রাজকুমারী ও বারো জোড়া জুতো রূপকথার নাম
এখনও আদিম জনগোষ্ঠীগুলিতে একজন গল্পকার থাকে, তারা যখন সন্ধেবেলা আগুনের চারপাশে বসে কাউকে তাদের কাহিনি শোনাতে বলে, গল্পকার তখন তার ছোটবেলায় শোনা গল্প বলতে থাকে। কখনও হয়ত সৃষ্টিশীল মনের গল্পকার নিজের সৃষ্ট কোন গল্প বলে অথবা কোন গল্পে নতুন কিছু উপাদান যোগ করে। প্রাচীন গোষ্ঠীগুলিতে কাহিনি এমনকী বিক্রি করা হয়, অষ্টাদশ শতাব্দী অবধি এই প্রথা আলাস্কা ও অন্যান্য দেশে চালু ছিল। এই কাহিনিগুলি এমনকী অবাধভাবে প্রাপ্তিতেও নিষেধাজ্ঞা ছিল, আর আরো কম স্বাধীনতা ছিল নিজের মর্জিমতো তাকে পাল্টানোর। কিছু কিছু কাহিনি কিছু কিছু পরিবারের নিজস্ব সম্পত্তি হয়, এবং উৎসবের সময় তা তারা তাদের বন্ধুদের ধার দেয়। আর অন্য কারোর সেই গল্প বলার অধিকার থাকে না। যদি বলতে হয় তো তার অনুমতি পাওয়ার জন্য প্রচুর মদ বা এমনকী টাকাও দিতে হয়। এটা কোন গোষ্ঠীর বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে বিবেচিত হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অস্ট্রিয়ার রূপকথার সংকলনের ভূমিকায় তার সংগ্রহকার ক্যাথলিক পিতা ব্রামবার্জার বলেছেন তিনি তার মোট সংগ্রহিত কাহিনির এক-চতুর্থাংশই পেয়েছিলেন এক বৃদ্ধা ভিখারিনীর কাছ থেকে যে গ্রামে গ্রামে জুতোর ফিতে ও হাবিজাবি ফিরি করে বেড়াত। যখনই সে আসত, বাচ্চাদের এককোণে নিয়ে গিয়ে কাহিনি শোনাত, কিন্তু কোন বয়স্ক মানুষের তা শোনার অধিকার ছিল না। গল্প বলার বিনিময়ে সে খাবার চাইত। এভাবেই সে তার জীবননির্বাহ করত। এমনকি পিতা ব্রামবার্জারকে তাকে অনেক সসেজ দিতে হয়েছিল এবং তবেই তিনি বাচ্চাদের সঙ্গে বসে সেই গল্প শুনে লিপিবদ্ধ করার অনুমতি পেয়েছিলেন।
তাই, তাদের উৎপত্তি ও বোঝার মধ্য দিয়ে যেভাবে তারা হস্তান্তরিত হয়, কোনো ব্যক্তির কোনো বিশেষ দর্শন বা সক্রিয় কল্পনা যদি তার ব্যক্তিগত গূঢ়ৈষা হিসাবে এর মধ্যে মিশে যায়, এবং তার ফলে যদি কাহিনিটি পুরাবিন্যাসের ছকের থেকে সরে যায় তাহলে সেই অংশগুলি পরিত্যাগ করা হয় বা পুনরায় কাহিনিটি বলার মাধ্যমে ঠিক করে নেওয়া হয়। যে বস্তুগুলি যৌথ চেতনের মানসে স্থান না পায় তা বেশিদিন টেকে না।
একবার আমেরিকার একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক একটি পরীক্ষা করেন, তিনি শ্রেণিতে গিয়ে পড়ুয়াদের আধুনিক একটি খুব ভালো ছোট উপন্যাস পড়ে শোনান এবং তারপর তাদের একটি রূপকথাও পড়ে শোনান। কিছুদিন পরে তাদের যেরকম মনে আছে তাই মন থেকে লিখতে বলেন। দেখা যায় পড়ুয়ারা যতটা রূপকথাটি মনে রেখেছে তার তুলনায় সেই ভালো উপন্যাস মনে রাখার মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য।
সুতরাং দেখা গেল যে, রূপকথার মধ্যে এমনকিছু বিন্যাস থাকে যা সকলের অবচেতনে স্থান করে নেয়, আর তার ফলে অনেক স্থায়ীভাবে তা মনে থেকে যায়। আমরা এখন জানি যে আবেগের সঙ্গে স্মৃতির বিশেষ যোগ রয়েছে। আবেগ যত প্রবল ততই তা স্মৃতিতে প্রজ্জ্বল। তাই যে সমস্ত রূপকথারা যৌথচেতনের গঠনকে ব্যক্ত করে তারা আবেগকে যত বেশি ছুঁয়ে যায়, ততই বেশি মনে থেকে যায়। এর অন্যথায় যেসব কাহিনিতে ব্যক্তিগত সমস্যা বা জটিলতার ছাপ থেকে সেগুলি সেই সেই সমস্যার লোকের বৃত্তেই কেবল টিকে থাকে।
এরপর আসে পুনরায় পরীক্ষা করে নেওয়ার যৌথক্রিয়া। যদি গ্রামের কোনো সরাইখানায় কোনো নতুন ব্যক্তি আসে তো সেখানকার লোকেরা বলে, একটা গল্প শোনাও। এবার সেই ব্যক্তি যদি অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেই হোক বা বেশি ভাবপ্রবণ অবস্থায় কাহিনিতে কোনো কিছু বাদ দেয় বা অন্যরকম কিছু যোগ করে তবে সকলে বলে ওঠে, না গল্পটা ওরকম না বরং এইরকম। আমার বাবা বরাবর আমাকে এইভাবে গল্পটা বলে এসেছেন। এবং তা নিয়ে কখনও কখনও বেধে যায় ঝগড়া। বাচ্চাদের রূপকথা বলতে গেলেও একই ব্যাপার ঘটে। গল্পে পরিবর্তন করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তৎক্ষণাৎ তারা বাধা দেবে। তারা যেমন সবসময় শোনে একমাত্র সেভাবেই তারা তা শোনার জেদ ধরে বসে। সুতরাং এটা একটা প্রথার মতো।
লোকসমাজে তাই দুধরনের শক্তি কাজ করে। একটি ব্যক্তিগত ছাপওয়ালা কাহিনিকে পরিত্যাগ করে যারা সাধারণ জনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এবং আর একটি কাহিনিকে অটুট রাখে, গল্পটি যেমন তেমনভাবেই তোমাকে বলতে হবে।
এই দুই পদ্ধতিতে পুরাবিন্যাসের ধ্রুবত্ব বজায় থাকে। পুরাবিন্যাসকে ব্যক্তিমানসের “ধ্রুব চরিত্র” বলা যায়। এটি প্রবলভাবে রক্ষণশীল, এবং ব্যক্তির সমস্যার দ্বারা ঘটিত খাদগুলিকে এটি সবসময় অপসারিত করে। সাধারণ যৌথ অবচেতনের ক্রিয়াগুলি প্রতীকী প্রতিমার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করে সম্পূর্ণরূপে গঠিত বিষয়গুলিতে, বলতে গেলে রূপকথায়। যেহেতু রূপকথা এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সে নিজেই নিজেকে স্বাভাবিকভাবে পুনঃপ্রকাশ করে চলে, তাই তারা যৌথমানসকে বোঝার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়।
এখানে আশ্চর্য হওয়ার মতো একটি জিনিষ রয়েছে। যখন অপরসায়নের প্রতীকী বস্তুগুলির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলাম তখন কার্ল ইয়ুঙের ‘মনস্তত্ত্ব ও অপরসায়ন’-এ উল্লেখিত একটি গঠন জেনে অবাক হয়ে গেছিলাম। সেটি হল ‘মণ্ডলাকার’, চতুর্ভুজ গঠন। এবং ব্যক্তি-রূপায়ন প্রক্রিয়ার মূলগত গঠনকে ‘সচেতন’ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বলে জানলাম। রূপকথাতেও আমরা এই ব্যক্তি-রূপায়ন প্রক্রিয়ার উপাদানগুলি পাই, অথবা তার ক্রমগুলিকে যা মানবের ব্যক্তি-রূপায়নের সঙ্গে এর স্পষ্ট সমান্তরালভাবে চলে।
কিন্তু কিছু কিছু রূপকথায় অসন্তোষজনক কিছু টান থাকে। এই খিট আমাদের এই ড্যানিশ গল্পে হয়তো তেমন বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু জার্মান কাহিনিটি অনেক বেশি স্পষ্ট। তাই ঐ কাহিনিটিকে আমার খুব একটা পছন্দ হয়নি। কাহিনিটিতে আছে যে, রাজকুমারেরা যাদের সঙ্গে বারোজন রাজকুমারীরা নাচত, তাদের সবাইকেই অপার গহিন থেকে রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। এখানে তাদের নাচা নিষিদ্ধ করা হয়। আমাদের গল্পের বিপরীতে সেই রাজকুমারদের হত্যা করা হয় না। বলা হয় যে তাদের ততদিন অবধি শাপগ্রস্ত হয়ে থাকতে হবে যতদিন ধরে তারা রাজকুমারীদের সঙ্গে নেচেছিল। এখন তারা তো মানুষী সত্তা, রাজকুমার, তার মানে উচ্চতর মানবসত্তাকে এখন কালা জাদু দিয়ে বশীভূত করে রাখা হল। তারা শুধু রাজকুমারীদের সঙ্গে অনেকদিন ধরে নেচেছিল, এবং তার জন্য এখন সাজা পেল, এই বিষয়টাকে কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। একটা ভাল না লাগা সমাপ্তি। আবার কাহিনির নায়ক হল একজন বৃদ্ধ সৈনিক যে কীনা সবচেয়ে বড় রাজকন্যাকে বিবাহ করল, যাও সাধারণত দেখা যায় না। নায়ক সবসময় নবীনতম, সরল ও সর্বাপেক্ষা মেয়েটিকেই বিয়ে করে। জার্মান গল্পে বৃদ্ধ সৈনিক কিছুটা বিষণ্ণভাবেই বলে, ‘ যেহেতু আমি এক বুড়ো, আমি বয়ঃজ্যেষ্ঠা রাজকুমারীটিকেই বিয়ে করব’। এটা সম্পূর্ণভাবেই অস্বাভাবিক। আরো অসন্তোষের বিষয় যে, কাহিনিটিতে কনিষ্ঠা রাজকুমারীই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, সুতরাং রূপকথার থেকে এই আশাই রাখা হয় যে তার সঙ্গেই নায়কের বিবাহ হবে।
বেশিরভাগ রূপকথার মতোই সমাপ্তিতে মনে প্রশ্ন জাগা উচিত, তাহলে ওই রাজকুমারদের কী হল? তাদের আর কোনো উল্লেখ নেই। তার শাপগ্রস্ত ছিল, গল্পের শেষেও তারা আবার শাপগ্রস্ত। আমরা জানি না কেন তাদের প্রতি এইরকম আচরণ।
আমাদের ড্যানিশ কাহিনিতেও দুটি অসন্তোষজনক দিক আছে। এখানে আমরা এক অদ্ভুত সাদা মেয়েকে দেখি, কাহিনিটির চলনে যার আর সন্ধান পাওয়া যায় না, এবং এই কাহিনিতে কোনো মাতৃ চরিত্র নেই। এখানে এক রাজা ও তার মেয়ের গল্প আছে, কিন্তু তাদের মা কোথায়? একটি গোটা রূপকথায় কোথাও বাবাকে দেখা যায়, কোথাও মা-কে, কোথাও ছেলে, কোথাও মেয়েকে। এইভাবে কাহিনিটির এই ড্যানিশ সংস্করণে অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়, অন্যদিকে অনেক প্রশ্নের সামনেও দাঁড় করিয়ে দেয়।
তবে এগুলি খুব যে অস্বাভাবিক তাও বলা চলে না। পচাশি থেকে নব্বই ভাগ কাহিনীতেই শেষে এইজাতীয় প্রশ্ন আমার মনে উদয় হয়। ব্যক্তি-রূপায়ন প্রক্রিয়া রূপকথাগুলির মধ্যে কীভাবে কাজ করছে তা বুঝতে গিয়ে দেখা যায় যে তারা তাতে ঠিকভাবে মিলছে না। এই দ্বিধা আমার মধ্যে কাজ করে গেছে যতক্ষণ না ইয়ুং একটি মনস্তাত্ত্বিকদের ক্লাবে আমাকে এর ব্যাখ্যা দেন।
ধরা যাক, অপরসায়নবিদদের কথা, যারা যৌথ অবচেতনের প্রক্রিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিজেদের উপর করতেন। তাদের রাসায়নিকগুলো নিয়ে করা পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলোকে সক্রিয় কল্পনার দ্বারা নিজেদের উপরেই অভিক্ষেপণ করাতেন। বলা যায় যে অপরসায়ন চর্চাও একপ্রকার সক্রিয় কল্পনার ফসল যেখানে লেখা বা ছবি আঁকার বদলে রাসয়নিকগুলো নিয়ে কাজ করা হয়। অপরসায়নবিদরা শুধু যে তাদের পরীক্ষাগারে রাসয়নিকগুলো নিয়ে কাজ করত তাই নয়; একইসঙ্গে তারা তার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা করারও চেষ্টা করত। তারা যা যা করত তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা তাদের মাথাটাই বোধহয় খারাপ করে ফেলত।
স্বাভাবিকভাবেই এইসময়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের তত্ত্ব হয়ত পুরাকথার মতো বা প্রতীকীগত যা এখন আমরা খুব ভালো বুঝতেও পারি না। কিছু কিছু অপরসায়নবিদ ছাড়া তাদের বেশিরভাগই বুঝতেই পারেনি যে তাদের কাজগুলো আসলে তাদের নিজেদের মানসকে নিয়েই পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বুঝতে পারেনি যে তারা তাদের নিজেদের ব্যক্তিসত্তা নিয়েই আধ্যাত্মিক নিরীক্ষায় মেতে আছে। এই উপলব্ধি আমরা তাদের মধ্যে পাই না, কিন্তু তবুও তারা কিছু তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিল, যদিও ভেবে ধাঁধাঁ মনে হয় যে সেগুলোকে তারা কীভাবে খ্রিস্টীয় তত্ত্বের সঙ্গে মেশানোর চেষ্টা করেছিল!
সাধারণ বিজ্ঞানের সূচনা অপরসায়ন থেকেই। তাদের পদার্থ, শক্তি, শক্তির ক্রিয়া ও অনু-পরমানুর ধারণা ছিল। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নবিজ্ঞানে যে সমস্ত স্বজ্ঞামূলক ধারণা বা চিন্তার গঠন ব্যবহার করা হয় তার সবই অপরসায়নবিদ্যায় বর্তমান ছিল। তারা অপরসায়নবিদরা যা যা করত তাকেই ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করে আর এর মাধ্যমেই অপরসায়নবিদদের অভিজ্ঞতাকে যতটা পারা যায় চেতনে আনার চেষ্টা করে। সুতরাং, অপরসায়নও একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার। যদি দুইশত অপরসায়নবিদের কথা পড়ি, তাহলে দেখা যাবে যে প্রত্যেকের তত্ত্ব আলাদা যেখানে তারা কী করছে সে বিষয়ে নিজেদেরই অবগত করানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে গেছে।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে এভাবে সচেতন যৌথ তত্ত্বে অথবা সাধারণ আধ্যাত্মিক বা বৈজ্ঞানিক ধারণায় বুঝতে ও সংশ্লেষিত করার প্রয়াসকে আমরা রূপকথায় পাই না। রূপকথা হল স্বপ্নের মতোই যৌথ অবচেতনের শুদ্ধ প্রাকৃতিক ঘটনা। তাই, তারা যেন একপ্রকার আলোকপ্রাপ্তির মতো ব্যাপার কিন্তু তাদের আলো তারপর নিভে যায় এবং আবার অচেতনে অদৃশ্য হয়ে যায়। ইয়ুং যেমন তাদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গ্যেটের ফাউস্ট উদ্ধৃত করে বলেছেন ‘পরিবর্তন ও পরিবর্তন এবং রূপান্তরণ, শাশ্বত তত্ত্বের, শাশ্বত রূপান্তরণের’।
রূপকথা হল প্রকৃতির একটা খেলা। তারা ততটাই অর্থবহ আর ততটাই অর্থহীন যতটা আমরা প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিলে পাই ও না দিলে পাই না। কোনো সমীক্ষণ না করা ব্যক্তির অচেতনজাত ব্যাপারস্যাপারগুলোর মতোই হল রূপকথা।
সমীক্ষণে না আসা বা স্বপ্নকে বিচার বিবেচনা না করা ব্যক্তিরা কখনও কখনও অসাধারণ কিছু স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে বারবার ফিরে ফিরে দেখতে থাকে, যেন তার কোন শুরু বা শেষ নেই। তার কারণ তারা এগুলোকে অচেতনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে দেখে না, সেগুলোকে চেতনে সংযোজিত করার প্রয়াস করে না। এবং রূপকথার কাহিনি বক্তারা অচেতনের প্রতিনিধি রূপে কাজ করে। তারা যৌথচেতনের ক্ষতিপূরক শক্তি হিসাবে কাজ করে, এবং স্বপ্নের মতোই একই আরোগ্যকারী ক্রিয়ারূপে কাজ করে।
আমরা জানি যে বোঝা না গেলেও স্বপ্নের একটি আরোগ্যকারী ক্রিয়া আছে। স্বপ্ন নিয়ে কাজ করা পরীক্ষাগারগুলিতে করা গবেষণা থেকে জানা যায় যে যদি কাউকে বারংবার স্বপ্ন দেখতে না দেওয়া হয় বা স্বপ্ন দেখতে থাকা অবস্থায় জাগিয়ে দেওয়া হয় তবে তার মধ্যে শারীরিক ও মানসিক ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং স্বপ্নের জৈবিক ও মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধারী ক্ষমতা রয়েছে। আমরা স্বপ্ন বিশ্লেষকরা অনুনাদকের মতো কাজ করি যাতে এই আরোগ্যকারী শক্তি না বুঝে পাওয়ার থেকে আরো শক্তিশালী ক্রিয়া রূপে কাজ করতে পারে।
এটা থেকে বোঝা যায় যে কেন স্বপ্ন বিশ্লেষণকে বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করা উচিত না বা স্বপ্নের সমগ্র অর্থ বোঝার দিকেও জোর দেওয়া উচিত না, যাতে মক্কেলের নিজের স্বপ্ন নিজেরই থাকে। স্বপ্ন বিশ্লেষকের কখনও মনে করা উচিত নয় যে স্বপ্নটি সম্পূর্ণ বোঝা হয়ে গেছে, তাহলে তার অনুরণনটি হারিয়ে যায়। স্বপ্ন বিশ্লেষণ হবে যেন স্বপ্নটিকে নিয়ে বিবিধ ধরতাই, যাতে সেটির নিজের বক্তব্যকে আরো ভালোভাবে শোনা যায়। এবং এইভাবেই এর আরোগ্যকারী ক্ষমতাকে পূর্ণরূপে পাওয়া যায়।
আদিম সমাজগুলিতে গল্প বলাতে এক আরোগ্যকারী প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়। লরেন্স ভ্যান ডার পোস্ট একজন অরণ্যবাসীর চমৎকার এক কাহিনি বলেন যাকে কীনা ভেড়া চুরির অপরাধে বারো বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হয়। সেখান থেকে এই জার্মান পণ্ডিত তাকে উদ্ধার করেন, সে প্রায় মরতে বসেছিল। একজন বনচারী আদিম গোষ্ঠীর মানুষ কারাগারে জীবিত থাকতে পারে না।
সেই জার্মান ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দেন ও তার পরিচারকের কাজে নিযুক্ত করেন, তাদের ভাষা শেখেন এবং তিনিই প্রথম আদিবাসীদের ভাষার ব্যাকরণ বই লেখেন। আর যেভাবে সেই পরিচারক খুশি থাকে সে তারই সবরকম চেষ্টা করে যেত। কিন্তু আসলে সে খুশি ছিল না কারণ তার ঘরে ফেরার জন্য মন খারাপ করত। সে তার প্রভুকে খুব আবেগগ্রস্ত হয়ে বলেছিল যে, আমার একমাত্র বাসনা হল যে নিজের গোষ্ঠীতে ফিরে যাই আর আমার গোষ্ঠীতে প্রচলিত কাহিনিগুলি শুনি। সে তার গোষ্ঠীর মানুষগুলোকে চায়নি, তার দেশের দেহাতি খাবারগুলো চায়নি, তার সেই ছোট্ট কুঁড়েঘরে ফিরে যেতে চায়নি; না সে অবশ্যই এগুলো চেয়েছিল। কিন্তু সে সত্যিকারের জন্য সবচেয়ে বেশি চেয়েছিল, সবথেকে বেশি অভাব অনুভব করেছিল তার দেশের কাহিনিগুলির। সে বলেছিল গল্প খোলা হাওয়ার মতো। পবিত্র আত্মা হাওয়ার মাধ্যমেই তার আরোগ্যকারী শক্তি দেয়। তার একটিই ইচ্ছা ছিল যে সে যেন মরার আগে তার গোষ্ঠীর কাহিনিগুলো আবার শুনতে পারে।
এই কাহিনিগুলি আরোগ্যকারী কারণ তারা জীবনের স্বপ্ন ও যৌথ অবচেতনের ক্ষতিপূরক প্রক্রিয়ার কথা বলে যা মানব-চেতনের একদিকদর্শিতা, দৌর্বল্য ও ক্রমাগত বিচ্যুতির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে চলে। এবং এই কাহিনিগুলির সেই আরোগ্যকারী ক্ষমতা রয়েছে যদিও তাদের বোঝার কোনো চেষ্টা করা হয় না। তাদের শুধু বলা হয়।
রূপকথাদের মধ্যে সেই উপাদানগুলি প্রত্যাশা করা উচিত নয় যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্মীয় ব্যবস্থায় বা সুউচ্চ সংস্কৃতিতে বা অপরসায়নের প্রতীকগুলিতে পাওয়া যায়, সেখানে এই উপাদানগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বোঝার চেষ্টা করা হয়। এই গল্পগুলো বলাই হয় যাতে মানুষ চনমনে আর প্রাণবন্ততা ‘অনুভব’ করে, তা নিয়ে ভাবতে বসতে নয়।
কিন্তু অনেকগুলি কাহিনিকে একত্র করে পড়লে দেখা যায় যে তারা প্রত্যেকটি যৌথ অবচেতনের কোনো না কোনো পুরাবিন্যাসের প্রক্রিয়ার উপর আলো ফেলে। দুই তিনশো রূপকথাকে বিশ্লেষণ করলে যৌথ অবচেতনের গঠনের স্বজ্ঞাশীল কিছু মানচিত্র পাওয়া যায়, এবং তার সঙ্গে তার সম্ভাব্য গঠন ও প্রক্রিয়া বিষয়েও কিছু হদিশ পাওয়া যায়। এই জ্ঞান একজন সমীক্ষকের কাছে অমূল্য। এইজন্যই ইয়ুঙ বলেছেন যে রূপকথা অধ্যয়ন যৌথ অবচেতনের তুলনামূলক গঠন বোঝার, মানব-মানসের গভীরতর স্তরগুলি বোঝার এক ভাল পদ্ধতি।
আমরা আবার আমাদের কাহিনিতে ফিরে যাই। এক যে ছিল রাজপুত্র বা এক যুবক… এভাবেই গল্প শুরু হয়েছিল। আমাদের গল্পের যুবকের কোনো নাম নেই, সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে তার সঙ্গে নিজের অহংকে মেলানোর কোনও উপায় নেই। আগেও বলেছি যে অনুভূতিপ্রবণ পুরুষেরা কাহিনির নায়কের সঙ্গে ও মহিলারা রাজকুমারীর সঙ্গে একাত্মবোধ করে। কিন্তু বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এটা ঠিক নয়, কারণ পুরুষ আর মহিলারা এক একজন ব্যক্তিসত্তা যাদের নাম ও ব্যক্তিগত পরিচয় আছে, কিন্তু আমাদের যুবকের তা নেই। ‘একটি যুবক’ বলতে তাই এক সাধারণ কিছু। সুতরাং আমরা এতে জোর দেব এবং বিশ্লেষণের চেষ্টা করব এই যুবকের চরিত্রটিকে যখন আমরা জানি না যে ‘একটি সাধারণ যুবক’ বলতে কী বোঝায়।
একটি নায়কের চরিত্রকে বুঝতে হলে সে কী কী কাজ করছে তাতে মনোযোগ দেওয়া ভালো। যেমন ম্যাক্স (luthi pg 21) ব্যাখ্যা করেন যে, রূপকথার চরিত্রেরা খুবই বিমূর্ত। তাদের ব্যক্তিগত বৈশিষ্টগুলি খুব কমই জানা যায়। যেমন ধরা যাক যে গল্পের যুবকের অনুভূতিগুলি বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। সে যখন শুয়ে ছিল ভয়ার্ত হয়েছিল কি? সে কি দৈত্যের উপর রেগে ছিল? রাজকুমারীকে পেয়ে সে কি খুশি হয়েছিল? এসব বিষয়ে একটি কথাও গল্পে নেই। শুধু বলা আছে যে যুবকটি এই করল… ওই করল… আর ওই করে রাজায় পরিণত হল। এটা চরমভাবে অব্যক্তিক। তো বলা যায় যে এই যুবক চরিত্রটি যা যা করে তার মাধ্যমেই এ নিজেকে ব্যাখ্যা করে।
সে কী করে? সে ভুবনের পথে ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়ে পরে। গরিব এক বৃদ্ধের সঙ্গে তার খাবার ভাগ করে নেয়। সে রাজকুমারীর হালহকিকত জানতে একটা অভিযানে নেমে পরে। সে নিজেও জানত না যে সে রাজকুমারীকে ভালবেসে ফেলে ছিল কীনা। তার শুধু অভিযানে যাওয়ার বাসনা হয়েছিল। এবার অভিযানে যা যা করণীয় তা সে করেছিল আর অযাচিতভাবে তিনটি ও অর্ধেক একটি রাজ্যের রাজা হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং ধরে নেওয়া যায় যে সে পুরাবিন্যাসের যৌথ ‘কিছু’ যা একটি অভিযানে যেতে চায়, জীবনে যার প্রবল উৎসাহ, একধরণের পুরুষোচিত উদ্যোগ, অভিযানের একটি মনোভাব খুঁজে পাই। এরসঙ্গে সেই যুবকের মধ্যে একটি দাতাসত্তাও আছে; সে হৃদয়বান কারন সে তার খাবার বৃদ্ধটির সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিল।
সুতরাং বলা যায় যে যুবকটি ভালোভাবে বাঁচতে চেয়েছিল, জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গী ছিল ইতিবাচক এবং সে ছিল উদার মনের মানুষ। তারপর যা যা করার সে সবকিছু সঠিক ও যেমনভাবে করার তেমনভাবেই করল। সে বুদ্ধিমানও ছিল আর সাহসীও। কিন্তু আমরা তার বিষয়ে ব্যস এইটুকুনই জানি। সে নামগোত্রহীন নায়কের যেন প্রতিনিধিস্বরূপ, এবং তার কাজের ফলে একজন পরিচয়হীন যুবক থেকে সে অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন রাজায় পরিণত হয়, এমনকী যে রাজা বর্তমানে রাজত্ব করছে তার থেকেও বেশি।
বেশিরভাগ রূপকথার নায়কদের মধ্যেই এই পদমর্যাদার উন্নতি এক সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু তারফলে এর অর্থ সম্বন্ধে আমরা বুঝতে পারব না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা রাজার বিষয়ে জানছি। আমরা যুবকটিকে রাজার থেকে আলাদাভাবে চিনতে পারব না। অথবা প্রাথমিকভাবে আমরা কাজ চালানোর মতো করে বলতে পারি যে, ধরা যাক সে পৌরুষের প্রতিনিধিত্ব করছে যে ভবিষ্যৎ গঠনের দিকে সঠিকভাবে এগোচ্ছে। তাহলে এখন রাজার অর্থ বিষয়ে জানা দরকার কারণ যুবকটি গল্পে যা কিছুই করুক না কেন শেষপর্যন্ত সে রাজাই হচ্ছে।
সাধারণত, প্রাচীন সমাজগুলিতে রাজাকে মনে করা হত জাদু ব্যক্তি যার উপর সেই উপজাতিটির জীবন মরণ নির্ভর করত। পশ্চাৎপটের অনেককিছুর মধ্যে থেকে তাকে বিশিষ্টভাবে দেখা যেত। সেই অনেকে হল আত্মহীন মানুষেরা কিন্তু রাজা ছিল আত্মসত্তায় একক। উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি প্রাচীন মিশরের রাজাদের দেখি তবে দেখব শুধু তাদেরই মমি করা হত আর তাদের উদ্দেশ্যে স্তোত্রপাঠাদির মাধ্যমে তাদের অমর করে রাখা হত যেখানে কীনা রাম, শ্যাম, যদু মধুদের… সাধারণ মানুষদেরও মৃত্যু হত কিন্তু তারপর তাদের কী হত সে নিয়ে কারও মাথাব্যাথা ছিল না।
প্রথমদিকে শুধু রাজার ক্ষেত্রেই আধ্যাত্মিক গতি করার চল ছিল। কিন্তু মধ্যযুগে উচ্চবিত্তদেরও সেইরকম গতি করার সুযোগ মিলল। বর্তমানের শাসনে মিশরের প্রায় সকল মৃতেরই (অন্তত যাদের পয়সা আছে) সুগন্ধিযুক্ত ওষুধ দিয়ে মার্জিত হওয়ার, কবরস্থান পাওয়ার ও স্তোত্রশাস্ত্রপাঠের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে অমরত্ব পাওয়ার অধিকার সিদ্ধ হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে প্রথমদিকে একজন ব্যক্তিসত্তা হয়ে ওঠার ও সাধারণ মানুষদের থেকে বেশি সচেতন সত্তা হয়ে ওঠার ক্ষমতা পেত শুধুমাত্র একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি, তা সে উত্তরাধিকার সূত্রে হোক, বা গণ-নির্বাচন বা অন্য কোনও মাধ্যমে। এই পদ পাওয়ার জন্য অনেক বেশিই মূল্য চোকাতে হত কারণ বেশিরভাগ আদিম সমাজগুলিতেই পাঁচ দশ বা পনেরো বছর পর রাজাকে শেষপর্যন্ত বধ করা হত। তাদের পবিত্র আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হত্যা করা হত, অথবা তাদের যদি যৌনসক্ষমতা চলে যেত বা কোন রোগ হত, অথবা যখনই প্রবল খরা বা পালিত পশুদের মৃত্যু হতে থাকত ইত্যাদি বড় কোন খারাপ কিছু হলেই রাজাকে বধ করা হত। রাজাকে শুধু এইকারণেই মরতে হত না যে সেই ছিল এক ও অদ্বিতীয়, গোষ্ঠীর একমাত্র চেতনাসম্পন্ন মানুষ, তাকে এই কারণেও হত্যা করা হত যে সেই একমাত্র ব্যক্তিমানুষ যার সঙ্গে জাদু ও ঐশ্বরিক ক্ষমতাদের যোগাযোগ ছিল। প্রারম্ভিকযুগের সমাজগুলিতে সে ছিল যুগপৎ রাজা ও ধর্মযাজক।
এবং আমাদের ইউরোপীয় দেশগুলির রাজাদের বলা হয় “ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য”, এই সেই অমুক তমুকের রাজা ইত্যাদি। অষ্টাদশ শতকেও মনে করা হত রাজার মধ্যে আরোগ্যকারী শক্তি রয়েছেঃ তারা স্পর্শ করেই রোগ নিরাময় করতে পারে। তারা এখনও বেশ কিছুটা পুরোহিত রাজা, যদিও পোপ সেই শক্তির অনেকটা এখন নিজের করে নিয়েছে। আর তাই মধ্যযুগে আমরা দেখেছিলাম ঐশ্বরিক শক্তি ও সম্রাটের বাস্তবিক শক্তির মধ্যে দ্বন্দ্ব।
রাজা শুধু দৈহিক শক্তি ও তার সেনাবাহিনী দ্বারাই ক্ষমতার অধিকারী হতেন না, পরলোকের শক্তিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণেও শক্তিমান হতেন। চৈনিক সম্রাটদের মধ্যেই এই আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা সবচেয়ে স্পষ্ট। মাও-এর আবির্ভাবের পূর্বে পর্যন্ত তারা বিশ্বাস করত যে যতক্ষণ সম্রাটদের সঙ্গে আধ্যাত্মিক জগতের শক্তিটাও-এর সুসম্পর্ক থাকবে ততক্ষণ অবধিই সাম্রাজ্যের সবকিছু ঠিকঠাক চলবে। যদি কিছু খারাপ ঘটে, যেমন ধরা যাক নদীতে বান এল, তাহলে সম্রাটকেই নিজের দৈনন্দিন আচরণ পাল্টাতে হবে বা প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে সেই ক্ষতিকারক শক্তিকে বশে আনতে হবে। সম্রাটই হলেন সেই অক্ষদণ্ড যাকে কেন্দ্র করে চৈনিক জাতির সমগ্র সাম্রাজ্য সমগ্র জগৎ আবর্তিত হয়। সবকিছুই তার সঠিক বা ভুল আচরণের উপর নির্ভরশীল। তার হাতেই ঐশ্বরিক ক্ষমতা, তিনি সেই অসীম ক্ষমতার অবতারস্বরূপ। একেই মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় বলা যায় যে রাজা ঈশ্বর-মৌলপ্রতিমার প্রতিনিধি, অথবা আত্মনের প্রতীক, এটাই একটি সমাজের প্রধান ধারণায় পর্যবসিত হয়েছিল।
যদিও রূপকথা বা পুরাকথায় প্রায় সবসময় দেখা যায় যে রাজা বার্ধক্যপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তাদের রাজত্বে কিছু না কিছু গণ্ডগোল চলছে। পুরাকথা ও রূপকথায় সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছে এমন রাজত্ব হাতে গোনা যাবে। সেইসব রাজত্ব বিষয়ে বলার মতো কিছুই থাকে না।
কাহিনি শুরুই হয়, হয় রাজা অসুস্থ অথাবা তার কন্যা বদ কিছু করে বেরোচ্ছে, অথবা রাজার কোনও উত্তরাধিকারী নেই; তিনি শয়তানগ্রস্থ হয়েছেন অথবা শয়তান তাকে আক্রমণ করেছে বা তার পুত্রকে চুরি করে নিয়ে গেছে। সবসময় রাজার সঙ্গে কিছু না কিছু অঘটন ঘটেছে। সবসময় কাহিনিগুলি শুরু হয় কোনও ভারসাম্যহীনতায় আর ক্ষতিপূরক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে আবার সাম্যে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন