![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৯ |
গোলাপ গাছ আর আমি
গোলাপ ফুলের গাছটা প্রতি বছরের মত
এবারেও ফুলে ফুলে ভরে গেছে
ওর বয়েস অনেক, চব্বিশ ত’ হবেই
কিন্তু বয়সের ছাপ ওকে স্পর্শ করে না
আমাকে বয়সের ছাপ ছুঁয়ে যায় প্রতি বছর
মুখের সেই লাবণ্য আর নেই
চুলের ঘনত্ব কমে সেখানে ধূসর নীরবতা
চোখের চাহনি কিছুটা ম্রিয়মাণ
সে কর্মক্ষমতাও আর নেই
একেই কি বলে প্রৌঢ়ত্ব?
আমার তখন আর এখন ছবি
দেখানোর মত কিছু নেই
তাই পিছু ফিরে যত কম তাকাই
ততই ভালো, মনে হতাশা আসে না।
মন্ত্রমুগ্ধ
আকাশকে কখনো ছুঁতে পারিনি
ছোঁব কি? সে তো মহাশূন্য আর
ভাসমান মেঘেদের আলয়।
উঁচু পাহাড়ে উঠে হাত বাড়িয়ে দিই
মেঘ ছোঁব বলে, কিন্তু পারি না
বরং বহমান জলকে ছুঁয়ে দিই,
তার নীল রঙে আকাশের ছায়া।
আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে নতুন ইচ্ছে
লালন করি নতুন এক ভাবনায়
ইচ্ছের মৃত্যু নেই, ভাবনার মৃত্যু নেই।
এখনো কবিতার জন্যই বেঁচে আছি
গাছের ছায়াদের নীরব ফিসফিসানি
আমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়
আমার আনমনা পথ সুন্দরতর হয়
পাখিদের কলকাকলিতে প্রাণ ফিরে পাই।
একদিন চলে যেন বহুদূর -
ওই গাছেদের সীমানা ছাড়িয়ে
কোন উন্মুক্ত প্রান্তরে হলুদ ফুলেদের দেশে
সবুজে সবুজে ভরে থাকা প্রান্তর
আমার চোখের হারানো জ্যোতি ফিরিয়ে দেবে।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন