![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৯ |
সময় শিখিয়েছে
প্রথম যৌবনে, মানে আমার প্রথম যৌবনে,
এক অনুরাগিনী শুনিয়েছিল সেতারে পিলু,
আর এক অনুরাগিনী তার কন্ঠে মিয়াকি টোড়ি;
সেগুলো অনুধাবন করার সম্যক শিক্ষা ছিল না তখন।
তারা আজ দূরবর্তিনী;
সময় আমাকে শিখিয়েছে পিলুর পিয়ামিলনের আকুলতা –
ঘিরি ঘিরি আয়ী কারী বাদরিয়া
পিয়া নাহি আয়ে ম্যায় ক্যা করু;
শিখিয়েছে, কোন্ গভীরে গিয়ে ফুটে ওঠে মিয়াকি টোড়ির আর্তি –
লঙ্গর কাঁকরিয়া জী না মারো।
আজ উপলব্ধি করি এখন বলার সময় এসেছে –
যে-কেহ মোরে দিয়েছ সুখ দিয়েছ তাঁরি পরিচয়
সবারে আমি নমি …
ঠাকুরমার ঝুলি
গ্রীষ্মের বিকেলে রাস্তায় আইসক্রিম ভেন্ডারের ডাক—
সচকিত বালকবালিকা দুটি দ্রুত ছুটে আসে বারান্দায়,
‘কাকু, বাটার স্কচ আছে? আছে কি অরেঞ্জ ক্যান্ডি?’
তন্দ্রাতুর আমি শুনি পরক্ষণেই আলমারি খোলার আওয়াজ,
স্নেহাতুর হাতে ব্যাগ থেকে দুএকটা নোট বার হয়,
হাসি ফোটে নাতি নাতনির …
আজও সেই ডাক আছে, আছে দুই বালকবালিকা,
নেই সেই বারান্দায় দ্রুত ছুটে আসা,
নেই শুধু স্নেহময়ী একজন ঠাম্মার আশ্বাস …
আলমারিতে ক্রন্দাতুর পরিত্যক্ত ঠাকুরমার ঝুলি …
পুনরার্তন
কল্পনা আর বাস্তবতা মিলিয়ে চলছিল যে কাব্য আর শিল্পের জগত
সেখানে হানা দিল পরাবাস্তবতা,
ইম্প্রেশনিজমের মায়াকে অতিক্রম করে সে এক জোরালো অভিঘাত –
জ্বলন্ত জিরাফ কিংবা গুয়ের্নিকা …
ভেবে দেখতে গেলে এও কিন্তু এক কল্পনার জগতে ফিরে আসা,
এবং তা অনিবার্য;
কল্পনার জাদুস্পর্শ ছাড়া কোথায় ঘটেছে উন্মেষ …
কাব্য শিল্প থেকে শুরু করে দর্শন বিজ্ঞান
সর্বত্র অমোঘ সাক্ষ্য তার …

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন