কালিমাটি অনলাইন

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

ত্রয়োদশ বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১৩৮

রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬

সুকান্ত পাল

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৩


পরিযায়ী

ফিজিক্সে অনার্স পাশ করেও কোনো চাকরি-বাকরির কায়দা করতে পারেনি প্রদ্যুম্ন। প্রাইভেট টিউশনি করে মোটামুটি চলছিল। দিদি পারমিতার বিয়ে হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু বাবা মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান হওয়ার দায় থাকে অনেক। বাবা মায়ের ক্রমাগত চাপের কাছে নতি স্বীকার করে বিয়ে করতে হয়েছিল অন্বেষাকে। সংসারের সদস্য বেড়ে যাওয়াতে প্রাথমিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তার বাবার পেনশনের উপর নির্ভর করে আর সংসার চলতে চাইছিল না। শুধু তাই নয়, বিয়ের দুবছরের মধ্যে তাদের একটা কন্যাসন্তানও জন্ম নিয়েছিল। ফলে প্রদ্যুম্ন তার টিউশনির উপর জোর দিয়েছিল। দিনরাত শুধু পড়ানো।

বিপদটা ঘটল কোভিড মহামারির সময়। স্কুল কলেজের শিক্ষায় এলো অনলাইন ব্যবস্থা। ছেলেমেয়েরা বেশ রপ্ত হয়ে গেল এই ব্যবস্থার সঙ্গে।

কিন্তু পড়াশুনোর ব্যাপারটা কী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে, কী ব্যক্তিগতভাবে, সব লাটে উঠে গেল। সবাই আশি শতাংশ নম্বর পেয়ে ভীষণ খুশি।

টিউশনির বাজার একেবারে চটকে গেল।

স্কুলের চাকরির জন্য টেট পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিল কয়েক বছর আগে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তার চাকরি হয়নি অথচ পাশের বাড়ির মন্টু যার রেজাল্ট খুব আহামরি নয়, সে কিন্তু পাশের গ্রামেই চাকরি পেয়ে গেছে। একটা হতাশাবোধ কাজ করলেও প্রদ্যুম্ন ভেঙে পড়েনি কখনো।

শেষপর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে একটা বেসরকারি এজেন্সির সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে প্রদ্যুম্ন চলে গেল কেরলে একটা কোম্পানিতে কাজ করার জন্য। মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে সে টাকা পাঠাত বাড়িতে। কিন্তু আজ প্রায় মাস তিনেক হয়ে গেল প্রদ্যুম্নর সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।

বাধ্য হয়ে প্রদ্যুম্নর বাবা আর অন্বেষা গেল সেই বেসরকারি এজেন্সির কাছে। সেখানে গিয়ে সব বলতেই এজেন্সির ম্যানেজার জানায় যে, প্রায় দশমাস আগে থেকেই তাদের সঙ্গে কেরলের কোম্পানির চুক্তি শেষ হয়ে গেছে।

এই কথা শুনে অন্বেষার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। তাদের অবস্থা দেখে ম্যানেজার বরফের মতো ঠান্ডা গলায় বলল,

-- অত চিন্তা করছেন কেন? ওরা তো পরিযায়ী শ্রমিক মাত্র!

-- কী বলছেন আপনি?

-- ঠিকই তো বলেছি!

-- আপনি জানেন, এই কথার অর্থ কি?

-- কেন জানব না!

-- আপনার বিরুদ্ধে আমি কোর্টে যাবো।

এই কথায় ভদ্রলোক একটুকুও টসকালো না। বরং মুচকি হেসে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

-- ভালো কথা। তবে কোর্টে যাবার আগে ভালো করে কন্ট্রাক্ট পেপারটা কিন্তু আপনার উকিলকে দেখাতে ভুলবেন না!


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন