা বেশ টান হয়ে উঠছে।" কথাটা বলতে যেটুকু সময়, চুমকুরি সরাসরি এসে বুক গিঁথে দেয় ভবর শরীরে। "তুমি থেকে যাও কালোমাণিক, তোমাকে অনেক মদ খাওয়াবো আজ, অনেক মজা দেব।" "আমাকে কালোমাণিক বলো কেন আমি জানি। আমি কালো বলে, তাই না! কিন্তু তুমি এমন করে বলো আমার খুব ভালো লাগে।" কথার ফাঁকে ভবসুন্দরের দ্বিতীয় গ্লাসটাও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আজ কি হলো কে জানে, ভবর ইচ্ছে করছে আরও মদ খেতে, নেশায় উড়তে ইচ্ছে করছে। চুমকুরির শরীরের ছোঁয়ায় ভবর মধ্যে কেমন কিলবিল করছে একটা বিশৃঙ্খলা। মেয়েটার হাতের আঙুল তার উরুটা কেমন চিপে ধরে আছে। "তোমাদের এখানে থাকতে বলছো, কিন্তু তোমার মালিক মাঝরাতে পাছায় লাথি মেরে তাড়িয়ে দেবে না তো?” "আজকে তুমি আমার কাছে শোবে" বলেই ভবর দুপায়ের ফাঁকের মধ্যে ঢুকে একেবারে সপাটে জড়িয়ে ধরলো ভবকে। দুহাতে গলাটা জড়িয়ে ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে আস্তে আস্তে বললো, "বুড়োকে জন্মের মতো ঘুম পারিয়ে দেব, যদি কিছু বলে" বলেই ছুটে গিয়ে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে তালা লাগিয়ে ফিরে এসে ভবকে বলে, তোমার গাড়ি উঠোনে তালা দিয়ে রেখে দাও। দোকান একেবারে ফাঁকা। সামনের বেঞ্চে বসে যে দুই বেহেড মাতাল এতক্ষণ বাওয়ালি করছিল তারাও এ ওর গা জড়াজড়ি করে টলতে টলতে ফিরে গেছে। এ গ্রামেরই বা আশপাশের হবে। গাড়িটা কায়দা কোরে তালা দিয়ে, পকেট থেকে ফোনটা বার কোরে ভব তার এলাকার এক বন্ধুকে ফোন কোরে জানিয়ে দেয় আজ রাতে সে ফিরছে না, খবরটা যেন বাড়িতে বুড়ি মাকে সে বলে দেয়, নইলে মা জেগে বসে থাকবে। বন্ধুর পাল্টা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বললো, ফিরে গিয়ে সব বলবে। লাইনটা তারপর কেটে দিয়ে, পাশের ঝোপঘেঁষে দাঁড়িয়ে পেচ্ছাপ করতে গিয়ে চুমকুরির শরীরের গন্ধটা তার আবার নাকে ভেসে এলো। পেচ্ছাপ কোরে লুঙ্গি নামিয়ে পেছন ফিরতেই দেখে পেছনে চুমকুরি দাঁড়িয়ে আছে। "যেটুকু মাল খেলে সবই তো বার করে দিলে", চুমকুরি ফিসফিসিয়ে বললো। "ধ্যাৎ, তাই হয় নাকি!" চুমকুরি ওর হাতটা টেনে নিয়ে বাড়ির পেছন দিককার এক দরজা দিয়ে ওকে বাড়িতে ঢুকিয়ে নিয়ে দরজাটায় তালা দিয়ে চাবিটা বেঁধে রাখলো তার আঁচলের খুঁটে। হঠাৎ ভবসুন্দরের মনে হলো সে যেন জেলখানায় বন্দী হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো কথা না বলে চুমকুরির হাতে হাত তুলে দিয়ে অন্ধকার বেয়ে কিছুটা যেতেই আলোর এক ঢাকাবারান্দা চোখে পড়লো তার। সেই বারান্দার কাছাকাছি আসতেই, আকস্মিক চুমকুরি ঘুরে দাঁড়িয়ে সারা শরীর দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধ’রে আবারও ভব-র কানে কানে বললো "বুড়োকে ঘুম পাড়ানোর ওষুধ দিয়ে দিয়েছি, সারারাত জাগবে না আর। এবার এই গোটা বাড়িটায় শুধু তুমি আর আমি। সারারাত আজ আমরা মদ খাবো আর মজা করবো।" ভবর হঠাৎ মনে পড়লো কাল সকাল আটটায় তার ভাড়া ধরা আছে, যদি পৌঁছতে না পারে, সাধুবাবুর কাছে কাঁচা খিস্তি খাবে, খচে গিয়ে তাকে দিয়ে যদি আর কাজ না করায়, কি হবে? কথাটা চুমকুরিকে বলতেই সে বললো, "আমার থেকে ছাড়িয়ে তোমায় ঠিক তুলে দেবো সময় মতো। চিন্তা কোরো না। আগে আমায় খুশি কোরে দাও, তোমার সব আমি ঠিক করে দেব।" চুমকুরির কথায় সে ভরসা পায়। সেও দুহাতে তীব্র আবেগে জড়িয়ে ধরে চুমকুরিকে যেন তার হাড়গোড় গুঁড়ো করে ফেলবে সে। চুমকুরি নিজেকে তাড়াতাড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে ভবর মুখের ওপর মুখ নিয়ে বলে, ডাকাত একটা। কথাটা বলেই নিজেকে ভবর থেকে ছাড়িয়ে ভবকে নিয়ে সোজা স্নানের ঘরে ঢুকিয়ে বলে, "চলো তোমাকে ভালো করে আমি আজ স্নান করিয়ে দেবো। দাঁড়াও দুপাত্র মদ নিয়ে আসি। আমিও খাবো। আমিও স্নান করব তোমার সাথে।" কথাটা শুনে ভবর মদের শরীর আজ যেন কিছুতেই সামলাতে পারছে না সে। যা হবার হোক। চুমকুরি নিজে থেকে সব দিতে চাইছে, সে কি করবে। ভাবতে ভাবতেই গেঞ্জীটা খুলে ফেলে সে হুঁকে ঝুলিয়ে দেয়। লুঙ্গিটাও যখন খুলতে যাচ্ছে হঠাৎ দেখে একটা গামছা জড়িয়ে চুমকুরি দুহাতে দুগ্লাস মদ নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে। স্নানঘরের অল্প আলোয় কি সুন্দর টাটকা ফুলের মতো লাগছে চুমকুরিকে। তার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে এক চুমুকেই খেয়ে নেয় সবটা মদ। সেটা দেখে চুমকুরিও তাই করে। গ্লাসদুটো বাইরে রেখে, চুমকুরি নিজেই ভবর লুঙ্গিটা খুলে বাইরে রেখে দেয়। কোনোকিছু না ভেবেই তলার জাঙ্গিয়াটা ভব নিজেই খুলে হুঁকে ঝোলায়। হঠাৎই তাদের উপর হামলে পড়ে তীব্র জলের ঝর্না। চুমকুরি জল খুলেছে। জলে ভেজা চুমকুরির শরীর থেকে ভব কেমন এক আদিম অধিকারে টেনে ছাড়িয়ে নেয় গামছা। আগুনখেকো চুমকুরির চোখের প্রশ্রয়ে, ভবর গোটা শরীর জুড়ে চড়বড় বেজে ওঠে ১০০ ঢাকের "ঝাউর গিজোর গিজ ঘিনাতা / গিজদা গিজোর গিজ ঘিনাতা"। আগুনের পাখনা মেলে জন্মদন্ড ফেটেফুটে উড়তে চাইছে আকাশ ফাটিয়ে। জলে জলাৎকার চুমকুরির ভেজা যুবতী শরীর। মাতাল রাত্রির এই জলঝর্নার স্নানঘর আড়াল করতে চাইছে অবৈধ কুয়াশা। ভবর তাজা শরীরের অবদমিত ক্ষুধা যেন কামড়ে খুবলে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলতে চাইছে বাধাহীন নগ্ন এই মেয়েছেলের শরীর। কিন্তু না, চুমকুরির অতৃপ্ত খিদে এভাবে স্নানঘরে রাত্রিকে ভাসাতে চায় না। নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় চতুর কৌশলে। শুকিয়ে নেয় নিজেকে, ভব যেহেতু ধর্ষক নয়, জোর করে না সেও। তাকেও মুছিয়ে লুঙ্গিতে জড়িয়ে দেয় চুমকুরি। তারপর খাবার টেবিলে বসে তারা মদ খায় আরও এক গ্লাস, রুটি খায় মাংসে চুবিয়ে। তারপর শোবার চৌকি। চুমকুরির বৃদ্ধ বরের থেকে কিছুটা আড়ালে এই অন্যঘর। অনেকটা অন্ধকারে। অনেকটা মদ আর মদালু মহিলার স্পর্শে ভবসুন্দরের শরীরে এক বিশৃঙ্খল উন্মত্ততা ক্রমেই তার স্বভাবজাত শান্ততা লুন্ঠনে নেমেছে। চুমকুরি কি পুরুষ ক্ষুধার এই তীব্রতারই অপেক্ষা করছে। ছুতোনাতায় চুমকুরি অহেতুক সময় যত নষ্ট করছে, ভবসুন্দরের মধ্যে বেড়ে যেতে থাকে চূড়ান্ত অবাধ্যতা। আস্তে আস্তে ভবর মনে এক খুনি প্রবৃত্তির জন্ম হচ্ছে যেন। মনে হচ্ছে মেয়েছেলেটাকে পাঁজাকোল কোরে তুলে চৌকিতে ছুঁড়ে ফেলে তার হাড়-মাংস ছিঁড়ে খুবলে ফালাফালা কোরে দেবে।

হঠাৎই বিষণ্ণ আলোর এক টিমটিমে কুপি হাতে পাতলা এক রাতপোষাকে নিজেকে ঢেকে চুমকুরি ঘরে ঢুকে দরোজায় আগল লাগায়, আলো নিভিয়ে দেয়, ছোট কুপিটা ঘরের এক কোণায় রেখে সোজা এসে চৌকিতে বসা ভবসুন্দরকে সপাটে জড়িয়ে ধরেই ভবর ঠোঁটে বিঁধিয়ে দেয় নিজের ঠোঁট দুটো। তার অংশত মাতাল শরীরটা যেন নিমেষেই সেই মহিলার তীব্রতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে ফেলে। চুমকুরি ভবকে বিছানায় চিৎ কোরে ফেলে যুবকের শ্রমক্লান্ত সুঠাম শরীরটাকে দখল নিয়ে নেয়। ভবসুন্দরের ইচ্ছুক অনিচ্ছুক যাবতীয় পেশীর ক্ষীপ্রতা, তার চামড়া মাংস হাড় যেন আজ এক ক্ষুধার্ত ও মাতাল মহিলার অবদমিত আগুনে জ্বলছে, পুড়ে যাচ্ছে, বিপরীত বিদ্ধতায় কেঁপে কেঁপে উঠছে বারবার। একসময় ক্লান্ত চুমকুরি আলগোছে খসে যায় ভবসুন্দরের শরীর থেকে। কিন্তু ভবসুন্দরের আগুন যে এখনও নেভেনি। পর্যাপ্ত দহনের শেষে ভবসুন্দর এক মাংসাশি নেকড়ে যেন আজ। চুমকুরিকে পুনর্বার টেনে নেয় ভবর দুহাত। ভবর দুঠোঁট, পরিশ্রমে পোড়া সুপুষ্ট থাবায় এবার প্রতিরোধহীন চুমকুরির শরীরটা নিয়ে উন্মত্ত নেশায় জন্তুজন্ম ফিরে পায় যেন। মেয়েমানুষের শরীরের প্রতিটি কম্পনে পুরুষের চকিত বল্লমে যেন  বিদ্ধতার ক্রোধ টের পায়। তারপর শুধুই ছটফট, তারপর অন্ধকার ঘন, অন্ধকারে ক্রমাগত পলকা এক কাঠের চৌকি ছাদ ফাটিয়ে ঝোড়ো তুফানের মত শোঁ শোঁ বোঁ বোঁ একজোড়া শরীর নিয়ে উড়ছে আকাশে, মেঘগুলো ফেটে যায় বৃষ্টি বৃষ্টি যেন ভেসে যাবে ছোট্ট পৃথিবী...                                         

 

                        

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন