কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / দ্বিতীয় সংখ্যা / ১৪১

সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

সুদীপ দাস

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৬


শেষ ভ্রমর

(১)

ভ্রমর : চক্ষুদান আর মুখাগ্নিকে কিছুতেই সরলরেখা দিয়ে যুক্ত করা যায় না।

খড়ের সৈনিক : বক্ররেখার কৌশল আর নৈঃশব্দ্য কিছুদিন বাদে বাদেই বিলীন হয় চরাচরে। শুধু আলো জ্বলে-নেভে আলাদা আলাদা মঞ্চে।

ভ্রমর : পৃথিবীকে নতুন অ আ ক খ খুঁজতে লাগবে আবার!

খড়ের সৈনিক : যতোই নতুন বর্ণমালা পাও চাঁদ তোমার বাড়ির ওপর থেকে এগিয়ে থমকে দাঁড়াবে ঠিক সেই শুঁড়িখানার ওপর। তোমার সোসাইটি ছেড়ে যেভাবে একে একে চলে গেছে নামহীন মানুষেরা।

ভ্রমর : কে এই উদ্দেশ্যহীন হাঁটাচলা শেখাল?

খড়ের সৈনিক : উৎস চিরকাল বিভ্রান্তিময়, শুরুতে পৌঁছে কোনও সত্য লাভ হয়নি কখনও। শুধু অলস পরিব্রাজক তাদের লক্ষ করে মনোযোগ দিয়ে।

 

(২)

নামহীন মানুষ : যে কোনও বিষয়ে সাচ্চা হওয়ার চেষ্টায় জানলা দরজা কি সব নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে যায় না!

ভ্রমর : জানি না। চতুর্দিকে তেলচপচপে মাথায় ভুরভুর করছে শুধু ওডিকোলন।

নামহীন মানুষ : উন্মত্ত সিংহকে ক্লোরোফর্ম মাখানো একটুকরো মাংসে বশ করেছে ওরা।

ভ্রমর : ইলেকট্রিক চাবুকের তর্জনী দিয়ে খেলানোর সেকেলে ব্যবস্থা কি একেবারেই উঠে গেল!

নামহীন মানুষ : কোনও কিছুই নিপাত যাচ্ছে না! হায়, এতো জীবাশ্ম রয়ে যাবে সভ্যতায়?

 

(৩)

ভ্রমর : এক্কাদোক্কার ছক পার হয়ে বাইরে ঝাঁপ দিয়েছিল যে মেয়েটি তাকে ফুসলে নিয়ে গেছে বাঁশি। 

জীবাশ্ম : তবুও এখানে আছে মেয়েটি। আগুপিছু না ভেবে আমাদের বেপরোয়া সাইকেল ছুটে গিয়েছিল হাইওয়ের ধাবায়! সেখানে উর্দির নীচে বাঁশি ফুঁকে বেড়ানো মানুষের কি অসভ্য ভিড়। সঙ্গে ডাকাবুকো সুরে মাদকসেবীর গান।

ভ্রমর : ওখানে অনেকেরই হিপপকেট থেকে উঁকি দিচ্ছিল পিস্তল। আর এভাবেই মেয়েটি রইল, শুধু হারিয়ে গেল নাম।

জীবাশ্ম : কেন যে মগজধোলাই সুর শয়তানের ঠোঁটে লেপ্টে এগিয়ে গেল শ্মশানের দিকে! ইস্কুলবাড়ি, হাসপাতাল বিল্ডিং, সংস্কৃতি ভবনের সামনে দিয়ে বুক ফুলিয়ে!

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন