কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

শুক্তি ঘোষ

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৫


আকাশ-মিতা


আকাশ যখন সঙ্গী হয়,

শরীর জুড়ে

রোদ্দুরে রোদ্দুরে সরগম বাজে

বাতাস জ্বলতে থাকে

রুপালি আভায়---

বিনবিন বোলতার চাকে

দুপুর-সুরের নাড়া বাঁধা হয়

নেশা লাগে!

ঝিলমিল কাঁপে

অশরীরী, অস্তিত্বহীন

এক ঝাঁক ইথারের কণা

উজ্জ্বল দুপুরে

তন্বী পৃথিবী শুধু বিনুনি বিনায়,

   সবুজ আঁচল

টেনে দেয় বুকের উপরে

   অবশেষে

কপালে কুঙ্কুম টিপ আঁকতে গেলেই

সমস্ত আকাশ জুড়ে

                     সূর্যাস্তের নদী----

মেঘেদের খেয়ালী আলপনা,

   অস্তরঙের ছবি

আকাশে ---

          আর আমার চোখে

তখন নিভৃত কোণে

              দিগন্তের পারে

   আকাশ ও পৃথিবী

মুখোমুখি গল্পে বিভোর

          আমি দেখি,

      আর ছবি আঁকি,

          অলখ তুলিতে

গাঢ় হয় বিষাদের রং;

ক্রমে ক্রমে  ছায়া সরে পুবদিকে---

নীল আর সবুজের মাঝে

ছুঁয়ে যায় গোধূলির ফাগ

        তারপরে,

ধূমল আকাশ জুড়ে

           নেমে এলে আলোহীন রাত----

              হাতের মুঠোয় শুধু

থেকে যায় অসীম শূন্যতা।

 

চন্দ্রাহত

 

দুধসাদা জ্যোৎস্নায় ভালোবাসার রঙ

আশ্চর্য নীল মনে হয়,

তবুও কী যেন এক বিপন্ন আশ্বাসে

কৃষ্ণচূড়ার ডালে আগুন জ্বলে----

বিদেহী উল্লাসে

উলসে ওঠা দীঘির বুকে

লক্ষ টুকরোয় ভেঙে যায়

আকাশ নামের নীল প্রশান্তিটুকু

 

ঘাসগুলো এখন কাঁচা সবুজ,

পাক খাওয়া বাতাসী শরীরে

ছেঁচা ঘাসের বুনো গন্ধ;

ইচ্ছে করে,

ভিজে মাটির শরীরটাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে

নগ্ন পায়ে হেঁটে যাই-----

অনেক অনেক দূরে,

যেইখানে,

মাধবীলতার গুচ্ছ চৈতালী হাওয়ায়

লুটোপুটি খায়----

জ্যোৎস্নার ঢেউয়ে ঢেউয়ে ডানা ঝাপটায়

দুধসাদা রাজহাঁস,

মুক্তাবিন্দু অশ্রুকণা

ঝিক্মিক্ঝিক্মিক্, উদীচীর প্রান্ত ছুঁয়ে

ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলে

 

শিমুলের ডালে ডালে,

মন্দ্র দোতারায় বাজে বিরহী বাউল----

বারবার,

কোন এক অশান্ত উচ্ছ্বাস

এলেমেলো করে দেয় পরিপাটি চুলের আড়ালে

নিভাঁজ তৃপ্তিটুকু

পথ ভুল হয়ে যায়----

আদুর জ্যোৎস্নায়

মিশে গলে মুছে যায়

কত অবয়ব!

তবুও ইচ্ছে করে নতজানু হয়ে---

দুহাতে অঞ্জলি ভরে

তুলে নিই জ্যোৎস্নার রং,

তুলে নিই ভিজে মাটি ---- অশরীরী সুঘ্রাণ তার

এক বুক তেষ্টা নিয়ে

পান করি তরল সুবাস।

মুঠো ভরা গন্ধরাজ,

কিছু চাঁপা, মাধবী, করবী---

আর সেই সাথে,

মুচকুন্দের রাত----

তিক্ত, কটু

বুনো নিমফুল

                                                                   

অকৃতার্থ

 

সময় কী অস্থির?

কবিতা কী মরীচিকা?

সামনের ঐ হঠাৎ না-এর শক্ত দেওয়ালটা ---

ওটা কি উড়িয়ে দেওয়া যায় না

কোনও প্রচণ্ড বিস্ফোরণে?

 

আর্ত আকাঙ্ক্ষারা, নিষ্ফল,

মাথা ঠুকতে থাকে জানলার গরাদে।

আশ্বিনের ঝকঝকে নীল আকাশ

মাটির টিয়ারঙ পেয়ালায়

সোনালী রৌদ্রের মদ ঢেলে দেয়,

বাতাসে বুনো ফুলের

উগ্র গন্ধ

অন্ধকার রাতকে

মাতাল করে,                                                                  

আমি সম্বিৎ হারাই ---

একলা ঘরে অর্থহীন সুখের মত

এলোমেলো বাতাস,

সময় বুনো টিয়ার পাখায় ভর করে

আকাশের বুক চিরে চলে যায়।

হেমন্তের শিশিরের মত

রাত্রির লঘু পদপাত

নিঃসাড়ে ভিজিয়ে দিতে থাকে

ইচ্ছের ডানা।

 

শীতের রোদের মত

একটানা আলস্য

গায়ে জড়িয়ে

চেয়ে থাকি ---

হঠাৎ দেখি,

রাত্রির বুক চিরে দুরন্ত উল্কার

অবাধ্য ঝলক

অন্ধকার সমুদ্রে ডুবে গেল।

বিদ্রোহী সুর

নিশ্চিন্ত সেতারের তারে

তুলে গেল বেতালা ঝংকার।

একঝাঁক আলোর ফুলকির মত

কবিতার জোনাকিরা

বারবার জ্বলে নিভে

আমায় বিভ্রান্ত করল,

ওদের খুঁজতে গিয়ে

হারিয়ে গেল আমার গোলোকধামের

খেলার ঘুঁটি!

 

অস্থির সময়

দেওয়ালগুলোর আড়ালে

তখন লুকোচুরি খেলছিল।

 

 

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন