![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৩ |
সেই নদী গাঙঝিরি
সে এক গাঙঝিরি নদী- নিকটে নির্জতা
ঝড়ে - বিষণ্ণতা ওড়ে -
শুভ্র সোনালি বরণ।
এ নদী কবিতার মতো ক'রে
ছন্দপতনের চয়োনিকা গাথা গান
যাবতীয় মুদ্রার
চুপকথা বলে।
সে কথা বেদনার সে কথা রমণীর-
বিবসনা মুখ!
নরকের অবিশ্বাসী অগ্নির মতো
আগুন লাগা প্রেম?
শূন্যতায় জড়ানো বাঁধন- রুখু চুল
অভিমানী খেয়া শুকানো প্লাবন?-
এ কথার মানে হলো
কথার আড়ালে থাকা জলের শ্রাবন।
আমি সারাদিন
রাতভর
থেকেছি দাঁড়িয়ে
মুগ্ধতায় সাজানো রূপসীর কাছে
যে রূপসী হৃদয়ের রূপ থেকে
খুব দূরে থাকে
আঁকাবাঁকা চলে।
মিছিলে অদম্য চেতনায় ঘরহীন যারা মানুষের মুক্তি
চেয়ে যারা কয়েদি চিরদিন
এ রূপসী তাহাদের কাছ থেকে,
থেকে গেছে দূর বহুদূরে
যেখানে জীবনের উল্লাস
ঠুনকো নিরাপদ রাজা আর রাণীর প্রাসাদ
এ রূপসী
চেয়েছে কায়েমি জৌলুস
বিত্ত বৈভব মিথ্যে জন্মান্তর
প্রতিটি ছায়ার মধ্যে নিজেকেই
শাণিত রাখা যেনো ঝলসে ওঠে
রূপে তার কামুক কারো চোখ
হোক না তা দাসত্বের শর্ত মেনে নিয়ে
নগ্ন উদযাপন অন্য কোনো রাত!
কিংবা করুণার ত্রাস
একদিন ফুরাবে জৌলুস
ফুরাবে বিত্ত প্রতিভাস
জেগে উঠবে তুমুল দীর্ঘশ্বাস
শুকিয়ে যাবে প্লাবনভরাযৌবন
ফাল্গুনী অধিবাস।
তবু সেই নদী গাঙঝিরি
বইবে জোছনা রাতে দূরন্ত বাঘের মতো চৌকশ ঢঙে
দেখে নেবে জীর্ণ আত্মার
পড়ন্ত কারুকাজ
দেখে নেবে মিছিলের সুখ।
একদিন রূপসী কাঁদবে খুব, যে রূপসী ঠুনকো ক্ষমতা
বস্তুত খুনের অসুখ
এ নদী সাক্ষী র'বে ভেঙে পড়া সভ্যতার রাজ্যপাট প্রাসাদের
নষ্ট নষ্ট আর
নষ্টা রাণীদের - তীর ধরে
যেতে যেতে বয়ে!
মনে পড়ে, সুবিনয়
কথা ছিলো মেলা থেকে একপাতা টিপ
একগোছা চুড়ি কিনে দিবে
কাঠফাটা রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে
আমার জন্য অপেক্ষা করবে চিরকাল
আমাকে বউ সাজাবে নিজ হাতে
কথা ছিলো একদিন আমাদের ঘর হবে
সংসার হবে
ফুটফুটে জোছনা মাখা সোনামনি হবে
সেই ঘর সেই সংসার নাকি তোমার
এক জীবনের আরাধনা
সুবিনয়
মনে পড়ে কথা দিয়ে কথা না রাখার
সেইসব কথাগুলি?
গল্প
একটা গল্পের কথা বলো
যে গল্পে তুমি আমায় ছেড়ে যাবে বহুদূর
একটা প্রেমের কথা বলো
যে প্রেমে তুমি আমায় ভালোবাসবে না কোনোদিন
একটা সুখের কথা বলো
যে-সুখ দুঃখের পরাগে হবে প্রেগন্যান্ট
একটা তুমি'র কথা বলো
যে তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করে যাবে
ভুমিকম্পের মতো
একটা আমি'র কথা বলো
যে আমি কবিতা আর তোমার মধ্যে
তফাৎ বুঝিনি কোনো
একটা কবিতার কথা বলো
যেখানে লেখা আছে-
তুমি আমার সর্বনাশ হবে
অথৈ গভীর!
পুষ্পিত রাধিকা ও এক ধর্মহীন বালক
তারপর আমি লিখতে শুরু করি - যান্ত্রিক জটাজালে পুড়ে গেছে আমাদের অতিন্দ্রীয় মেঘ। তবুও চলছে একটানা বৃষ্টির ডামাডোল। বেদনা বিদেয় হল তবু কেঁদেই চলেছে কে এক পড়শি বাড়ির পারুল যার চোখ দেখে মনে হয়েছিলো পুষ্পিত রাধিকা কিংবা রাধা যাকে তার সুজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায় তাবৎ প্রেমিকেরা যাদের মুখ আর মুখোশের কাছে হেরে গেছে প্রকৃত প্রেম - ভালোবাসা সেইহেতু আপাতত হে বিভাবরি তোমার কথা বলি - ভরা মরশুমে ভরা যমুনার মতো তোমার যৌবন আজ কোথায় দাঁড়াবে বলো কেননা এই যে তল্লাট যে-তল্লাটে প্রতিজন বিশেষ অঙ্গের ঐতিহাসিক প্রথাচারে লেপ্টে রেখেছিলো দাসপ্রথা যেখানে দাসীর কৌমার্যের দোহাই দিয়ে ক্রীতদাসকে খোজা করে রাখাই ছিলো রাজাদের প্রাত্যহিকী কামনা বাসনার হো হো অট্টহাসির গোপন সারগাম আর সেই রাণীগণ যারা ছিলো পুতুলের মতো অদ্ভুত যেনো শোকেসে সাজিয়ে রাখা প্লাস্টিক মানবী কোনো- এসব ইতিহাস পুনরায় বলে আমি করছি কি রাষ্ট্রদ্রোহীতার পুরাতন পাপ! পাপ - বস্তুত যে শব্দটি রাষ্ট্রযন্ত্রের মতন শোষণ যন্ত্র এক, তাই আমি চিরদিন থেকে গেছি এ সকল রাষ্ট্রায়াত্ব-শব্দের বিপরীতে যেভাবে আমাকে থেকে যেতে হয়েছিলো পুষ্পিত রাধিকার কাছে দ্বিতীয় পুরুষের যন্ত্রণা মেনে নিয়ে হাতে - 'বুকে' উচ্চারণ না করে হাতের প্রসংগ এলো যেহেতু এই হাতে হাত রেখে রাধিকা কেঁদেছিলো খুব আর আমি তার কান্না ধুতে গিয়ে দেখি - তার চোখে ছিলো কুমিরের জল - একদিন তারপর বহুদিন চলে গেলে রাধিকা - সে-বুঝে নিতে পেরেছিলো এমতো জল জলসায় আমি মোটেই প্রাসঙ্গিক কোনো পটভুমি নই। হে রাবণ হে সীতা হে রাম আর হনুমান তোমরাই বলো - আমি বাল্মিকী কিংবা রামায়ণ বহির্ভুত বলে আমাকে কেবলি থেকে যেতে হবে নমঃ - শুদ্রের ভূমিকায় বুঝি চিরদিন! জেনে নাও তবে -জগতের তাবৎ ব্রাহ্মণ্য প্রথা ভেঙে দিয়ে আমি কেবলি ধর্মহীন বালক কিংবা মানুষ হতে চেয়েছিলাম!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন