কালিমাটি অনলাইন / ১৪২ / চতুর্দশ বর্ষ : তৃতীয় সংখ্যা
এই সময়ের ভারতীয় শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার এবং ফটোসাংবাদিক রঘু রাই সম্প্রতি প্রয়াত
হয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল তিরাশি বছর। তাঁর জন্ম হয়েছিল ইংরেজ শাসনকালীন
ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ঝাং গ্রামে (বর্তমানে
পাকিস্তানের অন্তর্গত)। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে সিভিল ইঞ্জিনীয়ারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন
যদিও মাত্র তেইশ বছর বয়সে পেশাগতভাবে ফটোগ্রাফিকে গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম
শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁর শিষ্য।
রঘু রাই ১৯৬৬ সালে একজন ফটোগ্রাফার রূপে নয়াদিল্লির 'দ্য স্টেটসম্যান' হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি 'দ্য স্টেটসম্যান' ছেড়ে দেন এবং একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি 'ইন্ডিয়া টুডে'-র ফটোগ্রাফি পরিচালক ছিলেন। ভারতীয় আধুনিক ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যেমন ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ শরণার্থী সংকট এবং ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির ছবি তোলার তিনি জন্য বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার ফটো প্রবন্ধগুলি নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত পত্র-পত্রিকায় -- 'টাইম', 'লাইফ', 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস', 'দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট' এবং 'দ্য নিউ ইয়র্কার' ইত্যাদি। এর পাশাপাশি তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোর জুরিতে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত বইগুলির মধ্যে বিশেষ করে ‘ইন্ডিয়া: রিফ্লেকশনস ইন কালার’ এবং ‘রিফ্লেকশনস ইন ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট’ উল্লেখযোগ্য। ১৯৭১ সালে প্যারিসে তাঁর কাজের একটি প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ হয়ে অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁ ১৯৭৭ সালে রঘু রাইকে ম্যাগনাম ফটোসে যোগদানের জন্য মনোনীত করেন।
প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৮৪ সালে ‘ইন্ডিয়া টুডে’র সাংবাদিক হিসেবে তিনি ভোপালের রাসায়নিক বিপর্যয় এবং গ্যাস আক্রান্তদের জীবনের উপর এর চলমান প্রভাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র প্রকল্প সম্পন্ন করেন। এই কাজের ফলস্বরূপ 'এক্সপোজার: এ কর্পোরেট ক্রাইম' নামে একটি বই এবং তিনটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা বিপর্যয়ের ২০তম বার্ষিকী, অর্থাৎ ২০০৪ সালের পর ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রদর্শিত হয়েছিল। এছাড়া তিনি ভারতের সংস্কৃতি ও জনগণের উপর আলোকপাত করে ১৮টিরও বেশি বই রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে দিল্লি, দ্য শিখস, কলকাতা, খাজুরাহো, তাজমহল, তিব্বত ইন এক্সাইল, ইন্ডিয়া এবং মাদার টেরেসা। তাঁর ফটো প্রবন্ধগুলি প্রকাশিত হয়েছিল টাইম, লাইফ, জিও, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, সানডে টাইমস, নিউজউইক, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং দ্য নিউ ইয়র্কার সহ আরও অনেক সংবাদপত্র এবং পত্র-পত্রিকায়। তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটোর জুরিতে এবং ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক ফটো প্রতিযোগিতার জুরিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনের করেছিলেন, ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করেছিল।
রঘু রায় প্রয়াত হয়েছেন সম্প্রতি দিল্লিতে ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। বিগত দু’বছর তিনি প্রোস্টেট
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর তিরাশি বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে
নিবেদন করি আমাদের সশ্রদ্ধ প্রণাম।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের
ই-মেল ঠিকানা :
kajalsen1952@gmail.com
দূরভাষ যোগাযোগ :
9835544675





