কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ১৪৩

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / চতুর্থ সংখ্যা / ১৪৩

শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

<<<< সম্পাদকীয় >>>>

 

কালিমাটি অনলাইন / ১৪৩ / চতুর্দশ বর্ষ : চতুর্থ সংখ্যা

 


 

আমরা যে নামেই অভিহিত করি না কেন, প্রকৃতি অথবা বিজ্ঞান, তার চলনই হচ্ছে সর্বদা ডায়নামিক, কখনই স্ট্যাটিক নয়। অর্থাৎ বিশ্রাম বা থেমে থাকার কোনো উপায়ই নেই। তা সে জড় বা অজড়, প্রাণবান বা প্রাণহীন, যাই হোক না কেন, প্রকৃতি অথবা বিজ্ঞানের এই নিয়ম চিরন্তন। তবু আমরা বিশ্ব ব্রম্ভান্ডের নিতান্ত ক্ষুদ্র এবং নগণ্য মনুষ্যপ্রাণী কখনও কখনও সেই নিয়ম বা সত্যকে ভুলে থাকতে চাই, প্রিয়জনদের মৃত্যুসংবাদ সহজে মেনে নিতে পারি না।

মাত্র দিন কয়েক আগে ৩০ মে  সেই একই নিয়মে মেনে চলে যেতে হলো আমাদের অত্যন্ত প্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় কবি-সাহিত্যিক-প্রাবন্ধিক-সম্পাদক অতীন্দ্রিয় পাঠককে। তাঁর পোশাকী নাম ছিল শ্যামলকুমার ধর।  আমরা তাঁকে শ্যামলদা বলেই সম্বোধন করতাম। সাহিত্যক্ষেত্রে তিনি পরিচিত ছিলেন অতীন্দ্রিয় পাঠক নামে। ব্যক্তিগতভাবে আমি একসময় খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলাম শ্যামলদার। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। ‘কালিমাটি’ মুদ্রিত পত্রিকা তাঁর লেখা নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হতো। সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ  সম্পর্কিত প্রবন্ধ এবং জীবনানন্দ দাশ বিষয়ক বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ ‘কালিমাটি’ পত্রিকার জন্য লিখেছিলেন,  পরবর্তীকালে যা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি নিজে সম্পাদনা করতেন লিটল ম্যাগাজিন ‘অব্যয়’। এর পাশাপাশি ১৯৯৯ সালে গড়ে তুলেছিলেন ‘অব্যয় লিটেরারি সোসাইটি’। শ্যামলদার নির্দেশে আমি ‘অব্যয়’ পত্রিকার জন্য কয়েকটি কবিতা লিখেছিলাম। প্রতি বছরই কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় যাই, সেসময় ‘অব্যয়’এর স্টল থাকত বইমেলায়। স্টলে গেলেই শ্যামলদার সান্নিধ্য পেতাম। মনে পড়ে, মুদ্রিত ‘কালিমাটি’ পত্রিকার একশ’তম সংখ্যা উদ্বোধনের অনুষ্ঠান হয়েছিল কলকাতার বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মহাবোধি সোসাইটি সভাঘরে। ‘কালিমাটি’ পত্রিকার যাঁরা শুভানুধ্যায়ী, যাঁরা পত্রিকায় লিখতেন, তাঁরা অনেকেই সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শ্যামলদাও এসেছিলেন অনুষ্ঠানে।

অতীন্দ্রিয় পাঠকের জন্ম ৩ মার্চ ১৯৩৯। অর্থাৎ তিনি প্রয়াত হয়েছেন ৮৬ বছর বয়সে। বাংলা সাহিত্যে যাঁরা তাঁর লেখা পড়েছেন, তাঁরা জানেন, তিনি কতটা বিদগ্ধ মননশীল কবি সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘অনন্য জীবনানন্দ’, ‘শিল্পী, শিল্পকর্ম ও ভাবনা-অনুষঙ্গ’, ‘উপন্যাস সমগ্র আপাতত’, ‘প্রাকৃত ও  অপ্রাকৃত জীবন গল্প’ বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। অতীন্দ্রিয় পাঠক মূলত ষাটের দশকের একজন প্রথাবিরোধী ও বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক। তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু হয়েছিল কবিতা রচনায়। পরে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ সাহিত্যে স্বকীয়তার ছাপ রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যের 'শ্রুতি-কবিতা' চর্চা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও কবি হিসেবে তিনি ষাট ও সত্তরের দশকে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিভিন্ন বাংলা লিটল ম্যাগাজিনে প্রখ্যাত সাহিত্যিক অরুণ মিত্র এবং বাংলা ভাষার বিভিন্ন সাহিত্যতাত্ত্বিক ও মননশীল বিষয় নিয়ে তাঁর অসংখ্য মৌলিক রচনা ও সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে।

আমাদের প্রিয় শ্যামলদা বা অতীন্দ্রিয় পাঠকের প্রয়াণে আমরা মর্মাহত। আমাদের বিনীত শ্রদ্ধা জানাই তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

 

আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেল ঠিকানা :

kajalsen1952@gmail.com

দূরভাষ যোগাযোগ : 9835544675