ধারাবাহিক উপন্যাসিকা
অস্তাচল
(দশ)
এখন সকাল। ভোরের আলো স্পষ্ট হলেও কিছুটা মৃয়মাণ। তারা উড়ে যাওয়া পাখির চোখে আজ এক ছায়া দেখেছে। পাখি সারারাত কান্না করেছিল মনে হয়। সে কান্নার সাক্ষী আহ্নিক। সে কান্নার সাক্ষী স্মিতা। ভোর বেলা তাদের মনে হয়েছে, সত্যি এখানে যা কিছু ঘটেছিল সব কাল্পনিক।
আহ্নিক পরের দিন সকালে ফের একবার
স্মিতার ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে ফিরে গেছে হসপিটালের দিকে।
হসপিটালে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে কিছুক্ষণ। সেখান থেকে ফের এসেছে স্মিতার ঘরের সামনে।
এর আগে স্মিতার ঘরে প্রবেশের সময় সে দেখেছে, এই ঘর প্রতিবার তাকে প্রশ্ন করেছে, কী
চাও তুমি? এই প্রশ্নের সর্ত হল মিথ্যে বললে মৃত্যুদণ্ড, সত্যি বললে ছুটি। আর সে উত্তর
দিয়েছে, তার মৃত্যুদণ্ডই চাই।
অথচ এখন দেখছে সেই ঘর যেন নিজেই
মরে পড়ে আছে। কেউ কথাও নেই। ঘরের চারিদিকে কোনও মানুষের চিহ্নমাত্র নেই। ঘর বাইরে থেকে
বন্ধ, অথচ তালা দেওয়া নেই। ভিতর থেকে বন্ধ করে চলে গিয়েছে সবাই। ঘরের উঠোন সামনের বারান্দা,
গাছের ঝরা পাতায় ঢেকে রয়েছে। অনেকদিন উঠোন ঝাড় দেওয়া হয়নি। এখানে কোনও মানুষ থাকত বলে
মনেই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে অনেক দিনের বন্ধ কোনও ঘরের সামনে এসে সে দাঁড়িয়েছে।
আহ্নিক ছুটেছে হসপিটালে। খবর নিয়েছে
সেই ডাক্তারের। একজন নার্স জানিয়েছে। উনি তো ছুটিতে রয়েছেন অনেক দিন। কবে আসবেন জানেন
না। খবর নিয়েছে সেই ট্রেচার বয়ের। কেউ জানিয়েছে, তেমন কোনও ছেলে এখানে কাজ করে না।
খবর নিয়েছে এখানে কি কালকে কোনও মেয়ের ডেড বডি এসেছিল? সবাই তার দিকে তাকিয়ে চুপ করে
গেছে। কেউ উত্তর দেয়নি।
তবে বলা যায় এতে আহ্নিক তেমন কিছু
বিস্মিত নয়। এমনটা তো স্বাভাবিক। এমনই হওয়ার কথা ছিল। ঘটনার পরের দিন এসে দেখবে, সব
কিছু এমন ভাবে সাজান, যে মনেই হচ্ছে না এখানে গতকাল কিছু ঘটে ছিল। এমন আশা করাই যায়।
তবে এক মাত্র আশ্চর্যের লেগেছে, সেই ঘরটা দেখে। সেখানে কি কেউ থাকে না। এই তো ঘণ্টা
খানেক আগেই সে এখানে ছিল। তখন তো এমন ছিল না ঘরটা। এত পাতা এলো কথা থেকে। গাছ থেকে
একদিনে এত পাতা পড়লই বা কি করে?
আহ্নিক গাড়ি ঘোরাল। একবার সেই থানায়
যাওয়ার দরকার হয়ে পড়েছে। অথচ কোন থানা থেকে পুলিশগুলো এসে ছিল তা তো জানা হয়নি। কী
নাম ছিল ইন্সপেক্টরের তাও জানা হয়নি। তবে দেখে মনে হয়েছিল থানার মেজো বাবু হবে। কিন্তু
কোন থানা? সে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে শুরু করল এদিক ওদিক। কোন থানা থেকে আসতে পারে বলে মনে
হয়। কাছাকাছি কোনও থানা হবে নিশ্চয়ই। তাহলে সেই সব থানায় গিয়ে একবার করে ঘুরে এলে,
গতকালের পরিচিত কাউকে হয়তো পাওয়া যেতে পারে। সে ঘুরতে শুরু করল এ থানা থেকে ও থানা।
অথচ না তেমন কাউকেই গতকালের পরিচিত পেল না। থানায় যে কিছু জিজ্ঞাসা করবে, তার উপায়
কোথায়? কোনও কেস যে রেজিস্টারই হয়নি। অনেক ঘুরে তার মনে হল, এমন কোনও মানুষ আপাতত এখানে
নেই যে ঝুমুরকে চিনত। বা যে ঝুমুরকে মনে রাখতে চায়।
একমাত্র সেই রয়েছে যে অন্তত ঝুমুরের
ঘরটা চেনে। তাই একবার ফেরার পথে, তার বাবার বানিয়ে দেওয়া সেই ঘরটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
বহু বছর আগে যেভাবে সে সাইকেল নিয়ে এ ঘরের সামনে দিয়ে ঘুরে গেছিল। ঝুমুরকে দেখে ছিল,
ভাঙা ইটের টুকরো নিয়ে খেলছে। তার মাকে দেখে ছিল, জল দিচ্ছে রাজ মিস্ত্রীদের।
ওইখানে ঠিক ওখানেই ঝুমুর খেল ছিল।
তার মনে আছে, এখন সেখানে সিমেন্ট দিয়ে বানানো একটা তুলসী মঞ্চ রয়েছে। মাঝখানে মাটি,
অথচ মাটিতে কোনও তুলসী গাছ নেই। একটা মরে যাওয়া তুলসী গাছের কঙ্কাল গাঁথা আছে। এটুকুই।
বাকি কেউ কথাও নেই। দরজায় তালা ঝুলছে। ওরা কি এ ঘর ছেড়ে দিয়ে ছিল? এ যে দখলী জায়গা,
ছেড়ে দিলে দখল হয়ে যাবে। পাশ থেকে বেরিয়ে এলেন একজন, ইনি এখানে পুরনো দেখেই মনে হচ্ছে।
জিজ্ঞাসার চোখ নিয়ে তাকালেন আহ্নিকের দিকে।
আহ্নিক বলল, এখানে যারা থাকত, তারা
কি এখন আর থাকে না?
-কে থাকত? উনি জিজ্ঞাসা করলেন।
-একজন মহিলা তার মেয়ে নিয়ে থাকত
এখানে, তাদের কথা জানতে চাইছি।
-তাদের কি কোনও নাম ধাম নেই!
-হ্যাঁ আছে, মহিলার নাম তো জানিনা।
তবে মেয়েটির নাম ছিল ঝুমুর।
-ও, ঝুমুরদের খুঁজছেন? ওরা তো অনেক
বছর আগেই চলে গিয়েছে।
-ও চলে গেছিল। তাহলে এখন কারা থাকে?
-ওদের পরে তো এখানে আরও দুটো ফ্যামেলি
থেকেছে। এখন অবশ্য অনেকদিন তালা বন্ধ পড়ে আছে। ঝুমুররা তো সেই কবেই চলে গেল। তখন ঝুমুর
দশ বারো বছর হবে।
-এখান থেকে কোথায় গিয়ে ছিল ঝুমুররা
বলতে পারবেন।
-না সে কি আর কেউ বলে যায়, না কেউ
কারোর খবর রাখে। কে কোথায় যাচ্ছে, কে কোথায় আসছে। কে অত জিজ্ঞাসা করবে বলুন। যে লোকটা
ঝুমুরদের দেখাশোনা করত, সে যখন মারা গেল তখনই তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তারপর অবশ্য
ঝুমুরের মা চেয়ে ছিল কিছুদিন স্বাধীন ভাবে বাঁচার, কিন্তু ও মহিলাকে কি মানুষ স্বাধীন
থাকতে দেয়।
থেমে গেল আহ্নিক, তার জিজ্ঞাসা
শেষ হয়ে আসছে। আর কিছু মনে পড়ছে না, যা জিজ্ঞাসা করা যায়। সে কিছুক্ষণ ঘরটার দিকে তাকিয়ে
থাকল আনমনে। পিছন থেকে লোকটা বলতে বলতে চলে যাচ্ছিল,
-সেই লোকটার কিছু করে যাওয়া উচিৎ
ছিল এদের জন্য। করেনি। তাই এরা হারিয়ে গিয়েছে।
-সে কি ঝুমুরের বাবা ছিল?
ফিরে তাকাল সে, কিছুক্ষণ তাকিয়ে
থাকল আহ্নিকের দিকে, তারপর বলল
-জানি না, কাউকে কোনোদিন দেখিনি
যাকে ঝুমুর বাবা বলে ডাকছে।
হেরে গেল আহ্নিক, আবার আবার হেরে
গেল। যেমনটা স্মিতা তাকে বলেছিল, তোমার বাবা কি তোমাকে কিছু বলে গেছে? না তার বাবা
তাকে কিছুই বলে যায়নি। বলতে চেয়ে ছিল মনে হয়। বলার জন্য অনেক অনেক অপেক্ষা করে একদিন
অকস্মাৎ দেখে ছিল তার ছেলে তারই মত সংবেদনশীল হয়েছে। বড় হয়েছে তার ছেলে। তাকে কাছে
ডেকে শেষতম ইচ্ছের কথা বা শেষতম ঋণের কথা বলা যেতে পারে!
এবার তাকে ফিরে যেতে হবে। সেটাই কাম্য যখন সব দেনা পাওনার হিসাব গুলিয়ে যাচ্ছে। সে গাড়ি ঘোরাল, সেই লোকটার পিছনে এসে জিজ্ঞাসা করল,
-আর কেউ নেই, যারা ঝুমুরের খবর
জানে?
-আমার জানা নেই, কিন্তু তুমি কে?
এতদিন পরে কেন জানতে চাইছ?
-আমি সেই লোকটার ছেলে।
থেমে গেল সে। ঘুরে তাকিয়ে আহ্নিককে
একবার দেখে আবার হাঁটতে শুরু করল। আহ্নিক পিছন থেকে বলল,
-ঝুমুর আমার বোন ছিল।
সে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
-তোমার আগে আসা উচিৎ ছিল।
(এগারো)
তাহলে কেউ নেই যারা ঝুমুরদের শেষ খবর জানে। ঝুমুররা কি এভাবেই বাতাসে ভ্যানিশ হয়ে যাবে। তাদের আর কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না। এ সবই ভাবতে ভাবতে আনমনা হয়ে গাড়ি চালাচ্ছে সে। সে যেন তার ভিতরে নেই। তার শরীর থেকে বেরিয়ে হারিয়ে গিয়েছে অন্যকোনোখানে। পাশ দিয়ে খুব জোরে একটা গাড়ি তাকে বাঁদিকে ঠেলে দিল। হঠাৎ সম্বিত ফিরে এলো তার। সে তো ঠিক রাস্তাতেই যাচ্ছিল। না তার রাস্তা ঠিক নয়, তাকে ফিরতে হবে যেখান থেকে শুরু করে ছিল সেখানে।
এখন পার্টি অফিস, তারপর বিকাশের
আগের ঘর, তারপর স্মিতার বাপের বাড়ি। একের পর এক গাড়ি চলেছে আহ্নিককে নিয়ে। আহ্নিক একবার
করে দাঁড়াচ্ছে। জিজ্ঞাসা করছে ওরা কোথায়? পার্টি বলছে, বিকাশ আর এখন আমাদের না। তাকে
আমরা চিনি না। কোথায় রয়েছে কী করে জানব। স্মিতার পরিচয় তো বিকাশের সাথে, বিকাশ যখন
নেই, তখন স্মিতা কোথায় তা জানার কোনও প্রয়োজন নেই। বিকাশের আগের ঘর বলেছে, বিকাশ অনেকদিন
আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। তার ছেলে বৌ এখন স্বাধীন। তারা কারোর খবর নেয় না। কেননা তাদের
খবর দুঃখের দিনে কেউ নেয়নি। স্মিতার বাবা বলেছে, তার মেয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যাকে বিয়ে
করেছিল। তাকে ছেড়ে আবার পালিয়ে যায় কোনও এক নেতার সাথে। তারা আর কোথায় কোথায় খবর নেবে
মেয়ের? আহ্নিক একবার স্মিতার আগের শ্বশুর বাড়ির সামনে দিয়েই ঘুরে এসেছে। দেখেছে ঘরের
লোকগুলোকে কেমন যেন সুখী সুখী দেখাচ্ছে।
তাহলে কি স্মিতার আর বিকাশ, এরাও
ঝুমুরের মত ভ্যানিশ হয়ে গেছে। অথচ ঝুমুর আর স্মিতার মাঝে যে বিস্তর তফাৎ। বা হয়তো ভুল
হচ্ছে, তারা দুজনেই পরজীবী। ঘুরতে ঘুরতে আহ্নিক সে গাড়ির স্ট্যান্ডে এসেছে। যেখান থেকে
সে ঝুমুরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি ধরে ছিল। স্ট্যান্ডের সবাই তাকে দেখে এগিয়ে এসেছে
কাছে। যেন তারা অপেক্ষায় ছিল কখন সে আসবে। সে জিজ্ঞাসা করেছে, কালকে আমি এখন থেকে গাড়ি
নিয়ে ছিলাম। আমার সাথে একটা মেয়ে ছিল। আপনাদের মনে আছে? তারা শুধু মাথা নেড়েছে। না
তাদের কাউকে মনে নেই। আহ্নিক বুঝতে পেরেছে, এরা সবাই মিলিত রয়েছে। কেউ এগিয়ে আসবে না।
তাও সে চলে যাওয়ার সময় বলেছে, ঝুমুরকে কি কেউ মন থেকে ভালবাসত না? কে জানে? দু’তিন
জন ড্রাইভার নিজেদের মধ্যে চোখাচুখি করেছে ব্যস।
চলে আসতে বাধ্য হয়েছে সে। বার বার
ফোন করেছে স্মিতার ফোন নাম্বারে। সব বন্ধ, কোনোকিছু চলছে না। সে জানে ফোন বন্ধ করে
দেবে, তাও মানুষের বদভ্যাস। পাশে তার স্ত্রী এসে বসেছে। কাকে খুঁজছ? সে তার বউয়ের দিকে
তাকিয়ে বলেছে। যদি বলি আমার এক বোনকে।
স্ত্রী কতটা তার মার কাছ থেকে শুনেছিল
কে জানে। তবে মনে হল সে বিস্মিত হয়নি। অবাক হওয়ার মত কোনও কাজ করেনি সে। তার বৌ বলল,
এতদিন পরে কেন খুঁজতে চাইছ?
-জানি না। বা হয়তো জানি কিন্তু
মানি না।
-জানো যখন মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়?
-অসুবিধা আমার ভিতরে। আমার ভিতর
বারবার অশান্ত হয়ে যাচ্ছে। মানুষ তো আর পাখি নয় যে আকাশ থেকে এসে গাছের ডালে বসবে।
আবার ডাল থেকে উড়ে যাবে আকাশে। মানুষের জন্য যে মাটি দরকার।
-তোমার সমস্যাটা কোথায় বুঝতে পারছি
না।
-যাদের খুঁজছি তাদের আর কোনও অস্তিত্ব
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তুমি ঝুমুরের নাম শুনেছ?
তার স্ত্রী তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ
তার দিকে। যেন এমন কিছু যা সে জানতে চায় না। তার জানার কোনও ইচ্ছে নেই। সে জানাল তার
মেয়েকে টিউশনি থেকে আনার সময় হয়ে যাচ্ছে। তাকে উঠে যেতে হবে। আহ্নিক যদি চায় তো সে
এখনই চা বানিয়ে দিতে পারে। না হলে মেয়েকে নিয়ে আসতে দেরি হয়ে যাবে। আহ্নিক বলল, চা
আমি নিজেই বানিয়ে নিতে পারব। মেয়েকে নিয়ে আসো। আর হ্যাঁ, যে কথা বলছিলাম, মা তোমাকে
কিছু বলে যায়নি?
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল তার স্ত্রী।
বলল, মা বলে ছিল, উনি তোমার বাবার কাছে কোনোদিন কিছু জিজ্ঞাসা রাখেননি। কেননা তার তেমন
কিছু জিজ্ঞাসা করার জায়গা ছিল না। গরীব পরিবারের মেয়ে হয়ে বেশি কিছু জিজ্ঞাসা করা যায়
না।
আহ্নিক বলল, সে কথা নয়। কিছু জিজ্ঞাসা
করা যায় না, জানি। কিন্তু জানা তো যায় সব কিছু। তেমন কোনও কথা মা বলে যায়নি?
-তুমি এত বছর পরে কেন ঝুমুরদের
খুঁজতে চাইছ? এত বছর তো খবর নাওনি।
-ঝুমুর মারা গেছে। কালকে আমার চোখের
সামনে মারা গেছে ঝুমুর। আমি তার দেহটা কোলে করে হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ছিলাম।
-কোথায়, ঝুমুরের সাথে তোমার কোথায়
কীভাবে দেখা হয়েছিল?
কথা আটকে গেল আহ্নিকের বুকে। তাকে
এবার স্মিতার খবর জানাতে হবে। বউ প্রশ্ন করবে, কে এই স্মিতা? তাকে তুমি কীভাবে চেনো?
সেখানে কেন ঝুমুর গিয়ে ছিল? কেন স্মিতা ঝুমুরের মৃত্যুর কারণ হতে গেল? কেন পালিয়ে গেল
সবাই? এতগুলো প্রশ্ন উঠে আসতে পারে। আহ্নিক কি এত সবের জন্য নিজেকে তৈরি করতে পেরেছে।
অথচ না, তার স্ত্রী সে সব প্রশ্নের
দিকে গেল না। বরং বলল, তোমার মা এজন্যই বেশি কিছু জিজ্ঞাসা করত না। কারণ উনি জানতেন
যেখানে সবাই অপরাধী, সেখানে কে কাকে শাস্তি দেবে? ঝুমুরদের কথা আমি শুনেছি মায়ের কাছে।
মায়ের একটাই চিন্তা ছিল, তার ছেলে যেন বাপের ধারা না পায়। ভিতরে ভিতরে একবার চমকে উঠল
আহ্নিক। তার স্ত্রী বলল, বাবা মারা যাওয়ার পরে ঝুমুরের মা কাকে ধরে ছিল, সেটাও মা জানত।
-সে কি মা জানত? কাকে? কার কাছে
তখন গিয়ে ছিল ঝুমুরের মা।
-সে আমাকে বলেনি। তবে আজকে যদি
সে সব জানতে হয়, একটা উপায় রয়েছে বলেই মনে হয়।
-কী সেটা?
-ঝুমুর যদি সত্যি তোমার বোন হয়,
তবে তার জন্য কিছু টাকাকড়ি তোমার বাবা নিশ্চয়ই রেখে গিয়েছে। জানা আছে তোমার?
-না জানা নেই।
-ঝুমুরের জন্য তোমার বাবা কিছু
না কিছু অবশ্যই রেখে গিয়েছিল। তোমার মা তেমনই ইঙ্গিত দিয়ে ছিল। যার কাছে রেখে ছিল সেই
হয়তো ওদের শেষ খবর জানে। তবে সে লোক সে সব পয়সাকড়ি ঝুমুরদের দিয়ে ছিল বলে মনে হয়না।
সব তো হিসেবের বাইরের টাকা।
-কে সেই লোকটা? তাকে কোথায় পাওয়া
যাবে?
-সেও তোমাকেই খুঁজে বার করতে হবে।
(ক্রমশ)

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন