 |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৬ |
শেষ ভ্রমর
(১)
ভ্রমর : চক্ষুদান আর মুখাগ্নিকে কিছুতেই সরলরেখা দিয়ে যুক্ত
করা যায় না।
খড়ের
সৈনিক : বক্ররেখার কৌশল আর নৈঃশব্দ্য কিছুদিন বাদে বাদেই বিলীন হয় চরাচরে। শুধু আলো
জ্বলে-নেভে আলাদা আলাদা মঞ্চে।
ভ্রমর
: পৃথিবীকে নতুন অ আ ক খ খুঁজতে লাগবে আবার!
খড়ের
সৈনিক : যতোই নতুন বর্ণমালা পাও চাঁদ তোমার বাড়ির ওপর থেকে এগিয়ে থমকে দাঁড়াবে
ঠিক সেই শুঁড়িখানার ওপর। তোমার সোসাইটি ছেড়ে যেভাবে একে একে চলে গেছে নামহীন মানুষেরা।
ভ্রমর : কে এই উদ্দেশ্যহীন হাঁটাচলা শেখাল?
খড়ের সৈনিক : উৎস চিরকাল বিভ্রান্তিময়, শুরুতে পৌঁছে কোনও সত্য
লাভ হয়নি কখনও। শুধু অলস পরিব্রাজক তাদের লক্ষ করে মনোযোগ দিয়ে।
(২)
নামহীন
মানুষ : যে কোনও বিষয়ে সাচ্চা হওয়ার চেষ্টায় জানলা দরজা কি সব নিজে নিজেই বন্ধ
হয়ে যায় না!
ভ্রমর
: জানি না। চতুর্দিকে তেলচপচপে মাথায় ভুরভুর করছে শুধু ওডিকোলন।
নামহীন মানুষ : উন্মত্ত সিংহকে ক্লোরোফর্ম মাখানো একটুকরো মাংসে
বশ করেছে ওরা।
ভ্রমর : ইলেকট্রিক চাবুকের তর্জনী দিয়ে খেলানোর সেকেলে ব্যবস্থা কি একেবারেই
উঠে গেল!
নামহীন মানুষ : কোনও কিছুই নিপাত যাচ্ছে না! হায়, এতো জীবাশ্ম রয়ে যাবে
সভ্যতায়?
(৩)
ভ্রমর : এক্কাদোক্কার ছক পার হয়ে বাইরে ঝাঁপ দিয়েছিল যে মেয়েটি
তাকে ফুসলে নিয়ে গেছে বাঁশি।
জীবাশ্ম : তবুও এখানে আছে মেয়েটি। আগুপিছু না ভেবে আমাদের বেপরোয়া
সাইকেল ছুটে গিয়েছিল হাইওয়ের ধাবায়! সেখানে উর্দির নীচে বাঁশি ফুঁকে বেড়ানো মানুষের
কি অসভ্য ভিড়। সঙ্গে ডাকাবুকো সুরে মাদকসেবীর গান।
ভ্রমর : ওখানে অনেকেরই হিপপকেট থেকে উঁকি দিচ্ছিল পিস্তল। আর
এভাবেই মেয়েটি রইল, শুধু হারিয়ে গেল নাম।
জীবাশ্ম
: কেন যে মগজধোলাই সুর শয়তানের ঠোঁটে লেপ্টে এগিয়ে গেল শ্মশানের দিকে! ইস্কুলবাড়ি,
হাসপাতাল বিল্ডিং, সংস্কৃতি ভবনের সামনে দিয়ে বুক ফুলিয়ে!
0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন