![]() |
| সমকালীন ছোটগল্প |
তুলো ও তণ্ডুল
(১)
অনুরাগের নাকে হেঁচকি আছে। মাফ করবেন হাঁচি আছে। বহুক্ষণ সুরসুর করছে। বার কয় গোঁত্তা মারলেও মালটা ল্যাণ্ড করেনি এখনও। বাধ্যত সে কিছুটা অস্থির। আর এই অবকাশে দোলায়মান ডুলুবৌদি হিহি হিহি করে হাসতে হাসতে তার সুসুঘরে দৌড়। অনুরাগ মেরেছে। একটা, দুটো এবং তিনটে ঘুরঘুর করছে। বার দুই খাবি খাওয়ালো কিন্তু নামলো না। ডুলুবৌদি নামিয়ে ঘরে এসেই একটা বোমা ফাটালো। তুমি একটা জানোয়ার। অনুরাগ ভ্যাবাচ্যাকা। তার দিকেই বৌদি তাকিয়ে আছে, সুতরাং তাকেই তো বলছে! আবারও ফাটলো -- তুমি একটা জ্যান্ত পিশাচ। অনুরাগ এবার ধীরে ধীরে দম নিয়ে বললো, আমি কী করলাম! আমাকে চোঙাচ্ছো কেন?
-- তোমার বাড়ি,
তোমার বাথরুম আর পাড়ার নেড়ি কুত্তাটাকে গালি দিতে যাবো?
-- কী হয়েছে
আগে বলবে তো?
-- আমাকে আবার
স্ক্রিপ্ট শুঁকে ডায়লগ মারতে হবে? গোটা বাথরুম জুড়ে এখানে সেখানে ব্যবহৃত ন্যাপকিন,
ছেঁড়া বুকের ঢাকনি... ছিঃ, এর মধ্যে আমাকে যেতে দিলে? জানোয়ার ছাড়া এরকম কেউ পারে!
অনুরাগ কিছুটা ধাতস্থ হয়ে নিজেকে উদ্ধার করে বলে, তুমি তো আমার সবকিছুই জানো, লোম থেকে লেংটি -- সব। তুমি তো এটাও জানো আলুলিকা মাত্র পাঁচদিন হলো আমার নাকে মাখন মাখিয়ে ভোলগার সঙ্গে ভেগেছে। আমি কি মাত্র পাঁচদিনে এতকিছু গুছিয়ে উঠতে পারি! এখনও দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ঢুকে ভুল করে আলু-আলু করে ডেকে উঠছি, বাথরুম তো বহুদূর। সময় লাগবে।
-- প্রথমত তোমার
বৌয়ের নামটা ছিলো আলোলিকা, আলুলিকা নয়। দ্বিতীয়ত, তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তার প্রেমে
তুমি একেবারে নাকুবুকু হয়েছিলে। জানোয়ার একটা। আমাকে এতদিন বৌদি থেকে মাগী বানিয়ে দিলো
কে, রাস্তার কুকুর, নাকি এই ডোমেস্টিক কেষ্ট! খিস্তি দিতে ইচ্ছে করছে না, পারলে তোর
সাতপুরুষের ইয়ে মেরে দিতাম।
অনুরাগ এগিয়ে এসে ডলুবৌদিকে জাপটে ধরতেই বৌদি জোর করে
তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। ছাড়ো, আমার গা ঘিনঘিন করছে। বাড়ি গিয়ে আগে স্নান করতে
হবে।
-- কালকেই পুরো
ঘর বাড়ি বাথরুম ল্যাট্রিন কিভাবে বেমালুম বদলে ফেলবো দেখো। ন্যাপকিন তো তুচ্ছ বিষয়,
এ বাড়িতে ঢুকে মনে হবে একটা মন্দিরে এসেছো।
-- মন্দির! মাগো!...
জীবনে এদিকে তাকাবো না আর। মানে সেই সদগুরু হওয়ার ধান্দা!
-- যাঃ শালা!
ফাঁসিয়ে দিলে। ঠিক আছে কিছুই করব না, শুধু ঘর বাড়িটা একটু পরিষ্কার করে রাখবো। অন্তত
এবার এসে হিসু করতে গেলে, তোমার কোনরকম দৃশ্যদূষণ হবে না। যাও কথা দিলাম।
-- ভোলগা কি
তোমার থেকেও ভালো খেলুড়ে ? লোভ হচ্ছে।
-- বয়স কম, বাপের
প্রচুর টাকা, বিশাল বাড়ি, গাড়ি গোটা দুয়েক। বুঝতেই পারছো কেন আমি আলুলিকা বলে ওকে ডাকাডাকি
করতাম!
-- সব শালা চরম
শেয়ানা। একেই বলে কাঠে কাঠে টক্কর। ঘরে মেয়েছেলে থাকতে তুমি যেমন পরের বৌকে চেটে যাচ্ছো
সুযোগ পেলেই, সেও তেমনি ভোলগাকে চেটেছে তোমার অজান্তে। কাটাকুটি। ঘরদোর পরিষ্কার করো,
পরে আসবো আমি।
-- কাল থাকছি
না, পরশু।
-- দেখবো, শ্বশুরকে
ম্যানেজ করা যায় কিনা! একেবারে যমদারোগা। চোখ ফেলেই বসে আছে। ভাগ্যিস বাজার করবার সুযোগটা
পেয়েছি, নইলে পাঁচি হয়ে ওই বুড়োবুড়ির সংসারে কাজের লোক হয়েই বাসনায় মলম লেপে যেতাম।
হঠাৎ করে এগিয়ে এসে ডলুবৌদি অনুরাগের ঠোঁটে এক হাজার ওয়াটের
চুমু খেয়েই ছিটকে বেরিয়ে যায়। অনুরাগ ওর চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে শুধু অপসৃয়মান
রৌদ্রের আঁচলটুকু দেখে আনমনে বলে ওঠে -- ভালো না-থাকার সমুদ্রে আমরা খাবি খাচ্ছি বৌদি!
(২)
তখনও সকাল হয়নি। জানলার ফাঁক দিয়ে মাইক নিংড়ে নমাজের সুর ঢুকছে ঘরে। আর মন ডাকছে অনুরাগ, ওঠো, বেঁচে থাকতে হবে তো!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন