কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

জয়িতা ভট্টাচার্য

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৬


বদল

ভোরবেলা এখানে এত কুয়াশা, নিরেট সাদা পাঁচিলের মতো দাঁড়িয়ে আছে। জানলা ভিজে গেছে বাইরের বাষ্পে। চুঁয়ে চুঁয়ে গড়িয়ে নামছে জল। ভেতরে অন্ধকার। জলময়। ঠেসাঠেসি ভিড়। বাচ্চা বুড়ো নারী পুরুষ সব তাল পাকিয়ে আছে জড়ামড়ি করে। ট্রেনটা তীব্র গতিতে সীমাহীন উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছে। দুটো চোখ তার জ্বলছে। ভেতরে মন্থর নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে, চোখ সয়ে এলে। বাচ্চাগুলো মায়ের স্তন্যবৃন্তু হাতরাচ্ছে। কাঁদছে। লোকেরা কেউ কেউ হাই তুলছে অথবা কাশছে। কিন্তু কোনো শব্দ হচ্ছে না। নড়াচড়া দেখে বোঝা যাচ্ছে ওরা সবাই অন্ধ।

একদিন অবশ্য গতি কমে এলো। ট্রেন দাঁড়াতে তবুও কেটে গেলো প্রায় মাসাবধিক। আসলে সময় এখানে ঘড়িতে চলে না। এখানে সূর্য ওঠে না বহুকাল, তাই তাপ বা উত্তাপে সময় নির্ধারণ হয় না। ট্রেনটা দাঁড়িয়ে আছে একটা স্টেশনে। হুড়মুড় করে গড়িয়ে নামছে সবাই। ধস্তাধস্তি। যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা - কে আগে প্রাণদান করবে! মাটির প্ল্যাটফর্ম জনহীন। দলটা এগোচ্ছে যেদিকে ঢাল। প্রায় অর্ধনগ্ন মানুষের মিছিল। কুয়াশা আরও গাঢ় হয়ে উঠছে ট্রেনটা শূন্যতার ভেতর মিলিয়ে যাবার পরে। ওদের দিকে আস্তে আস্তে বুকে হেঁটে এগিয়ে আসছে অদ্ভুত সরীসৃপের দল। একটা বাজপড়া পাতাহীন গাছের মাথায় এসে বসল শকুন। আরও কয়েকটা  শকুন আসছে। ওরা এগিয়ে এলো অভ্যর্থনা করতে। এদের দেখাশোনার দায়িত্ব এখন এই গ্রহের সরীসৃপদের।  পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শকুন। জলাভূমির যেখান থেকে বাষ্প উঠছে সেসব জায়গায় কালচে ঘাসে শূন্য কিছু কুটির, ওখানে এদের ঠিকানা।

কুয়াশা হাল্কা হলো আবার একদিন। আরেকটা ট্রেন আসার আগেই ঘরগুলো আবার শুনশান হয়ে গেছে। এখানে গোসাপের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। নতুন দলটা পুরনো দলের মতো স্টেশনের দিকে এগিয়ে আসছে গুঁড়ি মেরে এখন। ওদের চামড়ার রং পরিবর্তনশীল।

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন