![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৩ |
কলম
এ-কলমে নারী লিখি, এখনো নারীর মানে সূর্যমুখী সিঁড়ি
কলম মোচড়ায় তাকে রক্ত দিয়ে ম্যারিনেট করে।
যে আমাকে বাড়তি কিছু খুশি দেয় তাকে নীল কারাগারে
রাখি
যারা ভাবে বৃন্ত ছিঁড়ে পাখি পাখি শখ তাদের সবার
ভোগে ছাড়ি।
কলম যাওয়াকে ফিরে আনে, বাণিজ্যপোতাশ্রয় খুঁজে দেয়,
মানুষের ভিড় ঠেলে মোমজ্বলা ক্যারলরাত্রিকে ফেলে
রাখে।
কলমের ডিমগুলো মাছের মায়ের মতো ধরে রাখে জলাশয়ে
বই,
বই কী বিষয়ী তাই এই বিষ কফিহাউসের কাপে ঘনতায় নীল!
মৃত্যুরায় লেখা কোনো কলমের বীর্যে যথা নারীশিশুজন্মদান
বৃথা
কোনো কঞ্জুষ স্তনয়ার কাছে বৃথা তথা হৃদয়ের বরফি
ভেঙে খাওয়া।
আমার কলমে কিছু উৎসব থাকে আর থাকে কিছু ভালোবাসা—
বাদবাকি হাটুরের দীর্ঘবেলা ঘুড়ি ছেড়ে একা বসে থাকা।
লেখার টেবিল
ভালোমানুষি ভালো নয়;
সে-ফর্মুলায় আমার লেখার টেবিল মুক্তাঞ্চল করেছে
কিছু রক্তবাদী দল।
বাঁ কোণে রাখা রচনাবলীর মুখ থেকে হরিণছেঁড়া রক্ত
চুইয়ে পড়ছে
আর চোখ দিয়ে ঝরছে মরুরোষ।
শ্রেষ্ঠ কবিতার নারী খুবলানো;
চোখে অন্ত্যমিল না-মিলের ধর্ষিত জল
টেবিলে ফের বসার আগে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চায়।
প্রহরী যারা ছিল সেই কলমের খোঁচারা খোজার মতো
খাপবন্দী ঘোড়া হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমোয়;
তারাও ঝগড়া এগিয়ে দেয়ঃ বড্ড লিখছ আজকাল
আমাদের নিবীর্য করে এ তোমার কোন্ আনন্দ!
ভাবছি একটা বিভেদপন্থা বইয়ে দিলে কেমন হয়
শ্রেষ্ঠ কবিতাকে যদি শরীরে মজানো যায় রচনাবলীকে
তবে দেব ঘুষ।
কবিতার কাগজ
বস্তু নয় বস্তুসংগতি থেকে শুরু করা যাক কবিতা।
মধু নয় মধুর অথবা শঙ্খকে বাদ দিয়ে শঙ্খতায় ঘর ভরিয়ে
রাখা।
গতস্য শোচনায় কেন অবগাহন?
পারাবত তো পারাবার পারাপারে আগ্রহী নয়।
আমিও তাই অলি বাঁচিয়ে কলি চাই।
এ-পৃথিবীতে তা নইলে আর ভাল লাগে না।
কবিতা এখন শুধু মুখের ফেনার স্তূপ
...সীমাবদ্ধ জীবনের নৈরাশ্য কালো জলের নারীতে আদিকল্প
হয়।
একটু কোথাও খুঁজতে থাকি বকের সাদা পাখা কিংবা কোনও
সুড়ঙ্গলালিত সম্পর্ক।
আমার কিছু কথা আছে, কিছু কিছু কথা থাকে।
শোনার আগেই যারা চলে যায় তাদের দিকে বাড়িয়ে ধরি
কাগজ।
কেউ চোখ বোলায় কেউ পড়ে কেউ মনে রাখে মুখস্থ করে।
কেউ বা আমার হয়ে অতীশ দীপঙ্কর গড়ে ওঠে।
আমার কবিতা আমার রক্তকে বেছে দেয় শৈত্য থেকে।
একটি দিন পেরিয়ে গেলেই টাঙিয়ে দেয় পীস টাওয়ারে।
আমার কবিতা মাপে আমার পদক্ষেপের সিসমোগ্রাফ।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন