![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৮ |
উঁচু পর্বতের জল
তুমি তেমন একটা পাহাড় হও
যে
পাহাড়গুলো শীতকালে
বরফ
জমিয়ে রাখে!
সেই
বরফ গলে জলধারা নেমে আসে
অন্য
ঋতুতে— গ্রীষ্মকালে—বসন্তকালে,
না
হলে নদী শুকিয়ে যেত,
চারণভূমিতে
বীজবোনা ও ফলনের স্বপ্ন
—বেঁচে
থাকত না!
তুমিও
তেমনি হও আমার জন্য—
আমি
যেন তুরীয়ানন্দ ও প্রণয়তৃষ্ণায়,
সমুদ্রের
জল বাষ্প হয়ে থাকা— বরফ হয়ে থাকা
উঁচু
পর্বতের জল পাই!
অগ্নিদগ্ধ
ও মনভাঙার দিনে—
কাঁকুরে—পাথুরে
মাটি ভিজিয়ে তুলতে পারি!
নিজের কাছে
নিজের কাছে নিজে স্পষ্ট হও
ভেক
ধরে নেক নজরে আর কত থাকবে?
নিজের
কাছে কতটুুকু সৎ থাকো?
কুক্কটও
ডাকে ভোরবেলায়
শিয়ালের
ডাক নকল করে!
ছিদ্রানুসন্ধানী
হয়ে ওঠ—
নিজের
ছিদ্র দেখতে পারো না!
নিজের
কাছে নিজে কতটুকু সৎ থাকো?
আত্মপ্রতারণা
প্রতারণার পরগণা বাড়িয়ে তুলছে!
দেখো,
বেলফুল ফুটে আছে
বেলগাছ
অস্পষ্ট হয়ে নেই!
দেখো,
সজনেফুল ফুটে আছে
সজনেগাছ
অস্পষ্ট হয়ে নেই!
দেখো,
জুঁইফুল ফুটে আছে
জুঁইগাছ
অস্পষ্ট হয়ে নেই!
তুমি
যে কখন কী হয়ে ফুটে থাকো!
যার
সঙ্গে রাতবেলায় একবিছানায় ঘুমাও,
সে-ও
সকালে উঠে তোমাকে চিনতে পারে না!
ইচ্ছেশক্তি
যিনি নিজের ভেতর বিপ্লব ঘটাতে পারলেন না
তিনি
নিজে বিপ্লবী পোশাক পরে আছেন!
এঁটো
খেয়ে ইতরামি হবে
বিপ্লব
হবে না!
এঁটেল
মাটিতে লাঙল চালাতে হলে
পায়ে
জোর লাগে,
বন্ধ
দোর খুলতে হলে
হাতে
জোর লাগে!
নিজের
বোতলে নিজেকে আটকে রেখে
নিজেকে
মুক্ত করতে পারোনি,
অন্যকে
কীভাবে মুক্ত করবে?
ইলিশ
মাছ ধরতে হলে—
পদ্মার
ঢেউয়ের ভেতর থাকতে হয়,
অনুদাস
হলে ইচ্ছেশক্তি—
হাত
চুলকাতে চুলকাতে শেষ হয়ে যাবে!
নিজের ডার্কসাইট
নিজের ডার্কসাইট দেখি না!
সেখানে
ফেলি না কোনো আলো!
স্যাঁতসেঁতে
জায়গায় আমার অনেকাংশ পড়ে আছে,
কালিঝুলিপূর্ণ!
পরিষ্কারও করি না!
সেখানে
গন্ধমুষিক হাঁটাহাঁটি করে!
নিজ
হাতের ওপর থুতনি রেখে
নিজের
ডার্কসাইটে মেলি না চোখ!
আমিও
তো ধিঙ্গি!
ধূর্তামি
ও ফেরের ফন্দিতে
আমিও
ভুঁইফোঁড়!
শঠতা
ও জুয়োচুরিতে করি কারসাজি!
নিজেরও
ঘাড় মটকিয়ে রাখি মটকায়!
ডার্ক
এনার্জিতে তা তলিয়ে যায়!
ব্লাকহোলে
ঢোকার পরও
সংবেদ
নেই!
দৃকশক্তি
ব্যয় করি কীসে?
বাদ্যযন্ত্র
বাজাতে বাজাতে
কতটুকু
দৃশ্যমান করি পর্বতের চূড়োয় নিজেকে!
কূটনৈতিক মিশনের লোক নই
ছলাকলা-কপটতা ফন্দিফিকিরের
পূর্বজ্ঞান
দরকার নেই,
উত্তরজ্ঞানও!
সরলতা
নিয়ে- সরল রাস্তায়
যতটুকু
চলা যায়,
আমাদের
সেটাই সৌন্দর্য!
পাখা
লাগিয়ে উড়তে—
পারংগম
না হলেও চলে,
আমি
তো মুকুটধারী রাজা নই
সিংহাসন
রক্ষা করতে হবে!
তোমার
সাথে যে সম্পর্ক
তা
যত খোলতাই হবে,
ততই
আলো ও রোদ এসে পড়বে উঠানে
চারাগাছগুলো
হয়ে উঠবে তরতাজা।
তোমার
সাথে চুক্তির কোনো বালাই নেই—
বিশ্বাস
ও আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছি
পাহাড়
চূড়োয়!
ভূকম্পন
টলাতে পারবে না—
ধুরন্ধর
হলেই অন্দরমহল চুরমার হয়ে যাবে!
সবকিছু
সাজিয়ে গুছিয়ে
পা
ফেলা ও কথা বলা তো কূটনৈতিক সম্পর্ক,
তোমার
সাথে সে সম্পর্ক নয়!
কৌশলে
কৌশলে
শুধু
স্বার্থ উদ্ধারের পর— তা নৌকো ভর্তি করে নিয়ে
নদী
পার হতে পারবো না!
দূত
ও কূটনৈতিক মিশনের লোক নই—
রাগ,
অভিমান ও সরলতা থাকবে আমাদের;
শুধু
কূটনীতির কারণে ঠোঁটে হাসি রেখে
দুঁদে
হয়ে আরও খুদে হয়ে যাবো কেন?

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন