কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / পঞ্চম সংখ্যা / ১৪৪

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / পঞ্চম সংখ্যা / ১৪৪

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

রিমি দে

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৯

 

নয়ন ভরা জল

মাঠটির কাছে যাবার জন্য মন আজকাল ব্যাকুল হয়ে ওঠে। মাঠটির ভেতরে সরু বা চওড়া কোন হাঁটাপথ তৈরি হয়নি। কাজেই মাঠটির মধ্যেই জমা আছে আলপথের হাওয়া, প্রথম রজনীগন্ধার ঘ্রাণ এবং জ্যোস্নামাখা উত্তেজনা। যা কিছু পাখির বাসা তার সবটাই এই নীল গোপন ঝোলায় রাখা আছে। ঝোলাও কখনও কখনও মাঠ খোঁজে।

কচি দূর্বা ঘাস আজ আর চোখে পড়ে না । মোটা ঘাস ভরা। মাঠটি কালজানি নদী থেকে অনেকটা দূরে। মাঠের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক ছিল না। তবু নয়ন কোন না কোন অজুহাতে চলে যেত নদীর কাছে। নদী আর মাঠ, মাঠ আর নদী করতে করতে মন অস্থির হয়ে উঠত। পাগল মন বাদল খোঁজে। সেই খোঁজও খেলার মতো। কোন এক বৃষ্টির দিনে নদীর জল নিয়ে খেলতে খেলতে একদিন নদীই এই নয়নের উপর চেপে বসল। ব্যাস, আর কী! সে কুলুস্বরে বয়ে যায়। নিজেই নিজের খেয়ালে চলে। আপনভোলা। নুড়ি পাথরের বিড়ম্বনা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জীবনকে সে সাজিয়ে নিয়েছে। বলা যেতে পারে সব এলোমেলোভাবে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই রেখে দিয়েছে যত্রতত্র। সেই সাজানো কে পছন্দ করল, কে করল না তাতে তার কিছুই এসে যায় না।

আজকাল সে নদী থেকে উঠে এসেছে। ভিজে শরীর শুকিয়ে গেছে। সে এখন বেড়ায় রাস্তাঘাটে। প্রিয় মাঠটি

তাকে দেখে। খানিক লজ্জা পায়। রাঙা হয়ে ওঠে। মাটিতে নয়ন জড়োসড়ো হয়ে বসে। সে কখন যে কী চায়, কীই বা খোঁজে নয়ন তা নিজেও জানে না।

শীত আসছে। তবুও তখনও তেমনভাবে বিকেলটা সাজাতে পারেনি নয়ন। আসলে নয়ন যা চায়, জগৎ সেসব

দেখাতে অপারগ।

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন