কালিমাটি অনলাইন / ১৪৪ / চতুর্দশ বর্ষ : পঞ্চম সংখ্যা
প্রাণীজগতে মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, কেননা একমাত্র মানুষই সমাজ সভ্যতা সংস্কৃতি শিক্ষা প্রযুক্তির সূচনা করেছে এবং নিরবধি তা বহন করে চলেছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, প্রাণীজগতের অন্যান্য প্রাণীকে হীন দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতাও মানুষ বহন করবে। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে তাই, এবং তারই জন্য মানুষের মনুষ্যগত ভুল ত্রুটি এবং মনুষ্যত্বহীনতার জন্য তাকে অন্যান্য প্রাণীদের সঙ্গে তুলনা করে হয়ে থাকে। আমরা ভুলে যাই, অন্যান্য প্রাণীরা যেসব আচরণ করে থাকে, তা তাদের একান্ত নিজস্ব প্রাণীগত বৈশিষ্ট্য। তারা কখনই তাদের প্রাণীগত বৈশিষ্ট্যকে অতিক্রম করে না। মানুষ কিন্তু তা করে, অনেকক্ষেত্রেই মনুষ্যত্বের সীমা লঙ্ঘন করে। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে, অন্যান্য মানুষেরা তখন তাকে বিভিন্ন প্রাণীদের সঙ্গে তুলনা করে। এটা নিতান্তই মিথাচার, নিন্দার অযোগ্য ব্যাপার।
আমি যেহেতু ‘কালিমাটি অনলাইন’ ব্লগজিনের সম্পাদকীয় লিখতে বসেছি, কোনো প্রবন্ধ বা নিবন্ধ নয়, তাই এই বিষয়ে বিশদভাবে বিশ্লেষণ এবং আলোচনা করার পরিসর নেই। তাই সরাসরি প্রবেশ করি বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে। আমরা জানি যে, আমাদের মধ্যে অনেক অনেক মানুষ আছে, যারা অত্যন্ত জ্ঞানী, গুণী, বুদ্ধিমান, মেধাবী। তাদের আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। কিন্তু সব মানুষ তো আর সমান মেধাবী বা গুণী হতে পারে না। বিভিন্ন কারণে এবং পরিস্থিতির দরুণ তারা মধ্যমেধা সম্পন্ন হয়। আবার কিছু মানুষের মেধার স্তর আরও নিম্ন হয়, যাদের অনেকক্ষেত্রে বোকা বলে সম্বোধন করা হয়। বিশেষত তাদের উপমিত করা হয় দুটি প্রাণীর সঙ্গে – গরু এবং গাধা। যেমন ‘তুই/তুমি/আপনি একটা গাধা’, ‘তোর/তোমার/আপনার মাথায় কোনো বুদ্ধি নেই, গাধা পিটিয়ে তো আর ঘোড়া করা যায় না’, ‘গাধার মতো কথা বলিস না’ ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একথা কীভাবে বলা যায় যে, গাধার কোনো বুদ্ধি নেই? এটা একেবারেই মানুষের ভুল ধারণা। বরং গাধা কোনো বিপদে অন্যান্য প্রাণীদের মতো ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় না, সে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। এটা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সেইসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় তার শক্তি এবং সহনশীলতার কথাও। গাধা একদিকে যেমন প্রচন্ড গরমে থাকতে পারে, অন্যদিকে যেখানে জলের নিতান্তই অভাব যেমন মরুভূমিতেও বেঁচে থাকতে পারে। কেননা এদের বড় কান শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর বহন করতে পারে বিশাল ওজনের সামগ্রী। সমতলে বা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অথবা বালুচরে – সর্বত্র। গাধার এই শক্তি ও সহনশীলতার সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে মানুষের অমানুষিক পরিশ্রম বা খাটুনির সঙ্গে, বলা হয় ‘গাধার খাটুনি’। গাধার স্মৃতিশক্তিও প্রখর। একবার যে রাস্তায় যাত্রা করে, দীর্ঘদিন পরেও তা তার স্মৃতিতে থেকে যায়। ডাক্তারবাবুদের অভিমত, গাধার দুধ নন-এলার্জিক এবং শিশুদের পেটের সমস্যার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
মরুভূমির প্রাণী গবেষক ড. আর্ক রাজিক মানব সভ্যতায় গাধার এই অসামান্য অবদান সম্পর্কে ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০১৮ সালে ৮ মে সূচনা করেন বিশ্ব গাধা দিবস। অবশ্য তারও আগে ব্রিটিশ প্রাণীকল্যাণ কর্মী আগে ডঃ এলিজাবেথ সভেনসেন ১৯৬৯ সালে ‘দ্য ডঙ্কি স্যাংচুয়ারি’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একদিন একটি বাজারে সাতটি অবহেলিত গাধার প্রতি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষিত হয় এবং সেদিন থেকেই গাধাদের প্রতি তাঁর আজীবনের নিষ্ঠার সূচনা হয়। তিনি গাধাদের উদ্ধার করেন এবং তাঁরই নিরলস চেষ্টা ও পরিশ্রমে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ‘দ্য ডঙ্কি স্যাংচুয়ারি’ একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়, যা সারা বিশ্বে গাধাদের কল্যাণ এবং জনমানসে গাধাদের সম্পর্কে ধারণার পরিবর্তন এনেছে।
সবাইকে জানাই আমাদের আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধা।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের ই-মেল ঠিকানা :
kajalsen1952@gmail.com
দূরভাষ যোগাযোগ : 9835544675

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন