ধারাবাহিক উপন্যাস
ইন্দ্রপুরী রহস্য
(দশ)
সোম
'সোম' ঋকবেদ জুড়ে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। এই 'সোম' কী সেই অমোঘ অমৃত, না মাদক, এ নিয়ে দ্বিধার অন্ত নেই। তেত্রিশ তম সূক্ত, চতুর্থ শ্লোকে আছে, "তিস্রো বাচ উদীয়তে গাবো মিমন্তি ধেনবঃ। হরিয়েতি কনিক্রদৎ।" হরিদ্বর্ণ গাভীর রেভনসম্ভুখে সোম অমোঘ আকর্ষণে কলসের প্রতি গমন করছেন। আমার এইসব শ্লোক চর্চা আশুদার কল্যাণে। আগেই বলেছি, আশুদা সম্প্রতি ঋকবেদচর্চায় মন দিয়েছে। পেণুকোণ্ডা থেকে কলকাতা ফেরবার পর এই 'সোম' কিন্তু আমার কাছে মোটেই আকর্ষণীয় ছিল না। সপ্তাহের সোমবার হাসপাতালে বিভীষিকার মতো। আমার ময়নাতদন্ত বিভাগে আউটডোরের ব্যস্ততার কাছে অতোটা প্রতিকূলতাভরা না হলেও সেখানে এই সোমবার নানান কাজ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। দুদিন হল আশুদা কলকাতা নেই। কোথায় গেছে বলল না স্পষ্ট করে। তবে তার হাবভাবে এটুকু বুঝেছি যে ইন্দ্রপুরী রেসিডেন্সির শুভায়ু দের রহস্যমৃত্যু তার মস্তিষ্কজুড়ে বসে আছে। যাবার আগে শুধু একটাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেল। মুম্বাই থেকে জিনরিপোর্টটা এসেছে। শুভায়ুর সঙ্গে সুনন্দর জিনের মিল পায়নি ল্যাবরেটরি। এর থেকে অন্তত একটা সিদ্ধান্তে আসা গেল যে শুভায়ুর সঙ্গে সুনন্দর কোনও রক্তের সম্পর্ক ছিল না। বাকি সব গতানুগতিক। কাজ সেরে সন্ধ্যায় হাসপাতালের ঘর থেকে বেরোনোর সময় ফোন খুলে দেখি বিনতার মিসড কল। কখন আমির ফোন নিস্তব্ধতার রূপ নিয়েছিল জানতেই পারিনি। কল করতে ফোনটা বেজে গেল। তবে গাড়িতে উঠতেই আবার ফোন।
-সরি। একটা শ্যুটে ছিলাম। আপনার ফোনটা ধরতে পারিনি।
-আপনার ফোনটাও ধরতে পারিনি। সরিটা আমারই বলা উচিত। বলুন কী খবর?
-একটূ দেখা করবেন? আজ? বাড়িতে নয়, অন্য কোথাও। শুভায়ুদা সম্পর্কে কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আপনাকে বলা দরকার। সেদিন বলতে পারিনি।
আমি সম্মতি দিয়ে দিলাম। লেক রোডেই একটা নিরিবিলি ক্যাফেতে বসার সিদ্ধান্ত নিলাম। গাড়িতে বসে ভাবছিলাম। কী কথা বলতে পারে বিনতা? শুভায়ুর অতীতের অনেক কথাই তো আমরা জানি না। অথচ জানা দরকার। কিন্তু এই সম্মতি দেবার আড়ালে বোধহয় আরও একটা কারণ কাজ করছিল। বিনতা প্রমিতিকে চিনল কীকরে? প্রমিতি এখন কোথায় আছে? কেন বারবার মনে হয় প্রমিতির অদৃশ্য উপস্থিতি আমার জীবনে ঘোরাফেরা করছে!
ক্যাফেতে বিনতা অপেক্ষা করছিল। ক্যাফের ঠিক উল্টোদিকেই একটা ট্যাটু পার্লার। বিনতা একটা কালো গাউন পরে এসেছে। তবে কণ্ঠির কাছে বুকের উপর উজ্জ্বল সবুজ লাল সাপের উল্কিটা যেন সেই ঘন কৃষ্ণ আভরণে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আমরা একটা কফির অর্ডার দিয়ে বসতেই বিনতা আশ্চর্য দৃষ্টিতে দেখতে লাগল আমাকে। আমি সামান্য অস্বস্তিতে পড়েই বললাম, "বলুন কী বলবেন বলছিলেন?"উত্তরে বিনতা হেসে মাথা নীচু করে বলল, "বলছি।" তারপর তার গোলাপি রঙের চামড়ার ব্যাগ থেকে একটি কাগজের চিরকুট পেতে রাখল টেবিলের ওপর। চিরকুটে একটা চিহ্ন আঁকা তবে সেটা উনালোম নয়। এই চিহ্ন আমি এর আগে কখনও দেখিনি। আচমকা দেখে মনে হবে এক বামনাকৃতির মানুষ বাঘছাল পরে নাচছে। তার দুই হাতে যেন কোনও ঢোলক ধরা রয়েছে। চিরকুটটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বিনতা বলল, "আপনার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট আছে?" আমি মাথা নেড়ে 'না' বলতেই বিনতা হেসে বলল,"আপনার ফোনটা দিন, বানিয়ে দিচ্ছি।" তারপর আমার ফোনটা নিয়ে খানিকক্ষণ খুটখুট করার পর সে আবার ফোনটা আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলল,"আপনাকে আমি একটা গ্রুপের ইনভাইট লিঙ্ক পাঠাব। এই গ্রুপে ঢুকলে আপনি আপনার অনেক জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে পাবেন। গ্রুপের কোনও নাম নেই। নামের জায়গায় তিনটি বিন্দু থাকবে। তবে গ্রুপের লোগো হিসেবে এই চিরকুটে আঁকা চিহ্নটি থাকবে। আপনার ইচ্ছে হলে জয়েন করবেন।"
আমি আর কৌতূহল চাপতে না পেরে বললাম, "কিন্তু এই গ্রুপটা কীসের?" বিনতা রহস্যভরা হেসে বলল,"আপনার অতীত আমি জানি। আপনার অতীতে একটা গভীর ক্ষত আছে। আপনার বড়মামার মৃত্যু। এই গ্রুপে যাদেরকে পাবেন, তাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কোনও নি কোনও ক্ষত আছে। এই ক্ষতগুলো প্রেতিনীবাতাসের মতোই আমাদের জীবনের চারপাশে ঘোরাফেরা করে। কী তাই তো?"
-হ্যাঁ। কিন্তু আপনি জানলেন কী করে...
আমার বিস্ময় গোপন রইল না আর!
আমার বড়মামার কথা বিনতার জানার কথা নয়। উত্তরবঙ্গের যে বাড়িতে আমার ছোটবেলা কেটেছে সেখানে যৌথপরিবারে আমি আলাদা করে নিজস্ব সময় আদায় করে নিতে পেরেছিলাম ওই মানুষটার কাছে। একসময় পেশায় ছিলেন ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী। বড়মামার মুখেই শুনেছি, একটা বড়সড় কেলেঙ্কারি ঘটে সেখানে।বেশ কিছু গোপন বৈজ্ঞানিক তথ্য বড়মামার বস একটি বিদেশি সংস্থার কাছে বিক্রি করার তাল করেছিলেন। বড়মামাকেও সেই পাপের ভাগীদার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বড়মামা রাজি হননি। এইসব সংস্থায় কর্তৃপক্ষর সঙ্গে বিরোধ করে কাজে টিকে থাকা খুব কঠিন। বড়মামা ভিআরএস নিয়ে মায়ের কাছে থাকতে লাগলেন। বিজ্ঞানকে ভালোবাসা বড়মামার হাত ধরেই। এমনকি জয়েন্টের জন্যও কোনও আলাদা তালিম নিতে হয়নি আমাকে। বড়মামার অভিভাবকত্বই যথেষ্ট ছিল। কলেজে যেদিন যোগ দেব তার আগের দিন সেই বড়মামা হঠাৎ চলে গেল। স্বাভাবিক মৃত্যু হলে হয়তো মেনে নিতে এতো কষ্ট হতো না। কিন্তু হাসিখুশি মানুষটা যখন কারোকে কিছু না জানিয়ে বিটাব্লকার খেয়ে আত্মহত্যা করল, মেনে নিতে পারলাম না। বড়মামার এই হঠাৎ মৃত্যুর কারণ আমার কাছে আজও অজানা। কখনও বুঝতে দেয়নি আমাদের, মানুষটার মনের ভিতর কী চলছে। হ্যাপিনেস স্যুইসাইড প্যারাডক্স। বড়মামা মৃত্যুর ভিতর দিয়েও শিখিয়ে গিয়েছিল কী করে মনের গভীর অভিমানগুলোকে লুকিয়ে রাখতে হয়। এতো কথা তো আমি আশুদাকেও বলিনি! তাহলে বিনতা জানল কী করে?
-ঘাবড়াবেন না। আপনার সম্পর্কে অনেক তথ্যই আমি জানি। কোনও ব্যক্তিকে আমরা আমাদের এই গ্রুপটায় যোগ করতে গেলে আগে তার সম্পর্কে সমস্ত খোঁজখবর নিয়ে নিই। এই ক্ষত আপনার একার নয়। এই ক্ষত আমাদের সকলের...
-আপনারা আমাকেই বেছে নিলেন কেন?
-কারণ আমরা বুঝতে পারি। বাতাস আমাদের চিনিয়ে দেয়।
-বাতাস !!!
-হ্যাঁ। বাতাস। এই বাতাস আমাদের সকলের শরীরে আছে।এই বাতাস আমাদের ভালো লাগায়, যন্ত্রণা দেয়, আর দেয় মুক্তি!
আমার ভিতর এক অদ্ভুত শিহরণ হচ্ছিল। এ কী কথা বলছে বিনতা! এ কোন দেশের কোন সময়ের ভাষা।
যে সময় থেকে উঠে আসে আমার অতীত, বর্তমান। এই ক্ষতগুলো যা আমি আমার দৈনন্দিন কাজ দিয়ে ঢেকে রাখতে চাই ?বিনতাকে যেন এক নতুন রূপে আবিষ্কার করছি আমি। আমার মুগ্ধতা আমার বিস্ময়কে ছাপিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ।
-প্রমিতিকে চিনতে তুমি?
বিনতা কফিতে চুমুক দেয়। কফির ফেনিল রেখা ঢেকে দেয় তার ঠোঁটের প্রসাধন।
-এখনও চিনি। আপনার কাছে যেমন বড়মামা, আমার জীবনে তেমনই প্রমিতিদি। আমি রায়গঞ্জের মেয়ে। শুভায়ুদার পাড়া আর আমার পাড়া পাশাপাশি। আমার স্কুল যদিও বালিকা বিদ্যালয়। শুভায়ুদাকে ছোটবেলায় খেলতে দেখতাম। ওদের ফুটবল মাঠে একটা জুটি ছিল। আমরা বলতাম জগাই মাধাই। আমরা পাশের স্কুল থেকে চিয়ার করতে যেতাম। বাপি থাকত সঙ্গে। সব স্বপ্নের মতো ছিল। তারপর একদিন সব ভেঙে গেল...
-কী হয়েছিল?
-সেদিন এইরকমই এক সন্ধ্যা। বাপির জন্মদিন। বাপি রাজনীতি করত। একজন সৎ নির্ভীক রাজনৈতিক কর্মী। আমরা সবাই রেস্তোঁরাতে খেতে এসেছিলাম। আমি বাপি আর মা। সততার একটা মূল্য হয়, জানেন তো অর্কবাবু? সেই মূল্য আপনার বড়মামা একভাবে চুকিয়েছিলেন, সেই মূল্য সেদিন আমার বাপিকেও চোকাতে হল।
-কীভাবে?
-তখন আমার বয়স দশ। আজও মনে আছে। বাইক করে কালো কাপড়ে মোড়া লোকগুলো এসে ঘিরে ধরল আমাদের। আজ বুঝি, হয়তো বিরোধী দলের লোক। বাপির গলায় চপার ধরে চিরে দিল। আমাদের খাবারের প্লেটে ফিনকি দিয়ে বাপির রক্ত পড়ছে। আমি কাঁদতে পারছি না। ওই যে বাতাস! যেন আমার মুখ জোর করে চেপে রেখেছে। আমি কথা বলতে পারছি না। এক রেস্তরাঁ ভর্তি লোকের সামনে ওরা আমার মাকে টেনে নিয়ে গেল। শাড়ি খুলে ফেলল। তারপর ব্লাউজ শায়া। মাকে নগ্ন দেখিনি কখনও। শুধূ একবার স্নান করতে দেখেছিলাম। সেদিন আবার দেখলাম।রক্তস্নাত মাকে ওরা সবাই মিলে সবির সামনে এক এক করে ধর্ষণ করল। সবাই দেখছে, অথচ কারো একটা আঙুলও নড়ছে না...
আমার মনে হল, এ যেন বিনতা নয়। এই সেই দ্যুতক্রিড়াগৃহের শঙ্কিত বালিকা যে লুকিয়ে দ্রৌপদীকে নগ্ন হতে দেখেছিল।
-সেদিন বুঝেছিলাম আমি একজন মেয়ে।মা ধর্ষিতা হতে হতে আমাকে বুঝিয়ে গেল নারীত্বের আসল মানে। অবশ্য ধর্ষণের পর ওরা মায়ের গলার নলিও কেটে দিয়েছিল। আমার হাতে একটা কাঁটাচামচ ছিল। আমার ভিতরেও বাতাস ভর করল। যেন ছিটকে গেলাম টেবিল থেকে। ওদের ভিতরে একজনের গলায় বসিয়ে দিলাম চামচটা। হারামিটা ছটফট করতে লাগল মেঝেতে। একজন বলল, "চল এবার মামণিকে করি"।ঠিক সেই সময় প্রমিতিদি, তখন সে সবে ষোড়শী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওদের ওপর। একটা বন্দুক ছিল তার কাছে। স্কুলে বরাবর স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ন প্রমিতিদি সেদিন বন্দুক কোথা থেকে পেয়েছিল জানি না। কিন্তু তার আক্রমণের সামনে টিকতে পারল না ওরা। কাপুরুষের মতো পালিয়ে গেল...
-তারপর?
-বাপি আর মায়ের রক্তাক্ত দেহ ফেলে রেখে প্রমিতিদি আমাকে নিয়ে উঠে বসল একটা বাইকে। তারপর নিয়ে গেল শহর থেকে দূরে। দিদিই আমাকে পরে কলকাতায় স্কুলে ভর্তি করে দিল।আমি বুঝেছিলাম, দিদির পিছনে একটা সংগঠন আছে। দিদিও পড়াশোনা শেষ করল না। কুসুমকুমারী কাণ্ডের পর দিদি আমাকে কলকাতায় রেখে চলে গেল মণিপুর। অনেকদিন সেখানে ছিল। কী করত সব জানতে পারতাম না। বলা বারণ ছিল। তবে এটুকু জানি, দিদি স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, আমাদের মতো মানুষের মুক্তির জন্য লড়ছে।
-এখন কোথায় আছে প্রমিতি?
-সে কথা জানিনা। ওরা বলে না। তবে এটূকু জানি, দিদিকে কখনও দুর্বল হতে দেখিনি, মাত্র একবার ছাড়া। আর দিদির সেই দুর্বলতার কারণ আপনি।
-আমি?!!!
-হ্যাঁ। আপনি বোঝেন না? নাকি কাপুরুষ বলে পিছিয়ে যান?
আমি শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি। আমার সামনে পড়ে আছে বিনতা বাবা মায়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ। আর বীর প্রমীলার মতোই সেখানে বন্দুক হাতে প্রমিতি। তার চোখের কাজল এতোটুকু ফিকে হয়নি। ফিকে হয়নি তার ক্ষীপ্রতাও। কোথায় সে এখন? বিনতা বলে চলে।
-জানেন। দিদি আপনাদের ছত্রিশগড়ের তিরদগড় ঝর্ণাতেও দেখেছে। দিদিদের একটা অপারেশন চলছিল ওখানে।
আমি শিহরিত হই। অত্রির খোঁজে সেই রাতে তিরদগড় ঝর্ণার দিকে হাঁটতে হাঁটতে আমার মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমাকে অনুসরণ করছিল। সেই নেপথ্যচারিণী কি তবে প্রমিতি ছিল?আমাকে একবারও ডাকল না কেন?
-আপনিও তো ডাকতে পারতেন? পারতেন না?
কী জানি হয়তো পারতাম। প্রমিতির কথা শুনতে শুনতে বিনতাকে এখন যেন আর খুব দূরদ্বীপবাসিনী মনে হচ্ছিল না। ওর মুখে এখনও কফির দাগ লেগে। কী মনে হলো, কোনও কিছু না ভেবেই মুছে দিলাম। ওকে স্পর্শ করতেই মনে হলো এক ভূকম্পিত ধরাধর স্পর্শ করছি। বিনতা ভয়ে কাঁপছে! এখনও কী তবে সে পুরুষকে ধর্ষকই ভেবে আসছে? আর যদি সে সেটা ভাবেই, ওকে কি সত্যিই সেই জন্য দোষারোপ করা চলে? বিনতা সিমলে নিয়ে বলল।
-আপনি কী ভাবছেন আমি আপনার সঙ্গে ফ্লার্ট করছি?
-তা কেন? দাগ মুছে দেওয়ার অর্থ কি ফ্লার্ট করা?
-আপনাকে জানিয়ে রাখি। বয়ফ্রেণ্ড আছে আমার। এই যে আমার বুকের সাপের ট্যাটুটা দেখছেন, ও করে দিয়েছে।
-উনি ট্যাটু আর্টিস্ট? কী নাম?
-ওর নাম পুরন্দর। ওই গ্রুপে ঢুকলে সব জানতে পারবেন। ও ওই গ্রুপেই আছে। বলা ভালো ও ওই গ্রুপের রিঙমাস্টার। তবে একটা শর্ত আছে। ওই গ্রুপের কথা আপনি পুলিশকে বললে বিপদে পড়বেন। আমাদের জাল বিছানো আছে সব জায়গায়। আমরা জেনে যাবো। প্রমিতিদি আপনাকে ভালোবাসে। কিন্তু ও কখনও সে কথা আপনাকে বলবে না। আপনাকেই বলতে হবে। অবশ্য আপনি তো আর সেটা বলতে পারবেনই না। কারণ আপনি একটা ভীতুরাম...
বলেই খিলখিল করে হেসে বিনতা বেরিয়ে গেল। আমিও বিল মিটিয়ে বেরিয়ে এলাম। কতো বিচিত্র এই পৃথিবী। কী বিচিত্র আমাদের অবচেতন। আবার সেই মরণকূপের 'আলাপদ্মম'এর মতোই নতুন কোনও গ্রুপ। কী আছে সেই গ্রুপে! আশ্চর্য, কী ছাইপাশ কাজে আশুদা অজ্ঞাতবাস করছে কে জানে। যতক্ষণ না এই কথাগুলো তাকে বলতে পারছি, ভালো করে নিশ্চিন্ত হয়ে বসতেই পারছি না। ভাবতে ভাবতে ঘরে ফিরে আমার দুশ্চিন্তা কেটে গেল। দরজার পাশে আশুদার স্যুটকেস রাখা। আশুদা ফিরে এসেছে!
(ক্রমশ)

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন