![]() |
| সমকালীন ছোটগল্প |
দোহার
মেসওয়াক করতে করতেই সদর দরজাটা খুলেছিল হাতেম আলী।
আকাশের গায়ে তখন বুনোপায়রার পালকের মত মেঘ। ফজরের নামাজ শেষ হয়েছে বেশ খানিকটা
আগেই। ভবঘুরে কুকুরেরা তখনো রাস্তায় কুন্ডুলি পাকিয়ে ঘুমিয়ে আছে।
ঘুমের ভারে ফোলা চোখমুখ নিয়ে রান্নাঘরে চুলা জ্বালিয়েছে সুলতানা।
ফিনফিনে ভেজা হাওয়া রাতের বৃষ্টির কথা বলে যাচ্ছে। তিনকাপ পানি
চায়ের পাতিলে চড়িয়ে আঁচলটা সে কানের চারপাশে জড়াল। হাতেম
আলীর গলা শোনা যাচ্ছে। দরজা খুলতেই সেই ঘেয়ো কুকুরটাকে দেখা গেছে আজকেও। দুদিন ধরে
এদিকটায় বেশ ঘুরঘুর করছিল; গলির মুখে যে ভাতের হোটেল,
সেখানকার ছেলেগুলো গায়ে গরম পানি ছুঁড়ে মেরেছে। তারপর থেকে আর
ওদিকটা মাড়ায় না বোধহয়। তাই বলে একেবারে সদর দরজার মুখে এসে শুয়ে থাকতে হবে?
ঘায়ের ওপর আবার মাছির ভনভনানি।
হাতেম আলী মাটিতে পা ছোঁড়ে। ভ্যাবাচেকা খেলেও ওঠার নাম করল না
আপদটা। হালকা লাথি খেয়ে তারপর কুইকুই করে উঠে দৌড় লাগাল।
‘হালার পো!’ বিরক্তিতে থুতু ফেলে হাতেম আলী। নাঈমা দেখতে পাবার
আগেই বিদায় না করলে একে ঠিক ঘরে নিয়ে তুলত। শব্দ না করে দরজার পাল্লাটা লাগিয়ে
সিঁড়ির ওপর বসে পড়ে হাতেম আলী।
টিউশনির সময় হয়ে এসেছে। আর মোটে একমাস আছে পরীক্ষার। তারপর?
তারপর আর কী, অনার্সে ভর্তি হলে প্রথম
বছরেই বিয়ে দিবে দেবে নাঈমার। রোজই এই পরিকল্পনার কথা আলাপ করে হাতেম আলী।
সঞ্চয়পত্রের টাকাগুলো তোলা হবে। নতুন পুরনো মিলিয়ে পাঁচ ছ'ভরি গয়না তো দেয়াই হবে।
সুলতানা সবটা মন দিয়ে শোনে। তারপর মুখ টিপে হেসে বলে - জি আচ্ছা!
হাতেম আলীরও হাসি পায়। সুলতানা তো বুঝতে পারছে না কী দারুণ একটা
সম্বন্ধ এনেছে! এই তো সেদিন এক বিয়েবাড়িতে গিয়ে এদের খোঁজ পেয়েছে হাতেম আলী। ছেলে
অস্ট্রেলিয়ায় থাকে; এক বোন, তারও
বিয়ে হয়ে গেছে, কাজেই আর কোনো ঝুট ঝামেলা নেই। সামনাসামনি দেখে এসেছে হাতেম আলী;
পরিবারের যথেষ্ট সহায়
সম্পত্তি, তার ওপর ছেলে দেখতে শুনতেও ভালো। নিউমার্কেটে তিনটা
দোকান, শহরের অভিজাত এলাকায় দুটো ফ্ল্যাট আর একটা পাঁচতলা
বাড়ি রয়েছে। বিয়ের পরপরই বরের সঙ্গে বিদেশ চলে যাবে নাঈমা। একেবারে নির্ভাবনার
জীবন। বছর ঘুরতেই স্বাস্থ্যবান ফুটফুটে নাতি-নাতনি কলকল করে হাতেম আলীকে ঘিরে
ধরবে।
সম্ভাব্য ভবিষ্যতের কথা ভেবে মনটা বেশ হালকা লাগে তার। জোরে জোরে
মেসওয়াক করতে করতে এদিক ওদিক তাকায় সে। বৃষ্টিবাদলার দিন। পচে ওঠা ঘাসলতাপাতার
ঘ্রাণ আসছে মাঝেমাঝে। উঠানে এখনো পানি জমে আছে। এমাথা থেকে ওমাথায় রান্নাঘরের চৌকাঠ
পর্যন্ত ইট পাতা রয়েছে। এরকম দিনে থিকথিকে কাদায় ভরে যায় উঠান।
সুলতানা রোজ বলে- উঠান পাকা করেন, বৃষ্টির
দিনে ম্যালা কষ্ট হয়।
হাতেম আলী প্রতিবারই এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে
দেয়। মেয়েলোকের অত অল্পতে কষ্ট হলে চলে না। এই যে ইট পেরিয়ে খাওয়ার ঘর অবধি
মা-মেয়েকে চায়ের কাপ, নাশতার প্লেট, হাড়িকুড়ি বয়ে আনতে হয়- হাতেম আলী নিজেও জানে না কেন এতেই তার ওরকম
ফূর্তি বোধ হয়।
তবে নাঈমার বিয়ের আগে উঠানের কাজটা ধরতে হবে। আর দুইতলার সাথে
টিনের চালা দেয়া যে ঘরটা তার ছাদটা পাকা করাতে হবে, মেঝেতে
টাইলস বসবে। মনে মনে একরকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে গেছে তার।
এসব ভাবতে ভাবতেই সে নাঈমাকে দেখছে। খুব সতর্কভঙ্গিতে ইটের ওপর
পা ফেলছে মেয়েটা। ইদানিং একটু মনে হয় সাজগোজের দিকে ঝোঁক বেড়েছে। চোখমুখ দেখে কিছু
বুঝার উপায় নেই, তবু কিছুই ভাল ঠেকে না। কোথায় যায়,
কার সঙ্গে মেশে জানার সুযোগটাই বা কোথায়! যত গল্প সব সুলতানার
সাথে। এদিকে মায়ের কাছে মেয়ের হাঁড়ির খবর বের করতে বললে সে বলে- আচ্ছা, জিজ্ঞেস করব নে।
সুলতানা কি জানে এই একমাথা নেড়ে 'আচ্ছা'
বলার ভঙ্গিটা দেখলে হাতেম আলীর মাথার তালু অবধি জ্বলে ওঠে?
সুলতানার সত্যি বলতে এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই! সকালের নাশতার পাট
চুকতেই মাসের বাজার চলে এসেছে বাড়িতে। কাঁচাবাজার আর মসলাপাতিগুলো গুছিয়ে রাখতে
রাখতেই সে টের পেল তার ঘাড়ে-মুখে-কপালে কেঁচোর মত ঘাম জড়িয়ে আছে। বাজারের ব্যাগ
ছুঁয়ে দেখতেও ইচ্ছা করে না আর। সব ফেলে রেখে বরং ফ্যানের নিচে শুয়ে থাকলে কেমন হয়!
কিংবা এঘর ওঘর পায়চারি! কেউ বাধ সাধবে না, এ সময় বাড়িটা তো ফাঁকাই থাকে।
দরজার পাল্লা ভেজিয়ে সে বেরিয়ে আসে। গতদিনের আধভেজা কাপড়গুলো সেই
ভোরবেলাতেই উঠানে মেলে দিয়েছিল। আবার যেকোন সময় বৃষ্টি নামবে আর ছুটে গিয়ে সব তুলে
আনতে হবে। নামুক বৃষ্টি, ভিজুক সব। আঁচলের কোণায় ঘাম
মুছতে মুছতে শোবার ঘরে যায় সুলতানা। ঘড়ঘড় শব্দ তুলে নিতান্ত অনিচ্ছুক ভঙ্গিতে ফ্যানটা ঘুরছে। রেগুলেটর অকেজো
হল, নাকি কয়েলটাই পুড়ে গেছে, কে জানে! রাস্তার ওপারেই নজরুলের দোকান, হাতেম আলী বলেছিল দোকান থেকে লোক এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে।
বাথরুম পেরিয়ে করিডোরের ওপাশটায় নাঈমার ঘর। মাঝেমাঝে দুপুরে এ
ঘরের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে সুলতানা। একটা পেডেস্টাল ফ্যান বসানো হয়েছে মাস দুয়েক
আগে। মীরা ব্র্যান্ডের ফ্যান। হুলস্থূলে হাওয়ায় ঘরের পর্দা, ক্যালেন্ডারের পাতা, খবরের কাগজ উড়ে উড়ে
বেড়ায়। দেখতে দেখতে আরামে চোখ বুজে আসে সুলতানার। মনে হয় আঁচল উড়িয়ে নেচে বেড়াচ্ছে
একদল পরী, কানে কানে কিছু বলতে বলতে হেসে হেসে একে অন্যের
গায়ে ঢলে পড়ছে।
কাছে কোথাও মাইকে গান বাজছে, গান ভেসে
আসছে। এদিকটায় এমন আসর মাঝেমাঝেই বসে। এরকম এক দুপুর ছুঁইছুঁই সকালে ফরহাদ ভাই এসে
এ বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়েছিল। প্রায় বছর কুড়ি পর দেখা। সাদা পাঞ্জাবি, হাতে রুমাল। বিয়ে বাড়ি, বিসমিল্লাহ খাঁর
সানাই। সুলতানার ভাবনায় শেষ দেখার ছবিটাই ফ্রেমে বাঁধা হয়ে গিয়েছিল। এতদিন পর হঠাৎ
করে দরজার ওপাশে তাকে দেখতে পেয়ে বেশ কয়েক সেকেন্ড সময় লেগে গেছে ধাতস্থ হতে।
আজকাল প্রায়দিনই এরকম শুনশান দুপুরে মনে হয় এই বোধহয় দরজায় খুট
করে শব্দ হল। তারপর সম্বিত ফিরতেই নিজেকে তিরস্কার করতে করতে হাতের কাজ সারে
সুলতানা। থিকথিকে কাদায় পায়ের গোড়ালি গেঁথে যায়। তবু হেঁটে হেঁটে এমাথা থেকে ওমাথা
অবধি বালতিভর্তি ভেজা কাপড় তারে মেলতে থাকে। চাপকলের ধাতুগন্ধী পানি দিয়ে বুকের
ভেতরের খরতাপ জুড়াতে চায়। হাতের তালু, পায়ের তালুতে
জ্বলুনি; পুরো শরীরের ভেতরটায় যেন ছাইচাপা দিয়ে রাখা
পুরনো আগুনের ফুলকি। তারপর হয়ত মরা নদী থেকে উঠে আসা সরু স্রোতের মতো এক রক্তধারা
নিজের খামখেয়ালী ভঙ্গিতে এসে হাজির হয়। সেই স্রোতটাকে ধুয়েমুছে নিশ্চিহ্ন করে
ফেলার ইচ্ছায় মগ ভর্তি শীতল পানি মাথার ওপর ঢালতে ঢালতে সুলতানা অক্ষম আক্রোশে
ফুঁসতে থাকে।
রাতে মাঝে মাঝে মেয়ের সঙ্গে শোয় সুলতানা। একে অন্যের চুলে আঙুল
দিয়ে বিলি কেটে দিতে দিতে হাজার রকমের গল্প করে।
মেয়ে বলে- চলো আম্মা একবার ডাক্তার দেখায়ে আনি।
সুলতানা বলে- যাব নে।
কবে যাবা? পরশু?
আচ্ছা, পরশু!
কখনো আবার মেয়ে বলে- আমি কিন্তু এখন বিয়েশাদি করতে পারব না,
আম্মা! আমার অনেক পড়তে হবে, চাকরি করতে
হবে, তোমার জন্য অনেক কিছু করা বাকি এখনো।
সুলতানা হাসতে হাসতে বলে- ঠিক আছে, করলি
না বিয়ে এখন।
যে রাতে হাতেম আলীর সাথে শয্যা, সে রাতে
হাতেম আলীকে ডাক্তারের কথা বলা হয়। হাতেম আলী এককান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের
করে দেয়।
বলে- ধুরো, এসব কিচ্ছু না। টেনশন কইর
না।
বালিশে মাথা রেখে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থেকে হাতেম আলী বলে-
নাঈমার গয়নাগুলা অর্ডার দিয়া দিব ভাবছি। সোনার দামটা কমছে!
সুলতানা মাথা নেড়ে বলে- ঠিক আছে, দিয়েন
অর্ডার।
একটু পরেই জড়ানো গলায় হাতেম আলী বলে- তোমার উঠানের কাজটাও ধরব,
বুঝলা সুলতানা? এখন এইদিকে আসো দেখি!
হাতেম আলীর এগিয়ে আসা হাতে আবদ্ধ হতে হতে সুলতানার শরীর সায় দিয়ে
বলে- আচ্ছা!
চোখ লেগে আসে সুলতানার। ঘুম ভাঙে নাঈমার ডাকে৷ মেয়েটা আজ
তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছে। এসেই ভিজে চুপসে যাওয়া কাপড়গুলো নিংড়ে নিংড়ে বালতিতে
তুলেছে। রান্নাঘরে ছড়িয়ে থাকা বাজারের জিনিস ঠিকঠাক গুছিয়ে রেখেছে। বোধহয় গোসলও
সেরেছে। ভেজা চুল থেকে ভুরভুর করে শ্যাম্পুর সুঘ্রাণ আসছে।
মাথাটা এখনো ধরে আছে সুলতানার। গলা ব্যথা, জ্বরের আভাস। তবু রান্নার যোগাড়যন্ত্র করতে হবে ভেবে বিছানা ছাড়তে চেয়ে
বকুনি খেলো। নাঈমা বলল আজকে না হয় খাবার অর্ডার দেয়া হোক!
সুলতানা তার মুখস্ত বুলি আউড়ে বলেছে- আচ্ছা!
সিঁড়িতে বসে আদা চায়ে চুমুক দিতে দিতে সুলতানার এখন হাসিই পায়।
আজকাল মেয়েটার মেজাজের ঠিক থাকে না। রান্না না হলে চলবে কী করে? হাতেম আলী প্রতিদিন সকালে কাজে যাবার সময় দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে
যায়। বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা আটটা। তারপর একেবারে রাতের খাবার। আজ যখন
ফিরে এসে দেখবে বাড়িতে চুলা জ্বলেনি, মেজাজ হারিয়ে বলবে- সুলতানা, এক্ষনিই ভাত চাপাও কইলাম।
সুলতানা বলবে- জি আচ্ছা!
আচ্ছা আম্মা, এই এক আচ্ছা ছাড়া আর কোনো
শব্দ কি তুমি জানো না?
মেয়ের মুখের দিকে তাকায় সুলতানা। গামলাভর্তি ভাত তরকারি মাখতে
মাখতে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে নাঈমা। বড়ো বড়ো চোখে করে তাকিয়ে আছে সুলতানার
দিকে, ওর সারামুখে ছোপছোপ হতাশা আর বিরক্তি।
সুলতানা দেখল কুকুরটা ভদ্র শিশুর মতো চেটেপুটে সব খেয়ে নিচ্ছে।
কখনো এবাড়ির ভেতরে ঢোকেনি সে। আদর-আহ্লাদ যা জোটে সবই দরজার বাইরে। হয়ত নিজের
পরিধি সম্পর্কে সেও বেশ ভাল করে জানে।
নাঈমা ফিরে এসে আবার জেরা শুরু করে।
‘এই যে কুকুরটারে আব্বা দেখতে পারে না, আব্বার
সামনে অরে ছেইছেই করো, আর আমি সামনে থাকলে ডাক দিয়া খাবার
দাও। এরকম ক্যান করো একটু বলবা? আমি সত্যিই জানতে চাই
তোমার এই আচ্ছা-আচ্ছা কথাটার মানে!’
সুলতানার বলা হয়ে ওঠে না এই ‘আচ্ছা’ শব্দটায় কত জাদু! নাঈমা কি
কখনো বুঝে উঠবে? দরকার নেই, এ
জাদু কখনো ওর বোধগম্য হয়ে না উঠুক। সকলকেই এক সুরে গাইতে হবে এমন তো কথা নেই!
এই তো সেদিন দুপুরে হঠাৎ করে এসে পড়া মানুষটাকে শুধু এককাপ চা আর
গোলাপজাম খেতে দিয়েছিল সুলতানা। দরজায় দাঁড়িয়ে বিদায় দেবার সময় বলতে পারেনি- 'আবার আসবেন, ফরহাদ ভাই।’
অথবা
‘আরেকদিন আসবেন, দুপুরে এখানে ভাত
খাবেন’।
বলতে পারেনি। মানুষটা একটু থমকে দাঁড়িয়ে যখন বলল- ‘যাই এবার,
সুলতানা’, সে সাথে সাথে ঘাড় নেড়ে বলেছে-
আচ্ছা!
‘আচ্ছা’ শব্দটায় কী আছে? এই প্রশ্নের
উত্তরে সুলতানা কিছু বলে না। মেয়ের রাগী রাগী চোখমুখের দিকে তাকিয়ে ওর শুধু হাসিই
পায়।
সদর দরজাটা একটু করে খোলা থাকে। কুকুরটাকে তখনো দেখা যায়,
বাইরে দাঁড়িয়ে আদুরে চোখমুখ নিয়ে লেজ নাড়াচ্ছে। সুলতানা লক্ষ করল
ওর ক্ষতটা বেশ শুকিয়ে এসেছে।
সন্ধ্যা নেমে গেছে। মাইকের শব্দটা আজ সারাদিনই বেশ জ্বালিয়ে
ছাড়ল। শব্দের বাড়াবাড়িতে অতিষ্ঠ হয়ে জানালা-দরজা লাগিয়ে দিয়েছে নাঈমা। ওর যে অনেক
পড়তে হবে, পরীক্ষার আর ক’দিন মাত্র বাকি।
সুলতানার হাতে কাজ নেই। সে চা শেষ করেও বাইরে বসে রইল। গলার
ভেতরটায় এখন কিছুটা আরাম লাগলেও শরীরটা অবসন্নই লাগছে। গোসল করলে হয়ত এই ম্যাজম্যাজে
ভাবটা কেটে যাবে। কিন্তু এতটুকু নড়বার স্পৃহা নেই ওর।
রাস্তার সোডিয়াম বাতিগুলো জ্বলে উঠতে শুরু করেছে। সুলতানা চুপচাপ
গান শোনে। বোধহয় খুব কাছে কোথাও বসেছে আসরটা। হাঁটতে হাঁটতে একবার দেখে আসবে?
নাঈমা ডাকলে বিরক্ত হবে, আসবে না এখন।
না, এইতো বেশ শোনা যাচ্ছে এখানে বসেই- “মনে লয় ছাড়িয়ারে
যাইতাম, থুইয়া বাড়িঘর”।
একজন থামতেই অন্যজন স্থায়ীর সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে। পুরো গান এভাবেই
চক্রাকারে চলতে চলতে ফুরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সুলতানা তখনো ঝাপসা হয়ে আসা
দোহারের সুরে কান পেতে রইল।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন