কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

গোলাম কিবরিয়া পিনু

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৫


আদিমতায় উভুডুবু  

 

আদিমূল থেকে আদিরস নিয়ে

আমরা এখনো আদিযাত্রি,

  সেই যাত্রা কবে শুরু হয়েছিল?

          যা এখনো শেষ হয়নি!

কবে শেষ হবে--তা আমরা জানি না!

 

আদিঅন্তহীন অংশী হয়ে-

      আমরা আদিকাল থেকে

আদিগঙ্গায় নৌকা চালিয়ে যাচ্ছি!

 

আদিপর্ব কতটুকু খর্ব করা যায়?

আদিমধর্মী না হলে

      আমরা এখনো থাকতে পারি না!

আদিবাস পরিবর্তন হলেও-

আদিমতা এখনো আদৃত হয়ে

কত রকমের পোশাকে উদিত হয়,

      যার উদীয়সীমা নেই!

 

আদিপ্রাণ ও আদিপ্রেম,

ফ্রেম দিয়ে আটকানো যায় না,

     -তা লোহার হলেও!

আদিমতায় উভুডুবু হই-

এখোগুড়ের লোভ সামলানো যায় না!

 

জলকল্লোল

 

ও সঙ্গী আমার

    সাগর-যাত্রায় যাই

       সাগরমন্থন করি!

শুধু সাগর-সৈকতের বালুতে

পা রাখলে হবে?

 

সাগরের গভীরে গিয়ে

তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ ঊর্মিমালায়,

    জলকল্লোল শুনি একসাথে,

রাতের গভীরে!

 

সাগরবক্ষ তোমার বক্ষে

নেচে উঠুক,

   আমি তাতে দীপিত হই!

 

এবেলায় শুধু সাগরবেলায়

      পড়ে থাকলে হবে না!

         তরঙ্গোচ্ছাসে  নিজেরাও

              তরঙ্গায়িত হই!

তা না হলে কীসের সাগরসঙ্গম?

 

শুভঙ্করি  

শুষ্ক হয়ে আছো কেন?

       শুভ্রোজ্জ্বল জ্যোৎস্না!

          বিশাল প্রান্তরে!

 

মধু না পেলে

শুষ্কতালুতে নদীর জল ভেজাও!

ইক্ষুরস খুঁজে দেখো আমার জমিতে!

 

শুষ্কপথে থাকতে থাকতে

শুষ্কপাতা হয়ে ঝরে যেও না!

তুমি এখনো টগবগে

         জীয়ন উদ্ভিদ!

 

আগাগোড়া নিজেকে ভরিয়ে তোল

ভরবার শক্তি এখনো রয়েছে,

    পাতিল ও কলস খালি রেখো না!

 

নদীর জলে তো সরোবর

                কল্লোলিত হয়!

তুমি তোমার শুভ্রতা নিয়ে

          অন্তত শুভঙ্করি হয়ে ওঠো,

             আমার শূন্যতা মেটাতে!

 

 

প্রকৃতির ভেতর প্রকৃতি  

 

বৃক্ষ না হলে

       প্রেম করো না!

বেড়া ও বেড়ি হতে মুক্ত হয়ে

শুধু বেড়াল-পায়ে হাঁটলে চলবে না!

 

হাবুডুবু খাও জলে

   ডুবতে ডুবতে ভেসে ওঠো,

সাহসে সাঁতার দিয়ে

নদীর পারে উঠে গিয়ে ফেরি ধরো,

       শস্যভূমিতে পা রাখো

উঁকি দিয়ে সূর্য দেখো।

 

বিদ্যুৎশক্তির অপচয় করে

গা-ু হয়ে বনবাদাড়ে টাট্টুঘোড়া নিয়ে

     ঘোরার কোনো মানে নেই,

যদি সবুজ না হতে পারো!

 

প্রকৃতির ভেতর নিজেও প্রকৃতি না হলে

প্রেমও নেড়ে গাছ হয়ে যায়,

             শুধু চৈত্রমাসে নয়

                     --বর্ষাকালেও!

 

ছায়াকুঞ্জে ছায়া  

 

ভালোবাসা ছাপিয়ে উঠেছে-

       সরোবর উপছে পড়ছে,

তবুও নিজেকে হারিয়ে ফেলো না!

ছায়াকুঞ্জে গিয়ে নিজের ছায়া দেখে

              কেঁপে উঠছো নাকি?

 

অরণ্যে পা রাখতে গিয়ে

পথ হারিয়ে ফেলছো কেন?

নদীর কিনারে গিয়ে

   ছায়াতরীর খোঁজ পাচ্ছো না?

নিজের খোঁজ নিজে রাখতে পারছো না!

 

কিছু ছায়ামূর্তি আশেপাশে থাকে

যারা ছারখার করার জন্য এক পা দাঁড়িয়ে থাকে,

ছায়াসঙ্গিনীর জন্য

পাবদামাছের ঝোল-কাঁপা জ্বরের সময়ে

         তার মুখে যেন তুলে দিতে না পারো!

 

বায়বীয় সম্পর্ক

বিভিন্ন বায়ুস্তরে হারিয়ে যেতে পারে,

    তা টেরই পাবে না!

সম্পর্ক গামছা দিয়ে বেঁধে রাখতে হলেও

         --গাফলতি চলে না!

 

 

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন