![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৯ |
ভোরের হাওয়া
বিগত তিন চারদিন ধরে এলাকা ভীষণভাবে থমথমে। তাদের পাড়ার মধ্যে যে এমন হতে পারে তা কখনো স্বপ্নেই ভাবতে পারেনি
সুমিত।
পাড়ার সব বাড়িতেই একটা শোকের ছায়া ছড়িয়ে
রয়েছে। অনেকেই এই দুর্ঘটনাকে মেনে নিতে পারেনি। দুদিন ধরে সুমিত কলেজে যাচ্ছে না। যেতে
ভালো লাগছে না। সুমিত ভালো ভাবেই জানে যে তার অনার্সের
ক্লাসগুলো মিস হয়ে যাচ্ছে।
কলেজে গেলে এস. পি
. স্যারের কাছে ঝাড় খেতে
হবে ক্লাস কামাই করার জন্য।
তবুও যেতে মন চাইছে না।
স্বাতী সবে মাত্র হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষায়
পাশ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য সুমিতদের কলেজেই ফর্ম ফিল আপ করেছে। সামনের সপ্তাহে কাউন্সিলিং আছে। স্বাতীর
যা রেজাল্ট তাতে ও হাসতে হাসতে,ওর পছন্দের সাবজেক্ট ইংরেজিতে অনার্সে
যে চান্স পেয়ে যাবে এতে কোনো ভুল নেই।
সন্ধ্যার একটু পরেই পাড়াতে খবরটা ছড়িয়ে
পড়েছিল বারুদের মতো। বিকেলে স্বাতী তার এক বান্ধবীর বাড়ি নাগের
বাজারে গিয়ছিল কোনো একটা কাজে।
ঠিক সময়তেই ও ফিরে এসেছিল। থার্টি বি বাস থেকে নামতে দেখেছিল বাস স্ট্যান্ডের চায়ের দোকানের
মানিক। তখন মানিকের দোকানে বসেই রোজকার মতো বিনা পয়সায় চা আর সিগারেটের ন্যাতা মারছিল পাড়ার
মস্তান চন্দন ওরফে আরশোলা আর তার চারটে সাগরেদ। এই আরশোলা
সুমিতেরই ক্লাসমেট ছিল এইট পর্যন্ত।
তারপর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল।
ঠিক আটটা নাগাদ খবর ছড়িয়ে পড়ল পরিত্যক্ত
যশোর কোম্পানির ভাঙা দেয়ালের ভিতর জঙ্গলের মধ্যে স্বাতীকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া
গেছে। ওর গোঙানির আওয়াজ পেয়ে এলাকার রিক্সাচালক
দিলীপ রিক্সা থামিয়ে ভিতরে গিয়ে স্বাতীকে আবিষ্কার করেছিল পা আর মুখ বাঁধা অবস্থায়। স্বাতী হাসপাতালে পুলিশের কাছে স্পষ্ট বয়ান দিয়েছে, আরশোলা আর তার দুই সাগরেদ মিলে তাকে গণধর্ষণ করেছে।
পাড়ার লোক একজোট হয়ে থানা ঘেরাও করেছিল। তাতে কাজ হয়েছে। পরের
দিনই পুলিশ মাঠে নেমে পড়েছিল।
তাই পুলিশের ভূমিকায় পাড়ার সবাই খুব
খুশি।
সকালবেলা সুমিত তাদের খোলা বারান্দায়
বসে সেদিনকার খবরের কাগজটা পড়ছিল।
হঠাৎ তার চোখে পড়ল একটা খবরের দিকে। "গণধর্ষণের অভিযোগে কুখ্যাত দুষ্কৃতী চন্দন পাত্র ওরফে আরশোলাকে
পুলিশ গ্রেফতার করেছে।"
এই পর্যন্ত পড়েই সুমিতের মনটা অনেকটা
হালকা হয়ে গেল। সে তার হাতের কাপের চায়ে এক লম্বা চুমুক
দিল এক গভীর শান্তিতে। চায়ে চুমুক দিয়ে কাপটা টেবিলে রেখে রাস্তার
দিকে চোখ ফেরাতেই দেখল,
স্নান করে, পরিপাটি
চুলে এবং সাদা পাঞ্জাবি ও ছাপা লুঙ্গি পড়ে খোশ মেজাজে আরশোলা বেশ বুক ফুলিয়ে ভোরের
বাতাস গায়ে মেখে সিগারেট টানতে টানতে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। সুমিত বলেই ফেলল, কী রে! কী ব্যাপার খবরের কাগজে দেখলাম যে তুই...
--- আরে ছাড় তো বা* ওসব ভুলভাল খবরে কান দিস কেন?

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন