![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৯ |
ঋতু
কাল রাতে খুব বৃষ্টি এল বৈশাখের
ঘুম ভাঙা চোখ আলোয় অন্ধকারে
মাটির প্রথম ঋতুস্রাবী ঘ্রাণ
তখনও তুমি পাশেই নিদ্রায়।
সকাল থেকে তপ্ত ছিল হাওয়া
ভিনদেশী এক মেঘ বানালো বাড়ি
ঘুলঘুলিতে চাঁদের প্রচ্ছায়া
স্নান সারছে আঁজলা মাত্র জলে।
হাতের উপর শীতল কবুতর
ঝড় কি তবে তোমার মত বয়?
মাধুকরীর পোষাকখানি পর
শিথিল রাখো প্রস্ফুটনের রঙ
পাশ ফিরে যে ঘুমিয়ে আছে, কাদা
ভেজা মাটির কম কিছু নয় জ্বালা।
বেপথু স্কুইড
একটি তরঙ্গ থেকে দ্বিতীয় তরঙ্গের দিকে বহে যেতে যেতে
জলের যে স্থিতাবস্থা আছে বলে মনে হয় তার
সেইখানে এসে শ্বাস ছাড়ে বেপথু স্কুইড,
এই বুঝি শেষ হল স্রোতের আঘাত
বালুকার ওলট পালট আর ভূমিবর্তী টান
ঢেউ তাকে আকাশের দিকে তুলে ধরেছিল
সূর্যপ্রণাম শেষে নামিয়ে আনবে বলে অধুনা তরঙ্গহীন
নিরাপদ জলে, মায়ের আঁচলে
গভীর সমুদ্রের দিকে এইবার পুনর্যাত্রা শুরু হতে পারে
ওইখানে ফিরে যেতে হবে।
দ্বিতীয় তরঙ্গ এসে পুনরায় ছুঁড়ে দেয় তাকে
আঁচলের ওম থেকে জরায়ুবিক্ষেপের দিকে।
প্রথম তরঙ্গ থেকে দ্বিতীয় তরঙ্গের দিকে
জলের যে স্থিতাবস্থা আছে বলে মনে হয়েছিল
সেখান থেকে জন্মমুহূর্তের আলো ডেকে নেয় তাকে।
কবির আলো, কবির অন্ধকার
কবি রাষ্ট্রকে বেনারসি পরিয়ে
নিয়ে যাবে ফটোগ্রাফারের কাছে,
কবি হবে দিনের চাঁদ আর রাত্রের সূর্য
কবি হবে রাষ্ট্রের লেফট রাইট জুতো-
পেট চিরে নেওয়া বেয়নেট।
কবি হবে প্রধানমন্ত্রীর কোটেশন
শকুন্তলার মধ্যমা, গান্ধারীর চোখ,
কবির যাওয়ার পথে রোদ হেঁটে যাবে।
কবি হবে হাইওয়ে, অভয়ারণ্যে কবি
বাঘ হবে, ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবি
ডোরা দেখে চিনে নেবে সেই বাঘ চেনা বাঘ কিনা!
রাজপথ ছেড়ে আলপথ বেছে নিলে
রাষ্ট্র ছোবল হবে, কবির চলার পথে
অন্ধকার সাথী হয় যদি
রাষ্ট্র ফাঁস হবে, রেডিও কলার হবে
শ্বাস চেপে বসে যাবে কবির গলায়। তবু
জঙ্গলের দশ দিক থেকে
কবির সংকেতগুলি অবিরত বেজে যাবে
বেজে যাবে বেজে যাবে বেজে যাবে

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন