![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৫ |
উল্লাস
ভোটে জেতার আনন্দে এ পাড়ার ছেলেরা
ন'বছর বয়সের বালিকার বুকে বোমা মেরে
চলে গেল পাশের পাড়ায়। সগৌরবে দুর্ঘটনা। নয়ত
অতোটা খারাপ লোক নয় ওরা, কেন না পরে তারা
কেউ কেউ বালিকার মাকে এসে বলে গিয়েছিল -
বড় ভুল হয়ে গেছে!
অবাক হইনি আমি
নিষ্ঠুর মানুষ আমি কিছু কম দেখিনি।
চীনে একবার ধরা পড়ে যাবার পর আমার চামড়া
জ্যান্ত ছাড়িয়ে নেওয়া হল। আর একবার জেরুজালেমে
তরোয়াল দিয়ে হৃদপিণ্ড খুঁড়ে বার করে আনলো
বেদুইনরা। ওখানে মাথার দাম সত্যিই কম ছিল
পরাজিত কলিজার চেয়ে। রোমে বিজিতের দলে, তাই
বেড়ি খুলে ছেড়ে দিল সিংহের খাঁচায়। কলোসিয়ামে
বিজয়ী সভ্যতা আর এরিনায় আমি খালিহাত।
ফারাওরা যে কারণে কুমীর পুষতো। তুলনায়
মানুষ এখন অনেকটা সভ্য হয়ে গেছে।
জয়ের উল্লাস শুধু সকেট বোমায়।
আকার ও বর্ণবিষয়ক
পৃথিবী আসলে বর্ণহীন কালো
কোন রঙই রঙ নয়, প্রতিফলনমাত্র
বাগানের সমস্ত ফুল
হ্যাঙারে ঝোলানো শার্ট
রমণীর বালুচরি শাড়ি
শহরের ঘরবাড়ি
বাহারি দেওয়াল
আদিগন্ত শুয়ে থাকা ফসলের খেত
বাদামী সমুদ্রস্রোত অথবা নীল
পাখির ডানার রঙ
ক্যানভাসে তেলরঙ জলরঙ সব
আসলে অর্থহীন তারা, অন্ধকার, সমসত্ত্ব কালো।
শহরের ইমারত, বাড়ির
জঙ্গল
নদীতীর, বালিয়াড়ি, বৃক্ষ বাওবাব
সবাই কুয়াশা তারা, গাঢ়
অন্ধকার।
দিনের আলোয় এরা মেকি, শ্রেণিবদ্ধ
এবং আরোপিত
অন্ধকার অবয়বকে শুধু কাদা বা বরফ নামে চেনে।
সমুদ্রকন্যা
খানিক
বৃষ্টির পরে
আকাশ
ভরেছে এক অদ্ভুত আলোয়
যেন
পৃথিবীর গর্ভ থেকে জন্ম নিচ্ছে
সাগরের
সন্তান। আমি দেখতে পাই
ক্যাসুয়ারিনা
আর নারিকেল গাছের সারি
তীরভূমি
আড়াল করেছে আর
ঘন ঘন
মাথা নেড়ে খুশি খুব তারা
কৌতুহলী
ধাত্রীমায়েদের মত
সমুদ্রযোনি
থেকে বার করে আনছে
সেই
জ্যোতির্ময় শিশু, আমাদের
ঘরে
আকাশ
ভরেছে এক অদ্ভুত আলোয়
প্রতিবেশী
ছাদে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে
তোমার
হারানো সিল্যুয়েট।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন