![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৯ |
নিবছে আলো
ছ্যাতলা পড়া হৃদয়গুলো
স্যাঁতস্যাঁতে এক গন্ধ নিয়ে
বন্ধ ঘরে হুড়কোগুলো
দিচ্ছে, দেখছে রন্ধ্র দিয়ে
তেল কে মাখায় কার টাকেতে
কার ঘায়ে কে দিচ্ছে মলম
কার কাঠি আর কার ঢাকেতে
পড়ছে। চোখের চামড়া নরম
হচ্ছে দ্রুত। ভিজছে না কেউ
প্রেম বিরহে। মোটেই ভালো
বাসছে না, আর ডাকছে যে ফেউ
'সামাল সামাল, নিবছে আলো'
সামাল সামাল, নিবছে আলো...
দু:খরা সব কার কাছে যায়?
যেই আকাশে মেঘ ভেসেছে দু-একখানা
নরম পেঁজাতুলোর মতো মেঘ ভেসেছে
নীল রঙে কেউ রাঙিয়ে গেছে আকাশটাকে
ওমনি দেখি, বড্ড সাদা বকের ডানায়
রোদ হেসেছে, রোদ এসেছে, রোদ ভেসেছে।
দু:খরা সব কোথায় গেল কোন ঠিকানায়?
হঠাৎ করেই বিছিয়ে দিয়ে সুখের পাটি
বুকের আগল কে খুলে দেয় এ নির্জনে?
বাঘবন্দি
(১)
দুই চোখে তার অশ্রু ঝরে
অশ্রু, না কি রক্তপাত?
এই হাতে তার হাত ধরেছি
অন্য হাতে বর্শা থাক
(২)
বাঘ ধরেছে হরিণীকে
বাঘের পিঠে বর্শা ঠিক
যেই ছুঁড়েছি, অমনি সে বাঘ
ছুট লাগালো দিগ্বিদিক
(৩)
দিগ্বিদিকে জাল ছড়ানো
কে জানে কে পাতলো ফাঁদ
রহস্যময় অন্ধকারকে
ছিঁড়ছে একটা মস্ত চাঁদ
(৪)
চাঁদ নয় সে, মশাল জ্বলছে
রাত্রি চিরে হচ্ছে ভোর
বাঘ গেঁথেছি বর্শাতে, আর
রক্ত চোখে কাটছে ঘোর
আদিম
পালাচ্ছ আর পালাচ্ছ আর পালাতে পালাতে খাদের ধার;
সামনে অজানা আগামী এবং পিছনে অতীত কী ক্ষুরধার!
জীবনকে বুঝি রূপকথা ভাবো? লড়াইয়ের সে যে আদিম মাঠ!
কার কার সাথে রণং দেহি হে! শেষ তরী বাঁধা, দেখনি ঘাট?
চাওয়াগুলো খুব সাধারণ ছিল। ছাদ চেয়েছিলে। গরম ভাত।
বাঁচতে চেয়েছ নিজের শর্তে। ধরেছিলে বুঝি নিজেরই হাত?
অতীতের পথ আঁধারে ঢেকেছে, আগামীর পথ অন্ধকার।
ঝড় পেরিয়ে যে ঘর খুঁজে পেলে, দরজাটি কেন বন্ধ তার?
ঘর ও ঈশ্বর
ঘর বলতে তোমায় বুঝি...
অন্ধকারে পথ ঢেকেছে যখন আমার
একটা আলোও কোত্থাও নেই
ফেরার পথটি খুঁজতে খুঁজতে
আটকে গেছি খাদের ধারে
এমন সময় তুমিই এলে–
একটা দুটো পাড়লে তারা,
সাজিয়ে দিলে পথের পাশে
সেই আলোতে সঠিক দিশায়
চোখ ফেরালাম যেই
দেখতে পেলুম, বুকের কপাট হাট করেছ
দাঁড়িয়ে আছ একলা একা
পথের শেষে
ঘর বলতে এই-ই
আমার ঘর বলতে এই।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন