![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৯ |
উত্তরণ
একটার পর একটা সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে
একটার পর একটা পাথর সরাতে সরাতে
যেই মেয়েটা একটা আগুনঘরের সন্ধান পেলো
অমনি বাতাস তার দিকে ছুটে এলো ঝড় হয়ে
জলোচ্ছাস নিয়ে সমুদ্র এলো
মরুভূমির তাপ নিয়ে সূর্য্য এল পোড়াতে
চারদিক থেকে গেলো গেলো শব্দের মাঝখানে
সে ততক্ষনে একটা বর্ম পরে ফেলেছে
মাথার উপর আকাশ আর পায়ের তলায় পৃথিবীকে রেখে
যোদ্ধার বেশে সে তখন অলৌকিক দেবী
তার চুলগুলো ঝোড়ো হাওয়ায় অসংখ্য ফণা তোলা সাপ
হিস হিস করছিল ছোবল মারবে বলে
তার চোখগুলো আগুনের ভাঁটার মতো
জ্বলজ্বল করছিল পুড়িয়ে দেবে বলে
শুধু অনেক রাতে যখন সে বর্ম খুলে
যখন আকাশের দিকে চাইলো
একবুক ভালোবাসা তার সমস্ত শরীর বেয়ে
শিশির হয়ে ঝরে পড়ল
সমস্ত আগুন নিভিয়ে দিয়ে সেই একা মেয়ে
সেই থেকে নদী
তুলোবীজ জীবন
ফেসবুক করতে করতে মনে হলো
আমি এক তুলোবীজ হয়ে গেছি
উড়ন্ত পাখার বকলমে কিছু তুলোর আঁশ
উড়ে যাচ্ছি এদিক ওদিক
অসংখ্য অচেনা মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছি সময়
ভালোবাসা কিংবা ভালোবাসার ছাঁদে
কিছু বিলিকাটা অক্ষর
ছড়িয়ে দিচ্ছি হরির লুটের মত
কেউ কুড়িয়ে নিয়ে যত্ন করে রেখে দিচ্ছে
আবার কেউ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে হাওয়ায়
বুকের মধ্যে মাটির স্বপ্ন নিয়ে উড়তে উড়তে
তুলো বীজেরা মাটি খুঁজে বেড়ায়
চায় বন্ধ হোক হাওয়া
একফোঁটা জলের আশ্বাস তাকে ভুলিয়ে দেয় সব কিছু
ফেসবুকের অসংখ্য মানুষের ডিপির উপর দিয়ে
তুলোবীজ আমি উড়ে যাই
ভিজে মাটির খোঁজে
এক শিকড়ের ইচ্ছায় ভর করে
ভাঙন
অসংখ্য প্রিজমের ভিতর নিজেকে
ভেঙে যেতে দেখছি
বিন্দু বিন্দু আলোর সমাপতনে
ভেঙে যাওয়া
ভাঙতে ভাঙতে নিজেকে ছাড়িয়ে
উঠে যাচ্ছি অন্য কোথাও
ভেসে যেতে চাই স্রোতের বিপরীতে
ভেঙে যেতে চাই স্রোতের অনুকূলেও
অবয়ব জুড়ে তাই স্পষ্ট আজ ভাঙন সংকেত
কেউ তাকে আর জুড়তে পারবে না।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন