![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৩ |
মা
সমুজ্জ্বল। একটা প্রাইভেট য়্যুনিভার্সিটিতে বিবিএ’র ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি এরই মধ্যে একজন নামকরা ব্লগার হয়ে গেছে। প্রতিদিন বেশ কয়েকটি ব্লগ লেখে। ফেসবুকে নিজের পেইজ ছাড়াও অনেকগুলো পেইজেও নিয়মিত ব্লগ লেখে। ওর ব্লগগুলো সবাই খুব পছন্দ করে। ওর ধারণা, ব্লগে লিখলেই বুঝি বিশ্বে ফেমাস হয়ে যাবে। একদিন মিশেল এরিংটন, প্যাট ক্যাসমোর, মারিও লেভানডেরিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবে। এমন ভাবনা থেকেই ও সংসারের চেয়ে ব্লগকে বেশি সময় দেয়। সংসারকে সময় দেয়া মানে একটা পরিবারের উপকার, আর ব্লগে লিখলে দেশের ও দশের উপকার। ওর কাছে সবার আগে দেশ। ব্লগ করা ছাড়াও বন্ধুদের নিয়ে হৈ হুল্লোড়ে মেতে থাকা ওর বেশি পছন্দ।
সেদিন শুক্রবার। য়্যুনিভার্সিটি
বন্ধ। সমুজ্জ্বল সকালেই ফেসবুকে বসে গেছে। আজ ওকে অনেকগুলো ব্লগ লিখতে হবে। সামনের
রাস্তাটার কাজ গত তিন বছরেও কেন শেষ হচ্ছে না এটা নিয়েও লেখা দরকার।
সমুজ্জ্বলের মা মাহমুদা খাতুন এক
সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। ও ব্লগে লেখা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকে যে মাকেও ঠিকমতো সময় দেয়া হয়
না। তবে ফেসবুকে রোজ মায়ের অসুস্থতার স্ট্যাটাস লিখতে কোন ভুল হয় না। প্রচুর লাইক আসে,
সুস্থতা কামনায় গাদাগাদা কমেন্টস ওর স্ট্যাটাস’র নিচের লাইন সমৃদ্ধ হতে থাকে। সমুজ্জ্বল
আনন্দে গদগদ হয়ে যায়। মনে করে, অনেক বড় কাজ করে ফেলেছে।
সমুজ্জ্বল তখন ব্লগ লেখায় ব্যস্ত। পাশের রুমে মাহমুদা খাতুন জলতেষ্টায় কাতর। পানি দাও পানি দাও বলে কাৎরাচ্ছেন। সমুজ্জ্বল তখন ব্লগ লেখায় এতটাই ব্যস্ত যে উঠে গিয়ে মাকে একগ্লাস পানি দেবে, তারও ফুরসৎ নেই। ও ভাবলো, হাতের লেখাটা শেষ করে মায়ের পাশে গিয়ে বসবে, মাকে নিজ হাতে পানি খাওয়াবে। ওদিকে ওর মা তখনও পারি পানি বলে কাৎরাচ্ছেন।
হাতের লেখাটা শেষ হতে এক ঘন্টারও
বেশি লেগে গেল সমুজ্জ্বলের। লেখা শেষ করে ও মা মাহমুদা খাতুনের কাছে গেল। তখন আর পারি
চাচ্ছেন না মাহমুদা খাতুন। কোন কথাও বলছেন না। মায়ের শিয়রে বসলো সমুজ্জ্বল।
- জানো মা, আমি আজও তোমার সুস্থতা
কামনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি। মা, তুমি ভাবতেও পারব না কত লাইক এসেছে! কত মানুষ তোমার সুস্থতা কামনা করে কমেন্টস করেছে! এত মানুষের
দোয়ায় দেখো, তুমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে!
ওর মা কোনো কথা বললেন না। সমুজ্জ্বল
আবার বললো, আমি মিথ্যে বলছি না, মা! তুমি কথা বলছো না কেন মা? বলে একটু থামলো।
- নাও মা, লক্ষ্মী মেয়ের মতো এবার
পানিটা খেয়ে নাও তো! বলে মায়ের মুখে একটু পানি ঢেলে দিলো সমুজ্জ্বল। পানি মাহমুদা খাতুনের
গলায় ঢুকলো না। ঠোঁটের কোণা বেয়ে গড়িয়ে পড়লো
বালিশে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন