ধারাবাহিক উপন্যাস
ছেঁড়া শেকড়ের অন্তরাখ্যান
(১২)
‘ওঁ শ্রীশ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ।।
মাননীয় মহাশয়,
প্রজাপতির নির্বন্ধে আগামী অমুকমাসের অমুক তিথিতে অমুক জেলা নিবাসী বর্তমানে
কলিকাতাবাসী শ্রীযুক্ত অমুক মহাশয়ের সুপুত্র কল্যাণীয়/কন্যা কল্যাণীয়া অমুকের সহিত বিবাহের দিন ধার্য হইয়াছে।
এতদুপলক্ষে আপনি অনুগ্রহপূর্বক সবান্ধবে বিবাহবাসরে/প্রীতিভোজে যোগদানপূর্বক অনুষ্ঠানকে
সাফল্যমণ্ডিত করিবেন এবং নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করিয়া বাধিত করিবেন।
পত্রের দ্বারা নিমন্ত্রণের ত্রুটি মার্জনীয়।
ইতি বিনয়াবনতঃ
ভবদীয় --।’
মোটামুটি এইরকম একই মর্মে একই ধরনের বয়ানে দু-বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ কার্ড ছাপানো হল। একেবারে সাদামাঠা কার্ড, ওপরে শুভবিবাহ লেখা। কালীকিঙ্করের কার্ডে নিমন্ত্রণকর্তার নাম রইল তাঁর এক জ্ঞাতি কাকার, যিনি তখনও পরিবারের জীবিত বয়োজ্যেষ্ঠ। ধীরেন্দ্রনাথ দিলে তাঁর পরিবারের বর্তমান বয়োজ্যেষ্ঠ এক দাদার নাম। কলকাতায় মোটামুটি থিতু হওয়ার পর এঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। ধীরে ধীরে সম্পর্কে কিছুটা উন্নতি ঘটে, বছরে দু-চারবার চিঠিপত্র দেওয়া-নেওয়া হয়। কিন্তু দেখাসাক্ষাৎ নেই বললেই
চলে। তাঁরা পূর্ববঙ্গে নিজেদের জমি-জমা নিয়ে মোটামুটি খেয়ে-পড়ে ভালোই আছেন। কিন্তু ক্রমাগত রাজনীতিক পরিস্থিতি
বদলের আঁচ টের পাচ্ছেন। স্বৈরতন্ত্রী পাকিস্তান সরকার বাঙালী জাতির ওপর বিভিন্নভাবে
চাপ বাড়াচ্ছে। বেড়ে উঠেছে বেশ কিছু বিরোধী দল এবং ক্রমশঃ অশান্তি ঘনিয়ে
উঠছে। এত খবর চিঠিতে লেখা যায় না। প্রায় বছরখানেক আগে এক বন্ধু কলকাতায় এসেছিলেন স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে। ধীরেন্দ্রনাথের সঙ্গে তিনি দেখা করে গিয়েছেন। অনুরোধ করে গেছেন হঠাৎ যদি চলে আসতে হয়, তাঁর জন্য একফালি জমি যেন দেখে রাখেন ধীরেন্দ্রনাথ। ধীরেন্দ্রনাথ মুখ বন্ধ করে হেসেছেন, কিছু বলেননি।
আপাতত দেশ থেকে আসা নিমন্ত্রণ চিঠির জবাবে তিনি এইটুকু বুঝেছেন, কোনও অর্থসাহায্য পাওয়ার আশা
নেই। হয়ত আত্মীয়দের মধ্যে দু-একজন উপস্থিত থাকতে পারেন, তারও নিশ্চয়তা কম। তারাসুন্দরী এখন সামলেছেন নিজেকে, হাত ছোটো করেছেন। বিয়ের বাজার করেছেন হিসেব করে। ছোট ছেলে নিরঞ্জন আর বাসন্তীর সঙ্গে ট্রামে করে গিয়েছিলেন গড়িয়াহাট বলে জায়গাটায়। ধাঁধা লেগে গেছে তাঁর। বাসার এত কাছে এমন চমৎকার সাজানো সুন্দর জায়গা তাঁর কাছে
অকল্পনীয় ছিল। সুন্দর চওড়া রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, কেমন সাজানো দোকান-পাট, ফুটপাথের ধারে ধারে গাছ। শাড়ি-জামা-গয়না-প্রসাধনী-জুতো কী নেই! মুগ্ধতার ঘোরের মধ্যে কেটেছে
তাঁর সময়টা। বাসন্তী না থাকলে তিনি একা ফিরতে পারতেন না। একটা বড় দোকানে ঢুকলেন, হ্যাঙ্গারে সুন্দর-সুন্দর শাড়ি টাঙানো। ভেতরে সুসজ্জিত ক্রেতা, পুরুষ ও মহিলা। নিরঞ্জন ভেতরে এল না। বাইরে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে রইল। দোকানদার তাঁদের খাতির করে লেমোনেড খাওয়াল। তাঁর চেহারা অনেক ভাঙলেও এখনও ভারী লাবণ্য, নরম আভিজাত্য আছে। কিন্তু তাঁর উচ্চারণ, কথাবার্তা শুনে মুখ টিপে হাসছিল দোকানের ক-জন কর্মচারী। কানে এল ফিসফিস চলছে, ‘বাঙাল, বাঙাল।’ তিনি জবুথবু হয়ে সঙ্কুচিতভাবে বাসন্তীকে বললেন,
‘অইন্যখানে যাঅন যায় না?”
বাসন্তী মলিন হেসে তাকিয়ে মাথা নেড়েছিল, লাভ নেই। রাস্তায় বেরোতে হয় তাকে, সে জানে। তার হনহনিয়ে হাঁটাচলা নিয়ে, উচ্চারণের পার্থক্য নিয়ে ছোটবড় টীকা-টিপ্পনি হজম করতে হয় প্রায়ই। তখন মনে হয় তাদের ওই কাঁচাপথের বেড়ার ঘরের পাড়াটুকু একমাত্র শান্তির জায়গা। আরও কতবছর লাগবে এখানকার মতো হয়ে উঠতে তা কে জানে? সে নীচু গলায় বলে,
“খুড়িমা, এইটা বড় দোকান। এইখান থে’ বিয়ের কাপড়খান নিয়ে ন্যান। পরে অন্য জাগায় যাব।”
দু-একখানা শাড়ি নামিয়ে দাম
শুনে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর রেশতো কম, পেটকাপড়ের খুঁটে গুনে গুনে বেঁধে
এনেছেন টাকা। বেরোনোর সময়ে ধীরেন্দ্রনাথ পইপই করে বলে দিয়েছেন,
“বুইঝ্যা খরচ করবা। আদিখাল্যাপানা করবা না।”
তারাসুন্দরী অন্যমনস্ক হয়ে পড়লেন। পদে-পদে হোঁচট খাওয়া, অপমানিত হওয়া। এও তো তাঁরই দেশ, নাকি বিদেশ? তাঁর অবস্থা কিছুটা অনুমান করে লোকটি সহানুভূতি দেখিয়ে বলল,
“মাসিমা, আসল বেনারসী হলে ওরকম দাম হবে। আপনি অন্য কিছু দেখবেন?”
“এই কাপড়খান বাকিতে হইব না? পরে দিয়া যামু—।”
লোকটির হয়ত মায়া হল। অদ্ভুত করুণার চোখে তাকিয়ে বলল,
“এখানে এসব চলে না মাসিমা। আপনারা ভুল জায়গায় এসেছেন। আচ্ছা, আমি দেখছি।”
কান গরম হয়ে উঠল, অপমানটুকু হজম করে তিনি ধীরে মাথা নাড়লেন। বর্তমানের শাড়ির দাম সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। বছরে দু-বার কন্ট্রোলরেটের মোটা কাপড় আসে। পুজোর সময়ে বড়ো ছেলে মধুসূদন
হাতে করে মা ও বোনের জন্য মোটামুটি ভালো জমির দু-খানা তাঁতের শাড়ি আনে। সিঁদুরে-লাল সূক্ষ্ম জরির কাজের বেনারসী শাড়িটা তাঁর ভারী পছন্দ হয়েছিল। বিক্রেতা সামনে থেকে শাড়িটা সরিয়ে নিল। তাঁর চোখে জল এসে পড়েছিল প্রায়। মিনিটকয়েক পর সে ভেতর থেকে একগোছা শাড়ি এনে রাখল। শাড়িগুলো দেখতে মন্দ নয়, তবে তত মসৃণ, উজ্জ্বল আর অভিজাত নয়। বিক্রেতা বলল,
“পাটের সঙ্গে সিল্ক মেশানো, হাল্কা হবে। পরে আরাম। আর আপনার বাজেটের মধ্যেই—।”
তারাসুন্দরী শাড়িগুলো ঠেলে দিলেন বাসন্তীর দিকে,
“দ্যাখ এইয়ার মইধ্যে থে’ ল’—, তাইরে মানাইব এমুন একখান।”
“অমুরে সব মানায় খুড়িমা।”
কমলারঙ শাড়িটা বেছে দিল বাসন্তী। সরু পাড়, ছোট-ছোট বুটি, আঁচল সুন্দর কিন্তু তত ঘন কাজ নেই। দাম তাঁর বাজেট কিছুটা ছাড়াল। কেনাকাটা অনেক বাকি।
কেমন এক অপরাধবোধ কাজ করছিল মনের মধ্যে। বাসন্তীর জন্য একখানা ভালো শাড়ি কেনার কথা ভেবেছিলেন, পারলেন না। কত ধুমধাম করেছিলেন কমলার বিয়েতে, ইচ্ছেমতো কেনাকাটি, দানসামগ্রী, নমস্কারী। এমন সংখ্য না-পারা বুকের মধ্যে ক্রমাগত জমে জমে ব্যথা করতে থাকে। না পেরে বলেই ফেললেন চুপিচুপি,
“তরে একখান সিলকেট কাপড় দিমু ভাবতাছিলাম। পারলাম কই? তয় ভালা সুতার কাপড় দ্যাখাইতে ক’—!”
বাসন্তী আলতো করে তাঁর হাতে হাত রাখে। ফর্সা হাতখানায় আর জৌলুস নেই। শিরা-ওঠা, নখ আর আঙুলের মাথা ক্ষয়া-ক্ষয়া। সে নরম গলায় বলে,
“দিবেন ত খুড়িমা। আপনের কেনাকাটি অখনও কত বাকি
আছে। আগে হইয়া যাক না।”
বাসায় ফিরে অমলাকে দেখালেন শাড়ি, ব্লাউজ, সায়া। গল্প করলেন কত বড় দোকান, লেমোনেড খাওয়া, কেমন দামী কাপড়, কেমন লোকজন সেজেগুজে কাপড় কিনতে এসেছে। হেসে হেসে বললেন,
“নিরু এক্কেরে বলদা। বাইরই খারাইয়া রইল। লেমুনেট খাইতে পায় নাই।”
মা-র আনন্দ দেখে ঝড়ের আঘাতে টালির চালের খটরখটর শব্দ
হচ্ছিল অমলার বুকের মধ্যে। তার মা – কত সামান্যতে খুশী, কত অল্পতে রেগে ওঠে, একটুতে চোখের জল ফেলে। মা-কে ছেড়ে কোথায় যাবে সে? কোন অচেনা এক সংসারে? এই উঠোন, তাদের ছোট্ট বাগানটুকু, শরীরের খেয়াল না-রাখা বাবা, ছোড়দাদার সঙ্গে রোজকার খুনসুটি ছেড়ে? হঠাৎ তারাসুন্দরীকে দু-হাতে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট মেয়ের মতো কেঁদে ফেলে অমলা।
দু-দিন ধরে ঝিপঝিপ করে বৃষ্টি
চলছে। এই বুঝি আকাশ ভেঙে ঢল নামল, আকাশের রঙ তেমনটাই দেখাচ্ছে। কালীঘাটের কাছাকাছি দু-দিনের জন্য একতলা বাসা ভাড়া নিয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ। সেখানে ইলেকট্রিক আলো আছে, পাখা আছে। হ্যাজাকের ব্যবস্থাও রাখতে হয়েছে, হঠাৎ কোনও কারণে দরকার হয় যদি। রান্নার ভিয়েন বসেছে ছাদে, খাওয়ার টেবিল পড়েছে সেখানেই। নীচে একপাশে বিয়ের ব্যবস্থা, অন্যদিকে ম্যারাপ বেঁধে অতিথি
আপ্যায়ন। মেনু ঠিক করতে গলদঘর্ম হয়েছেন ধীরেন্দ্রনাথ। লুচি, ছোলার ডাল, বেগুনী, সরু চালের ভাত, লালশাক ভাজা, এঁচড়ের নিরামিষ ডালনা, মাছের কালিয়া, চাটনি, পাঁপড়, লালদই, রসগোল্লা। বিধবা ও নিরামিষাশীদের জন্য আলাদা ধোঁকার ডালনা করা হয়েছে, আর শুধু বরযাত্রীদের জন্য পাঁঠার
মাংস। নিরঞ্জন খুব ধরেছিল ফিশফ্রাই করার জন্য। ধীরেন্দ্রনাথের বাজেট ছাড়িয়ে যাচ্ছিল বলে সম্ভব হল না। এমনিতেও যতটা কমে হিসাব করেছিলেন তা হয়নি। চড়ামূল্যের বাজারে মেপেজুপে সাধারণ দিনপাত মোটামুটি চলে গেলেও
এসব খরচা বড় ধাক্কা মারে। অমলার শ্বশুর বরপণ চান নি। বলেছেন শাঁখা-সিঁদুরে বিয়ে দিলেও তাঁদের মেয়ে আদরেই থাকবে। বরযাত্রীর সংখ্যাও খুব বেশী নয়। তাঁরাও ভাঙা দেশের ছিন্নমূল, অবস্থার সামান্য তারতম্য হয়ত। তাই বলে শূন্য হাতে কি বিদায়
দেওয়া যায়? মেয়ে-জামাইয়ের জন্য শিশুকাঠের
পালঙ্ক করিয়েছেন, বালিশ-তোশক-গদি, আয়না-লাগানো কাঠের আলমারি। বরযাত্রীর যথাযথ আদর-আপ্যায়ন আছে, ফুলসজ্জার তত্বের খরচ আছে।
খরচের হিসাব আর মাথায় রাখতে পারছেন না ধীরেন্দ্রনাথ। বুকের মধ্যে চাপ ধরছে।
ভোরের বেলা দধিমঙ্গলের সময়েও আকাশের মুখ গোমড়া। বেলা বাড়লে রোদের চিকচিক দেখা দিল। মাঝে মাঝে দু-এক পশলা ঝরিয়ে থেমে যাচ্ছে বৃষ্টি। আত্মীয়-পরিজন যে-কজন আসার রাতে এসেছে। সকালে গায়ে-হলুদের আগে দল বেঁধে এসে
পড়ল পাড়ার মেয়েরা। দুপুরে এখানেই খাবে ওরা। দুপুরের খাবার সাধাসিদে।
ওদিক থেকে পুরুষেরা সন্ধের সময়ে আসবে। বাসন্তীর বউদি শেফালী এসেছে মাসচারেকের বাচ্চা কোলে। বাপের বাড়ি থেকে সদ্য ফিরেছে সে।
ফুটফুটে তুলতুলে বাচ্চা, কান্না-টান্না নেই। আপনমনে হাত-পা নাড়ে, আবোলতাবোল হাসে। বাড়ির
প্রথম শিশু, অখুশী নয় কেউ। বাসন্তী ছাড়া তেমন খুশীও নয়, যতই হোক মেয়েসন্তান। বাসন্তী
বাচ্চা নিয়ে ব্যস্ত, ছুটি দিয়েছে শেফালীকে। ভারী চমৎকার আলপনা দেয় শেফালী। অমলাকে সাজানোর
দায়িত্ব নিয়েছে সে। বৃষ্টি নামল আবার, নিঃশব্দে। বৃষ্টি মাথায় অমলার গায়ে হলুদের তত্ব
নিয়ে এল দিবাকরের ছোটোবোন, বোনাই। সঙ্গে বাচ্চারা, আরও তিনজন আত্মীয়। ঘটিতে করে তেল
এসেছে, হলুদবাটা, পান-সুপারি। চামড়ার স্যুটকেসে হলুদরঙের সুতির শাড়ি, লাল গামছা। একখানা
হাতি-হাতি আঁকা চমৎকার দেখতে মুর্শিদাবাদী সিল্ক, হালকা গোলাপী রঙের বেনারসী। সঙ্গে
বসন্তমালতী, ফেস পাউডার, আলতা, সিঁদুর, কাজল, খোঁপার কাঁটা, লালফিতে। ধীরেন্দ্রনাথ
ও তারাসুন্দরীর জন্য প্রণামী এসেছে ওরই মধ্যে। ব্যস্ততা আর ঘরভর্তি লোকজনের মধ্যে কোন
কোণায় লুকিয়ে বসেছিল অমলা। ছোড়দিদির জন্য মন কেমন করছিল তার। রমলা আসতে পারল না। ক-দিন
আগে মুরারীর টেলিগ্রাম এসেছিল তার শরীর ভালো নেই। ডাক্তার মাসখানেক বিছানা ছেড়ে উঠতে
বারণ করেছে। মুরারী ও তার ভাইরা আসবে। দিবাকরের ছোটবোন এসে দেখে গেল অমলাকে। কে একটু
যেন ঠাট্টা করে বলল,
“রায়বাঘিনী – আমাদের অমলারে দুঃখু দিয়ো না।”
দিবাকরের শীর্ণ, ফর্সা হাতের ওপরে অমলার শাঁখা-পলা, স্বর্ণালঙ্কার-পরা গোলগাল ঠাণ্ডা হাত রাখলেন পুরোহিত। দিবাকরের আঙুলের সোনার আংটি নতুন, ধীরেন্দ্রনাথ দিয়েছেন আশীর্বাদ করে। সঙ্গে চেন-দেওয়া সোনার বোতাম, ঘড়ি। অমলার জন্য অলঙ্কার পাঠিয়েছে রমলা। তার কপালে নিখুঁত করে চন্দন এঁকেছে শেফালী। বিবাহ বাসরের আল্পনাও দিয়েছে। এতটা যে সে পারে জানা ছিল না বাসন্তীরও। শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সাতপাক – পরপর অনুষ্ঠানের সময় মুখ তোলেনি অমলা, মাটির দিকে তাকিয়েছিল। ভয়ে, লজ্জায় ভেতরে ভেতরে কাঁপছিল। ভাবার মতো মনের অবস্থা ছিল না। অনুমানে মনে হল তার সামনে দাঁড়ানো চশমা-পরা মানুষটি বেশ লম্বা। তারাসুন্দরী আসেননি বিয়ে দেখতে। অমলা পাশে কাউকে চাইছিল, ছোড়দিদির কথা বারবার মনে পড়ছিল। তার অবস্থা দেখে বাসন্তী এসে ধরেছিল তাকে। পাশ থেকে কে যেন টেনে সরিয়ে নিল,
“অ-মা, দ্যাক দেহি তামশা! তাইর সঙ্গে ঘুরবা নাকি বাসন্তী? জামাই কি একলগে দুইয়ো
জনারে লইয়া ঘরে যাইব?”
সে অনূঢ়া, বর জোটেনি। যদিও অজানা নয়, সে সময়ে বাসন্তীর এত কথা মাথাতে আসেনি।
ঠাট্টার অপমানের আঘাত চেপে সে সরে গেল নিঃশব্দে। শেফালী কিছু আঁচ করেছিল। শিশুকে বাসন্তীর
কোলে দিয়ে বলল,
“এমুন কত কথা হয় গো ছোড়দি, মনে রাইখ্য না। আমি গিয়া অমলারে ধরতাছি।”
(ক্রমশঃ)

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন