![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৬ |
সময়ের ডানা
ঝর্নার মতো সহজ জীবন চেয়ে চারপাশে মাখো মাখো সন্ত্রাস! কুলুঙ্গি থেকে অনন্তকাল তাকিয়ে মেজ খুকির মেজাজে অথচ ভয় এবং বিষাদ আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী। সুখের দিনগুলো বেড়া কলমির মতো হিলহিলে। মুখের মিছিলে মুখোশেরই উদ্দীপনা। গরম হাওয়ার ফিসফিসানি নিয়ে সন্ধেমাত্রই নিমন্ত্রনহীন। শ্যাওলার মতো ভেসে বেড়ায় স্বস্তি। খাপখোলা তরবারির মতো উসকে উঠছে স্মৃতি...
রাক্ষসজন্ম নিয়ে মধ্যদুপুরের ইচ্ছে চুল্লির গল্প শোনাবে। বিসংবাদ মুছে দেয় মেঘের ছাতি। বাটিতে পয়সা ফেলার টুংটাং আওয়াজে মগ্ন অকালবৈশাখী। সংলাপহীন মিথ্যেগুলো চুমুর দোলায় সত্যির ভূমিকায়। হৃদয়কে কুড়িয়ে নিয়ে চলে গেছে বেহিসেবী বন্দোবস্ত। দুনৌকোয় পা দিয়ে জীবন লাফ দিতে উদ্যত বাঘ! এক পায়ে দাঁড়িয়ে প্রচন্ড ঘামছে দুঃখবোধ...
দুঃসময়
দুঃসময় যখন আসে এমনি করেই। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায় আমাদের ভাবনাচিন্তা। মরা জন্তুর মতো ফুলতে থাকে শয়তানের মনোবাঞ্ছা। ফণা তুলে দাঁড়ায় চলার রাস্তা। হাওয়া ঘুরে ঘুরে বলে 'তফাৎ যাও।' ছায়াযুদ্ধে মাতে বিবেকের সঙ্গে বলিরেখা। গা ঘেঁষে চলে যায় শব্দের ছুরি। সর্বদা ভয় এই বুঝি লাফিয়ে পড়ল হালুম...
যখন দুঃসময় আসে খড়খড়ির বাইরে থাকে সবুজ আশ্বাস। ঘাড়ের কাছে যখন নিঃশ্বাস ঝাড়ে একটা দুটো আর জি কর একটা দুটো জয়নগরের মতো নৃশংস হত্যাকান্ড, নিবু নিবু হয় না ঘাতকের চোখ, উইতে ঢাকে না তার মনোবল, দৃষ্টিতে আসে না মশালের আগুন, আকাশে জমে না স্মরণীয় স্মৃতি। সমস্ত অন্ধকারকে অস্বীকার করে যদিও ওঠে থেঁতলানো সূর্য...
দুঃসময় যখন আসে ঝাপসা হয়ে যায় ইস্তেহার, ঝাপসা হয়ে যায় আলোর উদযাপন, ঝাপসা হয়ে যায় অবরোধের দেয়াল। সুন্দরের হাত কাঁপে, ঝোপের আড়ালে চলে যায় ভালবাসা। স্থবির রাষ্ট্রযন্ত্রে মরিচা ধরে। তার গায়ে বসে থাকে ভনভন করা মাছির মতো জিঘাংসার গোল গোল চোখ...
স্বপ্ন স্বপ্ন
স্বপ্ন দেখার কোনও শেষ নেই। সুন্দর বনের বাঘও আজকাল স্বপ্ন দ্যাখে মানুষ মারার কথা ভুলে বেহালা বাদক হয়ে কাটিয়ে দেবে জীবন। জল ফড়িংও ভাবে স্বপ্নহরিণ হয়ে বাড়িয়ে দেবে মানুষের স্পৃহা । জলদ মেঘের ইচ্ছে বাবলাগাছের মাথায় বসে চুরুট টানতে টানতে সে মানুষের পৃথিবীকে বলবে: 'আরো ভাবো । এক সারি ভুঁই পিঁপড়ে ঠিক করেছে চাল থেকে কাঁকর বাছার মতো মানুষের মন থেকে পাপবোধ বেছে বেছে ফেলে দেবে রসাতলে। সাপের পাঁচ পা দেখা মানুষের অঙ্গীকার বঁড়শিতে গেঁথে তুলবে মেঘলা আকাশ। ফ্লাই ওভারের বাসনা ঘোড়ার মতো কেশর দুলিয়ে ছুটতে থাকবে দশ দিগন্ত। একটি খোলা জানলার স্বপ্ন ব্যক্তিগত অনুভূতিমালা সূচ সুতোয় গেঁথে সময়ের দেয়ালে থাকা পেরেক থেকে ঝুলিয়ে রাখবে চিরকাল...
জল নয় প্রসন্ন রোদ এসে ধুয়ে দেবে এঁটো থালাবাটি। নাভিশ্বাসকে তাড়া করবে আশাদুরাশার শেকড়বাকড়। ছোট বউ হয়ে মহাকাল গুছিয়ে রাখবে বেসামাল ঘরদোর। দাঁড়াশের অভিপ্রায় সে-ই কমিয়ে আনবে সামাজিক দূরত্ব। ঘুম পাড়ানি বৃষ্টি বাড়িয়ে দেবে সকলের গড় আয়ু। মগ্নভুবনের পরাবাস্তবকে আইসক্রিম ভেবে চুষে চুষে খাবে ন্যাংটো ছেলেবেলা...
যদি এমন হয়
যদি এমন হয় যে সমস্ত বৃক্ষ সমাজ হো হো হাসিতে ফেটে পড়ল এবং তা বেলুনের মতো উড়তে উড়তে বসল জলটুঙি পাহাড়ের গায়ে। ঘন্টি বাজাতে বাজাতে একটি নেংটি ইঁদুর বলতে থাকল: 'সাবধান প্রলয় আসছে'। যখন সদইচ্ছেগুলো টসটসে আঙুরের মতো ফলে আছে চারপাশে। সাদা বাঘ হয়ে আর ভয় দেখাতে চায় না দুঃসাহস। অনেক ভোগানোর পর মারাত্মক শব্দটা হয়ে গেল মাধুর্যময়। কলঘরে লুকিয়ে ছিল যে ফাঁদ, হঠাৎই সে বিস্তার করে রহস্যজাল। কম্পিটিশনও চায় দেদার অলস জীবন...
তর্ক থেকে মানুষ ক্রমশ সরে যাচ্ছে কিমহং তেন কুর্যাম বিশ্বাসে। একটু একটু বাঁচা একটু একটু মরা নিয়ে যে কেউ হতে চায় আনন্দ ভিখিরি। ক্ষুধা এবং তৃষ্ণাকে ব্রহ্মজ্ঞানে পারদর্শী করাতে চায় সাংসারিক দুর্ভোগ। রোমান্সকে হাঁস মুরগির মতো গৃহপালিত পাখি করে সুখ চায় ঘনঘোর বাউল। তাই আর্তনাদ ও আস্ফালনকে অনন্তরাত্রির কোলে সঁপে দেয় মেহেরবানি...

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন