কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

সুকান্ত পাল

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৬


স্বাধীনতা অনন্ত

সাতকাহন করে কিছু বলার প্রয়োজনীয়তা কোনদিনই অনুভব করেনি জয়িতাসে নিজের নীরবতার মাঝে নিজেকেই খোঁজেকারণ সেখানে কেউ হাত দিতে পারবে নাসে বেশ ভালোভাবেই জানে তার চারপাশের মানুষজনরা যতই পোশাকের উজ্জ্বলতা, প্রসাধনের চাকচিক্য আর সুখী কথার ফুলঝুরি ঝড়াক না কেন-- তারা কেউই সেই জীবনটা কোনদিনই পায়নি --- যেটা তারা পেতে চেয়েছিলএটাই চরম সত্যজীবনের সবকিছুই গোলমেলেকোনো অঙ্কই মেলে নামেলা উচিতও না।

এই কারণেই জয়িতা কখনোই কোনদিনই নিজেকে কোন তথাকথিত দুর্ভাগ্যের শিকার মনে করে নাতার চলন এবং যাপন এলোমেলো বাতাসের মতো অথবা ঝড়ের সমুদ্রে উত্তাল ঢেউয়ের মতোসে ভেসে যায়আবার সাঁতার কেটে পাড়ে উঠে এসে বালির বিছানায় শরীর ডুবিয়ে দিয়ে মনের আগল খুলে দেয়যবে থেকে সে নিজের শরীরকে চিনেছে সেদিন থেকেই সে যেন আকাশের অনন্ত নীলের সঙ্গে পৃথিবীর জল, মাটি, অরণ্য, পর্বতের মধ্যে কোন ফারাক খুঁজে পায়নিএক মহাসঙ্গমের গীতধ্বনির সুর সর্বত্র বিরাজমানতার স্বপ্ন ও যাপনকে তার নিজের কোনদিনই মূল্যহীন মনে হয়নিসব সময় মনে হয় সে শুধু বর্তমানে নয়, অতীত এবং ভবিষ্যতেও বাস করছে একই সঙ্গেশরীরকে ভালোবেসে সে এক স্বেচ্ছা দাসত্বের ঘেরাটোপে যে আটকে পড়েছে -- এ কথা তার কখনোই মনে হয়নি

প্রতিটি মুহূর্তকে সে উপভোগ করেসে সুখী হয়ে উঠতে চায় নিজের মতো করেএখানেই সে যেকোনো রকমের দাসত্ব থেকে মুক্তএমনকি জীবনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে, ভেংচি কেটে চলে যাওয়াটাও একটা স্বাধীনতাস্বাধীনতার কি কোন সংজ্ঞা হয়? জয়িতার মনের মধ্যে প্রশ্নটা এঁদো পুকুরের জলের নিচ থেকে বুদবুদের মতো উঠে আসেউত্তর পায় নানা পাকওতে জয়িতার কিছু যায় আসে নাতবু জীবনে বেঁচে থাকার মধ্যে একটা গতি আছে,  গতি আছে জমাট বেঁধে থাকা সময়ের মধ্যেওসময়টাকে শুধু বুঝতে হয়তার প্রৌঢ় বাবা সুবোধ কুমার তলাপাত্র তো অফিসের রুটিন মাফিক একটা জমাটবদ্ধ কাজের মধ্যেও গতি খুঁজে পায়যেমন তার মা রান্নাঘরের মধ্যে আটকে থেকেও এখনো মাঝে মাঝে রাতের অন্ধকারে বাবার জন্য পা ফাঁক করে জীবনের গতি খুজে নেয়গতির তারতম্য আছে

ধুস্, এটা জীবনের কোনো গতির চরিত্র হলো! জয়িতা মনে মনে হাসে এবং ভাবে কী বোকা বোকা জীবন! সেও তো কতবার যে তার শরীরের উৎসবে মেতে উঠেছে তার হিসাব নেইতাই বলে সেই ক্ষণিকের উৎসব তাকে আটকে রাখতে পারেনিতার গতির কাছে কত সময় যে নিজের শরীরও হেরে গেছে তার হিসেব নেই
জয়িতার দরজাটা ভেজানো আছেএতো বেলা হয়ে গেল এখনো ব্রেকফাস্ট করেনিসকালের চা-ও খায়নিসুবোধকুমারকে তার স্ত্রী বলল, একটু দেখো তো!
সুবোধকুমার জয়িতার ঘরের ভেজানো দরজায় টোকা মেরে কোনো শব্দ না পেয়ে দরজাটা ঠেলে খুলে দেখলো মেঝেতে রক্তের সমুদ্রে জয়িতা ঘুমোচ্ছে

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন