সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

উদয় চট্টোপাধ্যায়

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৬


এখনই

একটা ক্যালেডাইস্কোপ মেলে ধরল আজকের আলাপচারিতা,

ছয় দশকের ভুলে থাকা

সহসা দৃশ্যমান হল সানুরাগ উজ্জ্বলতায় …

 

তবে কি প্রয়াসী হব পশ্চাদ্ভ্রমণে?

পুরনো পাজামা পেলে পরে নেব পরম আগ্রহে,

যদিও তা হাসির খোরাক হবে সমসাময়িকের?

বস্তুত তা অসম্ভব, এবং পরিত্যজ্য তাই …

 

তবে কি প্রয়াসী হব স্মৃতি রোমন্থনে?

ঠাণ্ডা বিয়ারের গ্লাসে ভাবনা ডুবিয়ে

জেনে নেব এই সত্য

রাত্রির সমস্ত তারা ঢেকে আছে দিনের আলোর গভীরে?

বস্তুত তা নিস্ফল আত্মরতি, এবং পরিত্যজ্য তাই …

 

আমার সামনে আছে সাদা পাতা

টেবিলের উপর মেলে রাখা – এবং একটি কলম –

বরং স্বতঃস্ফূর্ত ফুটে উঠুক কয়েকটা অক্ষর … 

 

আবর্তন

এক মরমিয়া কবি লিখেছিলেন –

কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই…

 

দার্শনিক বললেন, পরমাত্মা থেকে জীবাত্মার উদ্ভব,

আবার পরমাত্মাতেই জীবাত্মার বিলুপ্তি …

 

বিজ্ঞানী বললেন, ইলেকট্রন প্রোটন নিউট্রন নিয়েই জীবের সৃষ্টি,

আবার অন্তিমে সেই মূল কণায় প্রত্যাবর্তন,

তারপর আবার সংযুক্তি – নবরূপে আবার প্রকাশ – হারায় না কিছুই…

 

বোঝা গেল, সাগরে মিলালে নদীর মরণ নাহি হয়,

সেথা হইতে হয় আবার মেঘের উদয় …

 

ডিকটেটার 

গাধাকে বাধ্য করেছি ভার বইতে,

ঘোড়াকে বাধ্য করেছি বাহন হতে,

শুধু মানুষকে সম্পূর্ণ বাধ্য করতে পারিনি,

অবাধ্য রয়ে গেছে অর্ধেক মানুষ …

 

মানুষ এক অদ্ভু্ত জীব --   

তার ক্রিয়াকর্ম বাঁধাগতে চলে না,

তার মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া বড়োই জটিল,

তার গবেষণাগারের এক ধারে তৈরি হয় কোভিড ভ্যাকসিন, 

অন্য ধারে পরমাণু বোমা …

 

অতি স্বচ্ছ, অতীব প্রাঞ্জল – সব জানি --

তবু আস্ফালন করে যাই অপ্রতিরোধ্য এক অস্মিতার বশে –

অর্ধেক করায়ত্ত, বাকি অর্ধ সময়ের অপেক্ষায় শুধু …

 

 

 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন