কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

উদয় চট্টোপাধ্যায়

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৫


ব্যর্থতা

 

তুমি বেশ লেখ

অথচ তোমার দ্বিধাবিভক্ত মন

ধরা দেয় না কবিতায়,

তুমি বেশ লেখ

অথচ তোমার স্বপ্নেরা হারিয়ে হারিয়ে যায়…

 

একদিন জলে নেমেছিলে –

জল নয়, প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন নিয়ে   

শুকনো বালি পায়ে লেগে আছে,

একদিন খেলেছিলে খুব,

কলরব কান্না হয়ে গেছে…

  

তুমি বেশ লেখ –

অথচ জলের দাগ জমাট কান্নারা

মিলিয়েছে হাওয়ায় হাওয়ায় – কবিতায় নয়…

 

 

বিশ্ববীক্ষা

 

পৃথিবীকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষা মানুষকে অন্ধকারে রেখেছে বহুদিন –

মধ্যযুগীয় চার্চ ব্রুনোকে পুড়িয়েছে বাইবেলের দোহাই দিয়ে,

গ্যালেলিওকে পাঠিয়েছে কারাগারের নির্বাসনে,

তারপর অনিবার্য এসেছে রেনেসাঁ …

 

এখন সৌরমণ্ডলের অবিসংবাদিত অধিপতি হয়ে বসে আছেন সূর্যদেব, 

আপাতত অল কোয়ায়েট অন দি কসমিক ফ্রন্ট …

 

এখনও তবু আমারই চেতনার রঙে

পান্না উঠছে সবুজ হয়ে ---

আত্মকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষা থেকে মানুষের মুক্তি কি হবে কোনদিন?

 

 

দিশাহীন

 

পূর্বজেরা সকলেই গত হয়েছেন এই আক্ষেপ নিয়ে--

নতুন প্রজন্ম দিশাহীন।

সমাগত অন্তিম প্রহরে এই প্রশ্ন কুরে কুরে খায়--

আমরা কি এমনই ভাবি নি?  

আঙুলের ফাঁক দিয়ে জীবনের গলে যাওয়ার আগে

কখনও কি ভেবেছি একবার –

পূর্বজদের যেমন ভেবেছি আহাম্মক

আমাদের অনুজেরা তেমনই কি ভাববে না আমাদের?

 

স্বার্থপর জীন তার কাজ করে যায় নিরলস

প্রতিকূল পরিবেশে নিরন্তর বাঁচার সংগ্রামে।

মূল্যবোধ বদলায় তাই,

বদলায় আচরণ অনিবার্যভাবে,

না-হলে তো অবসান অবলুপ্তিতে!

 

দিশা কিছু সুস্থিত লক্ষ্য নয়,

সেটা আপেক্ষিক – বেদনাপূর্ণভাবে আপেক্ষিক।

 

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন