কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

অভিজিৎ বসু

 

কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৫


পলাশের রঙ

নিঃসঙ্গ। লোরকা, বোর্হেস। খাবার প্লেটে জলপাইয়ের আচার। পথ হারিয়ে ঝড়, বাতাসের মাঝে কালো শাদা ঘোড়া খোঁজা। বাঁকা গাছের অংশ বা পাগল করা প্রেমিকচাঁদ সবকিছু, মৃত্যুতে বিশ্লেষণ। মাজিদ মাজিদির ছবি দ্য ফাদার, কতো দাম?

দীর্ঘ এক যাত্রায় আর্তনাদ ফুটে ওঠে মুখের ভাঁজ থেকে। কলাপাতা রঙের মেয়েটি টার্ন নিয়ে হয়ে যাচ্ছে জলপাই রঙে। মেয়েটি কী খোঁজে? কাকে খোঁজে? কার বুকে মাথা রেখে আকাশের মেঘ দ্যাখে?

যখন বেলা কমে আসে, গোধূলি এসে বুকে লেপ্টে থাকে, জলপাই রঙয়ের মেয়েটি হয়ে যায় রজঃস্বলা বাউলা। বিনিময় তৃপ্তি। লাল রঙ ধূসর সময় কুড়াতে থাকে, তারপর আঁচলে বেধে রাখে। দূরবাসী সুগন্ধ দূর শব্দের মতো। আহা গান, গলা ছেড়ে। মোটিফ খুব সরল। পাতা ঝরলে যেমন খাঁ খাঁ করে চারপাশ, তেমনি। আগুনে মাংস সেদ্ধ।

পাপের জন্য কি আকাশের বুকের পাঁজর ভাঙা? ধ্যূত, পাপ বলে কি বেসিক্যালি কিছু আছে?

:কোথায় চলেছ?

:লাল রঙের খোঁজে।

:কোথায় পাবে সেই রঙ?

:হয়তো পলাশের কাছে। নয়তো চিতার আগুনের ভেতর। না হলে উষ্ণ ঠোঁটের মাঝখানে।

পলাশ ফুল লোভ ধরায়। পাখিরা ছটফট করে। তীব্র হলকা আগুন বাদামী ত্বকের কাছে বারেবারে ফিরে আসে। ইস্পাতের ছুরি। জমাট রক্তের দাগ। ব্যথা, যন্ত্রণা, পঁচিশ ডিসেম্বর, ক্রিসমাস ট্রি। পাথরের দেয়াল ভেদ করে টুকরো টুকরো হয় আঙুলের জম্পেস নৃত্য। চোখে লাগে বাতাসের ঝাপটা। নগ্ন শরীর গ্রাস করে বালির দেবতা। গদারের ছবির মতো লাল রঙ ভালোবাসা, যন্ত্রণা আর উষ্ণতার প্রতীক।

জলপাই রঙের মেয়েটি পলাশের রঙ হয়ে গেছে কখন, নিঃশব্দ ছায়া পর্যন্ত বুঝতে পারেনি।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন