![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৩ |
জাতিস্মর
শেষরাতের স্বপ্নটা মহর্ষিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। রাতে ঘুমোলে সবাই স্বপ্ন দেখে, কেউ কেউ দিনেও দেখে, মহর্ষি অবশ্য রাতেই দেখেছিল। শেষরাতে। একটা কথা প্রচলিত আছে, শেষরাতের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়! এমনিতে কোনো স্বপ্নের কথাই মনে থাকে না মহর্ষির, কিন্তু কী যে হলো, এই স্বপ্নটা মনের মধ্যে হাত-পা মেলে বসল। শুধু তাই নয়, স্বপ্নটা সত্যি বলেও মনে হলো। কিন্তু সত্যিটা কীভাবে! স্বপ্নে দেখা জায়গা ও মানুষগুলো তো তার একান্তই অচেনা অজানা। আর তখনই বিদ্যুৎচমকের মতো মাথায় খেলে গেল, এটা নিশ্চয়ই তার গতজন্মের কথা! আর সে নির্ঘাত জাতিস্মর হয়ে জন্মেছে!
মহর্ষি প্রথম পাকড়াও করল বাবাকে,
আচ্ছা ড্যাড, তুমি এজন্মে এত খিটখিটে কেন? আগের জন্মে তো মোলায়েম ছিলে!
ছেলের কথায় ড্যাড ঘাবড়ে গেল।
-মানে? গত জন্মে আমি কেমন ছিলাম,
তুই জানলি কীভাবে?
মহর্ষি হামলে পড়ল এবার মায়ের ওপর,
তুমি এমন পিটপিটে ছুঁচিবাই কেন মাম্মি? আগের জন্মে তো ছিলে না! তুমি ড্যাড বিলকুল বদলে
গেছ দেখছি!
মাম্মি ঘাবড়ে গিয়ে ডবকা ডবকা চোখে
তাকিয়ে থাকল ছেলের মুখের দিকে।
মহর্ষির দিদি উপমা তখন কলেজে যাবার
জন্য তৈরি হচ্ছিল। ভাইয়ের কথা তার কানে ঢুকেছে। ব্যাপারটা বোঝার জন্য বেরিয়ে আসতেই
মহর্ষি বলল, অত তাড়াহুড়ো করে তোর কলেজে যাবার দরকার নেই সিস। সঞ্জুদাদার সঙ্গে এখন
দেখা হবে না। বেলা বারোটার পর কলেজে আসবে।
-সঞ্জুদাদা! সে আবার কে? উপমা কিছুই
বুঝতে পারল না।
-আরে বাবা, ঐ যে তোর থেকে সিনিয়ার
সঞ্জুদাদা, যার সঙ্গে তোর ইয়ে…
হতভম্ব ড্যাড-মাম্মি-সিস। এসব কী
পাগলের মতো বকছে মহর্ষি! হয়েছে কী ছেলেটার!
হঠাৎ কী ভেবে থমকে দাঁড়ালো মহর্ষি।
তিনজনের মুখের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলল, আচ্ছা, তোমাদের সবার চেহারা এমন বদলে
গেছে কেন? আগের জন্মে তো তোমরা দেখতে অন্যরকম ছিলে! এই জন্মে তোমরা একেবারেই পালটে গেছ। কিন্তু দেখ, আগের
জন্মে আমি যেমন দেখতে ছিলাম, এজন্মেও আমি অবিকল
তেমনই আছি।
ড্যাডি-মাম্মি-সিসকে মূর্তির মতো দাঁড় করিয়ে রেখে মহর্ষি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। আজকে কী কারণে যেন স্কুল ছুটি আছে। মহর্ষিকে স্কুলে যেতে হয়নি। মন্তাজও যায়নি। বাড়িতেই আছে। মহর্ষি ও মন্তাজ ক্লাস এইটে একই সেকশনে পড়ে। তারা দুজনেই জানে যে, তাদের সাবালক হতে এখনও একটু দেরি আছে। কিন্তু সে তো বয়সের বিচার! মনের ক্ষেত্রে সেসব বিচার নেই। মন যদি সাবালক হয়ে থাকে, তবে তাদেরই বা কী করার আছে! সুতরাং মহর্ষি আর মন্তাজ পরস্পরকে মন দিয়ে বসেছে। একদিনও কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারে না। সবথেকে বড়কথা স্বপ্নে গতজন্মের মন্তাজকে এজন্মের মতো দেখতে লেগেছে। মন্তাজকে ডেকে বাড়ির পাশের পার্কে বসল মহর্ষি। গালে একটা ছোট্ট চুমু দিয়ে বলল, আমি সিওর মন্তাজ!
-কী সিওর?
-আগের জন্মে তোর বিয়ে হয়েছিল অন্য
কারও সাথে। তাই এজন্মে কোনো রিস্ক নয়, স্কুল পাস করেই আমরা দুজনে পালাব।
-কোথায়?

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন