![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৩ |
ডানা নির্মাণ
রোজ ডানা নির্মাণ করি, হালকা নরম দীর্ঘ ডানা
আমাকেই উড়তে
হবে, উড়ান শিক্ষার পর্ব এখন আমার
সবাই মাটিতে
শুয়ে আছে, শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখছে বিপ্লবের
ঘরবাড়ি,
প্রেমিক-প্রেমিকা, চন্দ্রযান আর মিথ্যাচার
প্রতিদিন
কতই কসরত চলে; ভাঙা মন, জোড়া মন
ব্যবসাপাতিরও
দোকান জমে
আমার শুধু
ডানা নির্মাণ স্নিগ্ধ নীলাভ আকাশে
যেখানে অবিনশ্বর
আকাঙ্ক্ষারাও তারার মতো জ্বলে
আত্মরতি
তুমি তো দেবদারু বৃক্ষ
তোমার তলায়
দাঁড়িয়ে খুঁজি আমার ঈশ্বর
অনেক জন্ম,
অনেক আয়ুর ভিতর
ঘুরপাক খায়
আমার হৃদয়
চিনতে পারি
না ওকে
এই তৃণভূমি,
এই মরুপ্রান্তর, এই জলাশয়
প্রাচীন বিষণ্ণতার
ভাষা জানে
অথবা উজ্জ্বল
হাসি কবে তুলে দিয়েছিল রোদের আঁচলে
তারপর দীর্ঘপথ,
পথেই বিশ্রাম
নিজেই নিজের
মুখের পানে চেয়ে
বারবার দেখেছি
নিজেকে
সমস্ত জীবিতকাল
আত্মরতি গেয়ে গেছে গান
কৃষ্ণেন্দ্রিয়
ভালোবাসা আর থাকতে চাইছে না
পুরনো ভালোবাসাগুলি
চলে যাবে এবার
কত রাতজাগা
ক্লান্ত প্রহর গেছে
কত জ্যোৎস্না
খুঁটে খাওয়া শব্দবীজে
স্বপ্নের
ঘরদুয়ার নির্মাণ করেছে
তারপর কাব্যশরীরে
যৌবনের গান
কত গান অন্ধকার
ভেঙে ভেঙে উঠে দাঁড়িয়েছে
এবার সব গোপন
বেরিয়ে পড়েছে
আমাদের সব
বিরহজন্ম
রাধাভাব থেকে
রাগানুগায় পৌঁছাতে চেয়েছে
হাহাকার
হাহাকারের সঙ্গে আর কথা বলব না
হাসিখুশিদের
বাড়ি কোন্ পুকুরের পাড়ে?
কুমোরপাড়া
ঘুরে রথতলার কাছে
এসে থেমেছি
কিছুক্ষণ—
নতুন বউ এসে
নামল গরুর গাড়ি থেকে;
ওর ঘোমটা
আর পানপাতা মুখের গল্প
আজ আর বলব
না কাউকেই;
শুধু আওয়াজ
উঠবে চপ্পলের
যেন কৈলাশ
থেকে এল মহামায়া
বাংলার ঘরে
ঘরে…
সূর্য ডুবে
গেলে সব অন্ধকার
আমার ঘরের
বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকবে
সেই পুরনো
আদিম হাহাকার!
অসময়ের বৃষ্টি
ট্রেন থেকে নেমেই বৃষ্টির সঙ্গেই দেখা হল
এমন অসময়ে
তুমি এলে?
সকাল দুপুর
সব চলে গেছে
নকশী কাঁথার
মাঠে বিকেলের রোদের প্রহর
মেলে দিয়েছে
ছায়া—
কোথায় হারিয়ে
গেল ধানকাটা দিন!
হেমন্ত বিদায়
নিয়ে গেছে পরবাসে
মাঠে মাঠে
শুধু ক্লান্তির দীর্ঘশ্বাস পড়ে আছে…
স্টেশনের
বাইরে কয়েক ফোঁটা অশ্রু শুধু
আর কিছু নেই
অবেলার বৃষ্টি
তুমি, কেমন করে আমাকে ভেজাবে?

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন