গল্পের গ্রাউন্ড জিরো
লেখালেখির
সব মাধ্যমই খোলস ছাড়ে। সময়ের শীত তাদের ঘুম ভাঙিয়ে নতুন বসন্তের কাছে নিয়ে যায়।
বাংলা উপন্যাস নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। তার কোনও 'নিজস্ব' শরীর নেই। সেই বঙ্কিম কোন
কালে ওয়াল্টার স্কটের থেকে 'শরীর' ধার করেছিলেন, তার রোয়াব চলেছে একশো বছর। বহু
লোকই বেরোতে চেয়েছেন সেই অনশ্বর কায়া থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে 'মেড
ইন বেঙ্গল' নভেল বহুদিন মাঠে নামেনি। খোদ রবীন্দ্রনাথও কীভাবে 'উপন্যাস' লিখবেন
ভাবতে ভাবতে অনেক কিছুই লিখলেন। স্কট, তলস্তয়, রঁলা, ডিকেন্স. সবাই এলেন। কিন্তু
রবীন্দ্রনাথ আর এলেন না। তাঁর পরে যখন যেমন। কখনও ফরাসি, কখনও রুশ। শেষে তো লাতিন
হিস্পানি রাজারা বেনামে বাংলায় শাসন করতে এসে গেলেন। ওই যা বললুম, ‘বাংলা’-কায়া আর
পেলো না আমাদের 'উপন্যাস'।
বাংলার গল্পের শরীর যে 'বাঙালি' হতেই হবে, তার জন্য কোনও চাপ অবশ্যই নেই। অবশ্য ঘটনা এতোটা সরলরৈখিকও নয় হয়তো। ব্যতিক্রম আছে। কিন্তু মূল স্রোতে তার
উপস্থিতি উপেক্ষণীয় বলা যায়। একটা আরণ্যক, ঢোঁড়াই. হাঁসুলি বাঁক, পদ্মানদীর মাঝি বা তিস্তাপার বা আরও কিছু কীর্তি ব্যতিক্রম হয়েই থেকে যায়।
প্রথম থেকেই বাংলায় উপন্যাস লেখার ধরনটি ছিলো কথকতা শৈলীর অনুসারী। এদেশে গল্প শোনানোর পদ্ধতিটি তৈরি হয়েছিলো কথক ঠাকুরের বর্ণনা ভিত্তি করে। বহুদিন পর্যন্ত বাংলা ভাষায় কথক লেখকদের প্রতিপত্তি ছিলো। সাধারণ বাঙালি পাঠকদের সাইকি ছিলো কথকতা নির্ভর। বাংলায় সফল লিখিয়েদের কথকঠাকুর হতে হতো। যেমন ধরা যাক, বিমল মিত্র। ভাষার উপর দারুণ দখল। প্লটের পর প্লট নিপুণভাবে গেঁথে যান। চরিত্রদের খেলাতে পারেন। অতো অতো লিখতে পারেন। আর রয়েছে সহজাত গল্প বাঁধার কৌশল। কিন্তু বাংলায় 'উপন্যাস' নামক নির্মাণটি, যেটা সম্ভবত বিলিতি নভেল থেকে ধার করা, তার ট্রিটমেন্ট য়ুরোপে বেঁধে দেওয়া মানচিত্র থেকে একেবারে আলাদা। উত্তম পুরুষেও যদি লেখা হয় তবু লেখকের যে নৈর্ব্যক্তিকতা য়ুরোপিয় নভেল-এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ, সেটা বাংলার লেখকরা অনেক সময়েই এড়িয়ে চলতেন। হয়তো এর অন্যতম কারণ বাঙালি পাঠকদের প্রিয় অভ্যাস লেখককে মনে রেখে পড়তে বসা। লেখকের সঙ্গে এক ব্যক্তিগত সম্পর্কের আবেগ তাঁদের মনে কাজ করে। তা জানেন বলেই লেখক নৈর্ব্যক্তিক হতে দ্বিধা বোধ করেন।অন্যদিকে ভেবে দেখতে গেলে বিমল মিত্র কি উপন্যাসকার হিসেবে 'ব্যর্থ'? তিনি কি একজন উত্তম 'লেখক' ন'ন? পাঠকমহলে সফলতার ভিত্তিতে তিনি অবশ্যই একজন 'ট্রেন্ডসেটার'। তাঁর লোকপ্রিয়তা অসাধারণ। কারণ, বাঙালির প্রধান চাহিদা, 'গল্প ভালো, আবার বলো'-র শর্ত তিনি পুরো মাত্রায় পূর্ণ করেন। সত্যি কথা বলতে কী শরৎচন্দ্রের পর আর কোনও বাংলা লেখকের এমত সর্বভারতীয় পরিচিতি ও লোকপ্রিয়তা দেখা যায় না। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও বাংলার বাইরে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। তবে তা আরও দু-তিন দশক পরে।
বাঙালি লেখকরা পূর্বসূরিদের থেকে একটা সূত্র পেয়ে যান। গত একশো বছরের অধিককাল তাঁরা গল্প আর ঘটনার ঘনঘটা সমৃদ্ধ অপার-অনন্ত পরিমাণ 'উপন্যাস' রচনা করে এসেছেন। এখনও লিখছেন। এ জাতীয় রচনার মধ্যে শারদীয়া 'প্রসাদ' ধরনের এক মলাটের মধ্যে বারোটি 'উপন্যাস' অথবা চোদ্দোটি 'উপন্যাসোপম' বড়ো গল্প ইত্যাদি লেখালেখি শতকরা পঁচানব্বই ভাগ জায়গা দখল করে নেবে। আট-দশ ফর্মা এলোমেলো 'মশলাদার' 'উপন্যাস' প্রকাশকরা নিয়মিত ছেপে যেতেন। এখনও সেই ধারায় বিরতি নেই। নানা ধরনের গদ্য, 'উপন্যাস' নাম নিয়ে বাংলায় লেখা হয়ে গেছে। একটা লেখা মনে পড়ে। 'অরণ্যের দিনরাত্রি'। লেখাটার 'জঁর'টা যে কী, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। কিন্তু ছবি করার পর মানিকবাবুর হাতে পড়ে সেই লেখার ভোল পাল্টে গেলো। ঐ ছবিটাকে কি 'সাহিত্যের চলচ্চিত্রায়ণ' বলা যাবে? জানিনা। 'সাহিত্যমূল্যে' লেখাটি ঠিক কোথায় থাকবে, এতোদিন পরেও তা স্পষ্ট নয়। সুনীলবাবু পছন্দ করেননি মানিকবাবুর কাজটি। তাঁর মনে হয়েছিলো লিখনটি ছবির ভাষায় যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ভাবে অনুদিত হয়নি। তিনি তো অবশ্যই বুঝতেন সিনেমা, মানে সিনেমা। সাহিত্য নয়। দুয়ের ভাষায় মেরুপ্রমাণ দূরত্ব রয়েছে। তবু। অন্য কোনও শর্ত নয়, শুধু মাত্র সাহিত্যমূল্যের বিচারে বাংলা উপন্যাসের মান কতোটা আন্তর্জাতিক সম্মানের দাবিদার হতে পারে, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে বাংলা ছোটগল্পের ক্ষেত্রে হিসেবটা দেখি একেবারে আলাদা। ভগীরথ রবীন্দ্রনাথের ফুল্ল, তীব্র উপস্থিতি আর দিশানির্দেশে দেড়শো বছর ধরে বাংলা ছোটগল্প সব আন্তর্জাতিক প্রতিমানকে অনায়াসে স্পর্শ করতে পেরেছে। কারণ গুরুর আত্মবিশ্বাস ছিলো অপার। তিনি পূর্বসূরি ও সমকালীন আন্তর্জাতিক জ্যোতিষ্কদল, যেমন, মপাসাঁ, শেকভ, শিলার, দস্তয়ভস্কি-র উজ্জ্বল প্রতিমাগুলি দেখে ধাঁধিয়ে যাননি। বাংলা ছোটগল্পের নিজের শরীর তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সফলও হয়েছিলেন। দীন পাঠক হিসেবে বাংলা ভাষায় আখ্যান রচনার সেরা মাধ্যম হিসেবে আমার বাংলা ছোটগল্পের কথাই মনে পড়ে। এদিকে ঘটনা হলো সাধারণ বাঙালি পাঠক ছোটোগল্পের প্রতি ততোটা অনুগত ন'ন। পাঠক হিসেবে তাঁদের শ্রম-ইচ্ছুক রসগ্রাহিতা প্রবল নয়। তাঁদের দেখা যায় 'দীর্ঘতর' আখ্যান পড়তে অধিক আগ্রহী। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের জন্য ক্রমাগত জোগান এসেছে শব্দসংখ্যায় বৃহৎ মাপের, অথচ কনটেন্ট বিচারে 'ছোটগল্প' গোত্রীয় রচনা সম্ভারের। বাজারের চাপে তারা নাম পেয়ে গেছে উপন্যাসের। যাঁদের থেকে মাধ্যমটি আমরা ধার করেছিলুম, অর্থাৎ য়ুরোপিয় গুরু'দের 'নভেল' নামক ক্যানভাসের ব্যাপ্তি আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য থাকেনি। সেই সাফল্য অধরাই থেকে গিয়েছিলো।
রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা গদ্যে প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী কলম অনেক এসেছে। আমাদের সৌভাগ্য, তাঁরা সবাই উপন্যাসের সঙ্গে সমানে ছোটগল্পও লিখে গেছেন। তাঁদের কাজ আমাদের ভাষার সম্পদ। কোনও লেখকেরই সব লেখা উৎরায়না। অন্যপক্ষে বলা যায়, যদি পাঠকদের প্রতিক্রিয়া থেকে বিচার করতে হয়, তবে গুণমানের বিচারে 'শ্রেষ্ঠতম' লেখকেরও 'বেঁচে থাকা' লেখার সংখ্যা শেষ পর্যন্ত খুব বেশি থাকে না । প্রশ্নটা সেখানেই। উপন্যাস পাঠের সময় 'পথ ঢেকে শুয়ে থাকা' সরলরৈখিক, একমুখী নির্মাণপ্রবাহ গুলি সাধারণ পাঠক এড়িয়ে যেতে চান না। হয়তো স্বস্তি পান না। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া উনিশ শতকীয় য়ুরোপীয় নকশার মরা নদীর সোঁতা তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। স্বস্তির রাজপথ এড়িয়ে যাওয়া সন্ধানী লেখাগুলিকে ভবিষ্যতের পণ্ডিতরা 'সমান্তরাল', মূলস্রোত', 'ব্যতিক্রমী' জাতীয় তকমা এঁটে দিতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু পাঠক সাধারণের আগ্রহে তার জন্য তার বিশেষ তারতম্য দেখা যায় না।
বাংলাসাহিত্য সমালোচনার আদিপুরুষ বঙ্কিম বলেছিলেন, যে কোনও লেখকের বিচার তাঁর কতিপয় শ্রেষ্ঠ রচনার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।এটা এখনও সর্বতোভাবে প্রযোজ্য। যেমন অনেক লেখক একটি ছোটোগল্প লিখেই রাজা। নাম করা যায় 'অশ্বমেধের ঘোড়া'। অথবা অনেক লেখার পরেও কয়েকজন অগ্রণী গল্পশিল্পী কয়েকটিমাত্র সৃষ্টির সূত্রেই লোকমান্য হয়ে ওঠেন। যেমন প্রেমেন্দ্র মিত্র বা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। ফর্ম ও কনটেন্টের বিচারে তাঁরা নিজের সময়ে রাজা ছিলেন। কিন্তু সময়ের পলিমাটির ঊর্ধে কয়েকটি মাত্র রচনাই মাথা তুলে থাকে। এই মূহুর্তে শুধু সেই গুলো পড়লেই একালের ধৈর্যহীন, অবসরহীন পাঠক এই সব লেখকের পরিচয় পেয়ে যাবেন। যেমন, দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখিত একটিমাত্র গল্প। কব্জির জোরে সবাইকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন একজন, এককালে। হ্যাঁ, সমরেশ বসু। আজকের পাঠকদের জন্য লিস্টি করতে বসলে নির্মোহভাবে আমি বড়ো জোর পনেরোটি গল্প বেছে নিতে পারি তাঁর। আবার কিছু শিল্পীর সব খণ্ডগল্পই যেন একটি লেখার অংশ। যেমন অমিয়ভূষণ বা নরেন্দ্রনাথ। বাঙালির এই খণ্ডগল্পপ্রীতির কয়েকটি নিজস্ব কারণ রয়েছে। প্রমথ বিশী, সুকুমার সেন বা শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রমুখ দিকপালদের এ বিষয়ে নানা মত রয়েছে। রয়েছে পরবর্তীকালের আলোচকদেরও। আবার একালের পাঠকদের পাঠরীতির সঙ্গে পরিচিত এমন সমালোচকরা হয়তো ভিন্নমতও পোষণ করতে পারেন।
বাংলাদেশের একজন বিদিত সমালোচক বিভূতিভূষণকে 'দরিদ্র ব্রাহ্মণের কথাকার' বলেছিলেন। আবার শীর্ষেন্দু'র অন্ধ ‘গুরুভক্তি’ বা 'পাল্টিঘর' জাতীয় পশ্চাদমুখী প্রবণতাগুলিকে এনক্যাশ করার মোহ একালের কিছু পাঠকদের মধ্যে বেশ প্রবল। উভয়ক্ষেত্রেই লেখককে টার্গেট করা হচ্ছে, লেখাকে নয়। প্রায় দেড়শো বছর আগে বঙ্কিম যে নির্দেশটি দিয়ে গিয়েছিলেন, আমরা সে ব্যাপারটা এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। অন্য সমস্যা রয়েছে কাল্ট গল্পকারদের জন্য। যাঁরা সচেষ্টভাবে, সজ্ঞানে নিজস্ব কাল্টপাঠকদের বৃত্ত তৈরি করেন। তাঁদের লেখায় চিরাচরিত ফর্ম ও কন্টেন্টের ভারসাম্য নিয়ে সমস্যা থাকে। প্রতিবাদী, ব্যতিক্রমী মিথ বা ক্রোধী হয়ে ওঠার দুর্মর আকর্ষণ কাজ করে তাঁদের মধ্যে। ক্রমশঃ নিজস্ব ইমেজের ইস্পাতবাঁধনে বাঁধা পড়ে যান। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার উদ্যমটি হারিয়ে যায় ধীরে ধীরে। এই গোত্রে নাম নেওয়া যায় , কমলকুমার বা নবারুণ। নথিবদ্ধ রাখি, উপরে যতোজন লেখকের নাম নিয়েছি, তাঁদের বেশ কিছু লেখা আমাকে দীর্ঘকাল ধরে পাঠক হিসেবে ক্রমাগত ট্রিগার করে। কেন বহুনন্দিত 'নিম অন্নপূর্ণা'র থেকে 'মতিলাল পাদ্রী' আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে, সেটা পাঠক হিসেবে আমার অধিকার । লেখক বিবেচ্য ন'ন। মাত্র সেই 'লেখাটিরই অগ্রাধিকার রয়ে যায় । অধুনা বাংলা ছোটোগল্পের মাঠে বহু তরুণতর ওস্তাদ খেলোয়াড় নিজেদের মেধা ও কৌশলের জোরে নতুনতর নিরিখ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। খেদভরে লক্ষ করি, একান্ত নিবেদিত কিছু পাঠকমণ্ডলী ব্যতিরেকে তাঁদের নির্মাণগুলি উপযুক্ত মর্যাদা পাচ্ছে না।
লেখক ধরে ধরে বিচারের মধ্যে একটা বীরপূজার মাত্রা চলে আসে। অথবা অন্যপক্ষে মূর্তিভাঙার প্ররোচনা। দুইই 'প্রশ্নহীন' আনুগত্যকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠে। নিমীলিত আঁখি ভজনা বা সরাসরি নস্যাৎ করার স্ট্রিট-স্মার্টনেস, দুটো'ই অদীক্ষিত পাঠকের মৌরসিপট্টা। অবশ্য একালে 'অদীক্ষিত' শব্দটা হয়তো রাজনৈতিকভাবে ভুল। কারণ নিজস্ব বোধবুদ্ধির পশরা নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সম্ভ্রমবোধকে অনেকে 'দুর্বলতা' মনে করে থাকেন। তাঁদের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। গণতন্ত্রের চাপে তাঁদের কণ্ঠস্বর গভীর বোধের মৃদু, কখনও বা মৌন স্বরকে ছাপিয়ে যায়। অনেকে 'মূলস্রোত' আখ্যানের গতানুগতিকতায় স্বচ্ছন্দ থাকছেন। আবার অন্য কেউ ভিন্ন মেরুর 'ব্যতিক্রমী' প্রয়াসগুলিকে নস্যাৎ করে দিতে চাইছেন। বহু পাঠক অভ্যাসবশেই ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য়ের বাইরের রচনাগুলির প্রতি নির্দয় হতে চাইছেন। বইমেলায় ভিড় দেখে বিচার করতে চাইলে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। সংখ্যার হিসেবে সমঝদার নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছেন না। সবটাই টিভি সিরিয়ালের দোষ নয়। লেখক-পাঠক উভয়েই এর জন্য দায়ী। লেখকভিত্তিক পাঠচর্চার প্রধান সমস্যা 'লেখা'র প্রতি বিশ্বস্ততা কমে যায় । অনেকেই ভুলে যান 'লেখা'র হয়ে ওঠার সঙ্গে সব সময় লেখকের 'হয়ে ওঠা' সম্ভব হয় না।
নানা স্ববিরোধের শিকার হয়েও এবম্বিধ নানা কারণে বাংলা ছোটগল্প বাংলা কথাসাহিত্যের সব থেকে প্রখর ও জীবন্ত শাখা হয়ে উঠেছে। বিচ্ছিন্ন, খণ্ডিতভাবে বিচার করে তার প্রতি সুবিচার করা যায়না। আগামীর পাঠক কী ভাবছেন, আমরা সাগ্রহে তার প্রতীক্ষায় থাকবো।
পড়লাম। বাংলা উপন্যাসের ( যদিও আমি সেরকম ব্যাপক ভাবে পাঠ করে উঠতে পারিনি ) ব্যাপারে আমি কিছুটা একমত। হ্যাঁ, ছোটগল্পে নতুন ধারার খোঁজ মেলে বৈকি তবে ইদানীং প্রতিষ্টিত পত্র পত্রিকা আমাকে বেশ হতাশ করেছে।
উত্তরমুছুন"গল্প কী গল্প কেন " এই নামে একটা নিবন্ধ লিখলাম, প্রকাশিত হলে লিংক পাঠাবো।
'প্রতিষ্ঠিত' মানে কি ডালপালা মেলা 'বাজার'-এর ফসল? সেতো হতাশ করবেই... :-)
মুছুনবিরাট একটি মন্তব্য লিখলাম, সেটি হারিয়ে গেল। এবার সংক্ষেপে লিখি। অভিজ্ঞতা বলে, ভালো লেখার পাঠক স্বল্প হলেও পাওয়া যায়। তারা দীক্ষিত। যতই গণতন্ত্রে সংখ্যাধিক্যের কারণে তাঁদের কন্ঠ চাপা পড়ার উপক্রম হোক না কেন!
উত্তরমুছুনএকটি ব্যাপার আমাকে অবাক করে।কেন ছাপার অক্ষরে নিজের নাম ও লেখা দেখবার এই ব্যাকুলতা? এটিও পাঠক তৈরির পক্ষে অন্তরায়।
প্রতিভা সরকার।
উত্তম রচনার যে দীক্ষিত পাঠকের অভাব হয় না, তার প্রমাণ আপনার সৃষ্টিগুলি। খেদ একটিই। বাংলা পাঠকদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা অপার। বাঙালি পাঠকের মেধার ইতিহাস উজ্জ্বল। আমি তাঁদের অভিযুক্ত করি না। তাঁরা 'সাত নকলে আসল খাস্তা'র শিকার হয়ে পড়ছেন দিন দিন। ছাপাখানার সহজলভ্যতা হয়তো খানিকটা এর জন্য দায়ী।
মুছুনSmritikana Samanta
উত্তরমুছুনখুব মন দিয়ে লেখাটি পড়লাম। ওখানেই লিখতে গেলাম, কিন্তু কেন জানি আমি ওই ব্লগে মন্তব্য পোস্ট করতে পারছিনা কিছুতেই।
সাহিত্যপাঠ ও পাঠকের গতিপ্রকৃতির বড় বৈদগ্ধপূর্ণ অথচ সুললিত এক আলোচনায় সমৃদ্ধ হয়েছি প্রতিবারের মতোই..