কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ১৪৬

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / সপ্তম সংখ্যা / ১৪৬

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

তথাগত চট্টোপাধ্যায়

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৯

 

 

অন্য ঋতু

বারান্দায় টবে রাখা গাছে জল দিতে দিতে থেমে গেলেন মধুমিতা। ভীষণ অস্বস্তি লাগছে। আজকাল এরকম প্রায়ই হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই শরীরের ভেতর যেন আগুনের ঢেউ বয়ে যায়।

ঠিক তখনই ভেতরের ঘর থেকে অরুণ বললেন, “চা হবে?”

“এখন না। চায়ের জন্য এত অস্থির হয়ে যাও কেন বল তো? হাতের কাজটা শেষ করে নিই…” মধুমিতার উত্তরটা এল একটু তীক্ষ্ণ গলায়। অরুণ কিছু বলতে গিয়েও বললেন না।

ইদানীং এটাই হচ্ছে। কখনও অরুণের স্নানে একটু দেরি হলে, কখনও বিছানার বালিশ একটু এদিক-ওদিক থাকলে, আবার কখনও সামান্য একটা কথারও অন্য মানে করে। তারপর রাগ, অভিমান, খিটখিটে আচরণ। কিছুক্ষণ পরেই যেন কিছুই হয়নি।

পঁচিশ বছরের সংসারে এমন মধুমিতাকে আগে দেখেননি অরুণ। প্রথম প্রথম তিনিও জবাব দিতেন। কিন্তু বদলাচ্ছিল না কিছুই। তাতে ঝগড়াই শুধু বেড়েছে।

সেদিন রাতে মধুমিতা ঘুমিয়ে পড়ার পর তার পাশেই শুয়ে মোবাইল খুলে সার্চ বক্সে অরুণ লিখলেন– ‘মেনোপজের লক্ষণ…’

কয়েক মিনিট পর মোবাইলের আলো নিভিয়ে ঘুমন্ত মধুমিতার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন অরুণ।

পরদিন সকালে মধুমিতা চায়ের জন্য জল বসাতেই অরুণ বললেন, “আজ তুমি নয়, চা আমি করি”।

মধুমিতা অরুণের দিকে তাকালেন। চোখে বিস্ময়।

 

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন