![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৬ |
এখনই
একটা ক্যালেডাইস্কোপ মেলে ধরল আজকের আলাপচারিতা,
ছয় দশকের ভুলে থাকা
সহসা দৃশ্যমান হল সানুরাগ উজ্জ্বলতায় …
তবে কি প্রয়াসী হব পশ্চাদ্ভ্রমণে?
পুরনো পাজামা পেলে পরে নেব পরম আগ্রহে,
যদিও তা হাসির খোরাক হবে সমসাময়িকের?
বস্তুত তা অসম্ভব, এবং পরিত্যজ্য তাই …
তবে কি প্রয়াসী হব স্মৃতি রোমন্থনে?
ঠাণ্ডা বিয়ারের গ্লাসে ভাবনা ডুবিয়ে
জেনে নেব এই সত্য
রাত্রির সমস্ত তারা ঢেকে আছে দিনের আলোর গভীরে?
বস্তুত তা নিস্ফল আত্মরতি, এবং পরিত্যজ্য তাই
…
আমার সামনে আছে সাদা পাতা
টেবিলের উপর মেলে রাখা – এবং একটি কলম –
বরং স্বতঃস্ফূর্ত ফুটে উঠুক কয়েকটা অক্ষর
…
আবর্তন
এক মরমিয়া কবি লিখেছিলেন –
কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই…
দার্শনিক বললেন, পরমাত্মা থেকে জীবাত্মার উদ্ভব,
আবার পরমাত্মাতেই জীবাত্মার বিলুপ্তি …
বিজ্ঞানী বললেন, ইলেকট্রন প্রোটন নিউট্রন নিয়েই
জীবের সৃষ্টি,
আবার অন্তিমে সেই মূল কণায় প্রত্যাবর্তন,
তারপর আবার সংযুক্তি – নবরূপে আবার প্রকাশ – হারায়
না কিছুই…
বোঝা গেল, সাগরে মিলালে নদীর মরণ নাহি হয়,
সেথা হইতে হয় আবার মেঘের উদয় …
ডিকটেটার
গাধাকে বাধ্য করেছি ভার বইতে,
ঘোড়াকে বাধ্য করেছি বাহন হতে,
শুধু মানুষকে সম্পূর্ণ বাধ্য করতে পারিনি,
অবাধ্য রয়ে গেছে অর্ধেক মানুষ …
মানুষ এক অদ্ভু্ত জীব --
তার ক্রিয়াকর্ম বাঁধাগতে চলে না,
তার মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া বড়োই জটিল,
তার গবেষণাগারের এক ধারে তৈরি হয় কোভিড ভ্যাকসিন,
অন্য ধারে পরমাণু বোমা …
অতি স্বচ্ছ, অতীব প্রাঞ্জল – সব জানি --
তবু আস্ফালন করে যাই অপ্রতিরোধ্য এক অস্মিতার বশে
–
অর্ধেক করায়ত্ত, বাকি অর্ধ সময়ের অপেক্ষায় শুধু
…

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন