![]() |
মেঘ-সকাল
মেঘ-সকাল ; চুপচাপ চারপাশ।
নিজের বলতে শিশু-গাছ পাতা অল্প-অল্প দুলছে
একটু দূরে ব্যস্ত গাড়ির শব্দ দ্রুত ছুটে গেল
ওরা কখনো কাছে আসে না পাশে বসে না
বলে না --
মেঘ করেছে বৃষ্টি হবে
দেখো আজ বৃষ্টি হবে ভিজিয়ে দেবে তুমুল
চুপচাপ ছন্নছাড়া অনিশ্চিত এই জীবন
ভাঙাচোরা ইঞ্জিনের মতো ক্লান্ত
মরীচিকার আকাশজুড়ে মেঘ করুক
বৃষ্টি নামুক
ভিজতে থাকুক রেইনকোট উল্লাসে
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি
আমি ঘুমিয়ে পড়তেই
আঁখিপক্ষ্ণের ভেতরে সে আমায় দেখেছিল
ঘুমের মধ্যে জেগে থাকা ঘুম পরি
আমি তখন স্বপ্নে বিভোর, তুমি?
দুজন কি একই স্বপ্ন দেখছিলাম
গাছে-গাছে বাদুড় ঝুলছে আর মাটিতে পড়ে থেঁতলে যাচ্ছে আধখাওয়া চাঁদ
পিঁপড়ের সারি জমিনের উপর করছে ছোটাছুটি
কোন বিবাদ নেই অথবা মারপিট
পুরো চিত্রের দিকে তাকিয়ে আছি আমি-তুমি
দেখতে দেখতে
গ্রীষ্মের সমাপ্তি দিনে বর্ষাব্যকুল এই শব্দের আড়ালে ভিজে যাচ্ছি জবুথবু
ভাবছি যদি ভেঙে যায় ঘুম তবে কি টিনের চালের বাড়ি –
না ইট-পাথরের ঘর কোথায় গেলে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি পাব
মেঘের ভিতর মেঘ
আকাশে মেঘ দেখলেই উত্তরের পুকুরের কথা মনে পড়ে
জলের গায়ে টুপ টাপ বৃষ্টির শব্দের কথা মনে পড়ে
লাল গামছায় কচুরিপানার ফুল আহ! সেইসব দিনের কথা মনে পড়ে
আকাশে মেঘ দেখলে তোমার পাঠানো প্রথম চিঠির কথা মনে পড়ে
চিঠি খুলতেই একঝাঁক বৃষ্টি ভিজে গেল শব্দগুচ্ছ
ভিজে গেলাম আমি
যেমন ঝরা পাতা দেখলে তোমার আসবার আগমনী সংকেত দিয়ে যেত ফিঙেপাখি
আকাশে মেঘ দেখলেই তোমাদের ঐ ভাঙা ট্যাপকলের কথা মনে পড়ে
পুরনো সেই বদনা বালতি ওদেরও মনে পড়ে
আকাশে মেঘ দেখলে মনে পড়ে এমন দিনেই
আমারা হারিয়ে গেছি
এরপর পৃথিবীজুড়ে এত উষ্ণতা মেঘের ভেতরে এত মেঘ

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন