কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

শিশির আজম

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৩


কাফি

তোমার রক্তের দিকে আমি তাকাইনি

তোমার চ্যূতি

 

মেঘেরা কোথায় থাকে

জানো

 

গাঢ় রূপনির্মিতিতে রাতের আকাশ গাছপালা

পশুপ্রাণি

সবার শ্বাস সবার কাছে যায়

 

তুমি কি টের পাও

 

রাস্তারা এখন কী করছে

ক্লান্ত আহত যত রাস্তা

জিগ্যেস করো শিশিরকে

আর ভোরের কাছ থেকে আমরা কী চাই

 

আমার রক্ত ফিরে এসেছে

আমার অস্বস্তিকর রেখাচিত্রের কাছে

 

তোমার আকাশ

বিষাক্ত শান্তিনিকেতন

 

মোনালিসা

আকাশ

কোটি কোটি অসম্পূর্ণ শ্বাস

 

দেখি চাঁদ গ্যাসপ্রকোষ্ঠের

দেখি ঘামজবজবে নক্ষত্রের জলাধার

 

বনবিভাগের অফিস কোথায়

কোথায় রকেট উৎক্ষেপণকেন্দ্র

 

কতো পরাবাস্তববাদী প্রাণি নির্যাতন শিবিরের

ছাদে অপরাধভরা ভালোবাসা

 

সাপ

কোথায় সে আঁধারশ্যাম শ্যাওলার সাপ

 

পৃথিবীর পেটের ভেতর

তন্ময়তা ও প্রুশিয়ান নীলের মোনালিসা

ওটা কার

আমার না লিওনার্দোর

 

তোমার আমার তাহাদের

অনেক আকাশ

এক শ্বাস

 

ফুলের দোকান

ঐ যে ছেলেটি বেরিয়ে গেল রজনীগন্ধার তোড়া মুঠোয় নিয়ে, এ কিন্তু বেশ লাগে, আর আশ্চর্য একেকজনের হাতে একেক রকমের ফুল মানিয়ে যায়, যেন ঐ ফুলটি কেবল তার জন্যই ফুটেছিল যে তার ভালবাসা তার একান্ত আকাঙ্ক্ষিত মানুষকে জানিয়ে দেবে। ফুলের তোড়া তৈরি করতে প্রয়োজন জেনারেল কিছু টেকনিক আর নর্মাল কান্ডজ্ঞান। তবে জেনে রাখা ভাল, সময় ও শ্রমের তুলনায় এ-পেশায় মুনাফা অপ্রতুল। স্মরণ করো কিশোরী আনা ফ্রাঙ্কের সেই ডায়রিতে কী লেখা ছিল -- মাটির নিচের চতুষ্কোণ দ্বিধান্বিত পৃথিবীতে কিশোর প্রেমিক তাকে যে গোলাপ উপহার দিয়েছিল তা যুদ্ধ শেষে পাওয়া গিয়েছিল শুকনো অবস্থায়।

তবে তখনও তা গোলাপ!

 

জিরাফ

এমন এক গ্রাম আমার

অতি সাধারণ

মানে গ্রাম যেমন হয় আর কি

 

সূর্য

প্রতিদিন জ্বলে নিজের মতো

 

পেঁচা

জেগে থাকে অন্ধকারে বিষম নারীর জানলায়

কালো এক গাভী

বাগানে চরে বেড়ায় আপন মনে

 

কবে যুদ্ধ হয়েছিল

ঠিকঠাক কেউ বলতে পারে না

 

কিন্ত হঠাৎ একদিন সূর্য

মনে রেখো

আমাদের কারোর কথাই শুনবে না

গাছগুলো চিৎকার করে উঠবে

দেখা যাবে যাদের আমরা পাতা বলে জানি

তারা ডাকটিকিট

ভিন্ন কালপর্বের ভিন্ন ভিন্ন জিরাফের

এমন যদি হয়

মানে অতীতে এমনটা ঘটেছে তো

 

অমোচনীয় দরজা

মৃতদেহগুলো উড়ে গেছে গঙ্গাফড়িঙের ডানায় -- হয় তো আমরা হাজার হাজার প্রদীপ লক্ষ লক্ষ প্রদীপ আর জ্বালাবো না, হিংসা-ঝগড়াবিবাদ সত্বেও। দরজা ছিল, আর নদীমাতৃক রূপকথা। একটা ভোর, কে না চেনে তাকে। জেগে আছে সন্দেহ আর হরিৎবেদনার কাঠবিড়ালি, উপসাগরের উশকানিতে। তীরে একটা স্তন্যপায়ী গাছ পড়ে থাকতে দেখলাম, শিকড় পচা, গন্ধ আছে। কিন্তু গন্ধ কি শিকড়ের না পোকামাকড়ের? গাছটা হয় তো অনেক আগেই দানবের হাতে পড়েছে, আমরা দেখিনি। আমরা নিজেরাও কি টের পাই কখন আমরা দানবের রন্ধনশালায় গিয়ে পড়বো? আছি সমুদ্রে, ডিঙি নৌকোয়। তারা পেছনে তাকায়, নির্বোধ উঁচুবুক মেয়েদের হাসিঠাট্টা, চড়ুউভাতি। কিছু প্রদীপ অন্ধকার কৌমনির্জনতায় নিজেদের মতো গলে অন্যমনস্কতায়। একদিন হয় তো ধারণ করবে রাস্তার কাউনডাউন ক্যারাভানসারি। ভুল ছিল না। বনতিতিরের ডানার নিষিক্ত  শব্দই সত্তার উত্তরাধীকারী। আকার মৃতরা যদি রাস্তায় আসে, অশান্তি বাঁধায়, নেড়া তেতুলগাছটা আবার বিয়োনোর বায়না ধরে, আমরা কী করবো?


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন