কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / পঞ্চম সংখ্যা / ১৪৪

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / পঞ্চম সংখ্যা / ১৪৪

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

অভিজিৎ বসু

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৯

 

মুঠো ভর্তি নুন

বাইরের জগতে দলছুট আটপৌরে জীবন। যতদূর চোখ যায় বুড়ো মাকড়সারা বুনছে মায়াজাল। মাটির নরম শরীরে হাত।

: রোদ্দুর কোথায়?

বুকে বুনো ভালোবাসা। দুপাশে তার ছায়ার প্রলাপ। অ্যাই অ্যাম এ নিউ পারসন। পাতায় লুকানো চুমু। প্রতিনিয়ত সোনালী মৃত্যুর জন্ম হতো এখানে।

: তখন সেমন্তি বলতো, নীল জোনাকি আর জলের গভীরে শূন্য দিনের কতোটা টান। তবুও মৃত্যু ফেরি করে শহরের সব প্রতিষ্ঠান। আকাশের দিকে তাকিয়ে রক্তের টানে আত্মহত্যার স্ক্রিপ্ট একবার অন্তত পড়ে দ্যাখো।

চোখ আটকে যায়। চরকির দিকে ঘুরে ঘুরে উন্মাদ রাতের পাগলাটে উদযাপন। ছিটকে যায় ভিখিরি ঘুম।

বহুদিন পর দেয়ালে হেলান দিয়ে সেমন্তি। আহা ঈগলের চোখে হোটেল ক্যালিফোর্নিয়ার দর্শন। অন্ধের মতো শক্ত করে কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা ফোটন কণা। তারপর এক দৌড়ে জারুল ফুলের ঘ্রাণ আর চুমুটুমু।

একাকী নিয়তি বলবে না। কচি কবিতা রজস্বলা উরুর টুকরো নিয়ে ভরাট বুকের অসহ্য আরাম। নীলাভ শৈবালে নীল দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে শোকের প্লটে। প্রতিদিন ডানা কেটে কেটে বিনির্মাণ আগুনের নৌকো। অন্তর্বাস, মৃত্যু, ঘরগুলোতে পাখির নিদ্রা। পায়ের নিচে ঘাসের হলদেটে সকাল। এ একপ্রকার ভাঙনের প্রতিবাদ।

কালোচুলের বিকালে সেমন্তির বুকের গভীরে, আরও গভীরে, তারচেয়ে খুব গভীরে, ছটফটানির বিষণ্ণ অনুভব। ঈশ্বরও থমকে যায়।

: তুমি কি ভয় পাও?

মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন।

সেমন্তির সামনে নতজানু হয়, ফালি ফালি করে আহত চোরাকাঁটা রাত। ধূলো আর স্ট্রেট বহুদূর অপেক্ষার প্রহর। খাম ভর্তি পাগলাটে বোতল নেশায় ভরপুর।

নুন ঘাম শরীরের নীল মেরুদণ্ড দিয়ে নিচে নেমে আসে। তারপর কট হাতের মুঠোয়।

চুলে গেঁথে আছে ধ্যানমগ্ন মরণ। আর শালা রাজ্যের সব সর্বনাশ, চোখে সেমন্তি।

ধীরে ধীরে চামড়া খসখস হয়ে ওঠে। শিরা উপশিরায় বনি এমের রাসকিন গান। তীব্র আলোয় জ্বলতে থাকে সব।

তখনই স্থবির হয়ে ওঠে চারপাশ, ব্রাইটনেস বাড়তে বাড়তে গোপন খবরে সারাগায়ে নখের আঁচড়। ন্যাংটো উদোম শরীরে জিভের ভেতরগত বিষের ধাক্কা।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার মতো, আমি যাকে ভালোবাসি সে অন্তত গোপনে মেরেছে সহস্রবার।

চোখ বুজে বুজে ডুবে যাচ্ছে শোকের শরীর। সবানের জলে নীল মুখোশ। বাবুই পাখির বাসা, ড্রয়িংরুমের আয়নার সামনে। যদি সুখ আহা সুখ পাওয়া যেতো কখনও।

সেমন্তি লেবুর জলের মতো স্বচ্ছ হয়। এমনভাবে হয় ছায়ার ঘুম জেগে উঠতে চায়। সেমন্তির হাসি ভালো লাগে। ওর দেওয়া বুকের ওপর আঁচড়ের দাগ। মদের গন্ধ মাখানো পার্কিং করা মেজাজ। সেমন্তি হাত ধরে টেনে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। শরীরে বৃষ্টির ফোঁটা আর মুঠো ভর্তি নুন।

:সেমন্তি প্রশ্ন করে, রাত পোহালে কি আমায় জড়িয়ে ধরবে?

মুঠো ভর্তি নুন চোখে নীল মেঘের মৃত্যু বিন্যাস। হাতটা জোরে আরও জোরে চেপে ধরে। পথ বুনেছে ঘুম? পাথর ভেঙে ভেঙে ধুলো জমেছে ঊরুর ভাঁজে।

: সেমন্তি মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলে, মুঠো ভর্তি নুন দিয়ে প্লিজ আমার বাম চোখটা তৈরি করে দাও না!

 

0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন