![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৫ |
ব্যর্থতা
তুমি বেশ লেখ
অথচ তোমার দ্বিধাবিভক্ত
মন
ধরা দেয় না কবিতায়,
তুমি বেশ লেখ
অথচ তোমার স্বপ্নেরা হারিয়ে
হারিয়ে যায়…
একদিন জলে নেমেছিলে –
জল নয়, প্রত্যাবর্তনের
চিহ্ন নিয়ে
শুকনো বালি পায়ে লেগে
আছে,
একদিন খেলেছিলে খুব,
কলরব কান্না হয়ে গেছে…
তুমি বেশ লেখ –
অথচ জলের দাগ জমাট কান্নারা
মিলিয়েছে হাওয়ায় হাওয়ায়
– কবিতায় নয়…
বিশ্ববীক্ষা
পৃথিবীকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষা
মানুষকে অন্ধকারে রেখেছে বহুদিন –
মধ্যযুগীয় চার্চ ব্রুনোকে
পুড়িয়েছে বাইবেলের দোহাই দিয়ে,
গ্যালেলিওকে পাঠিয়েছে
কারাগারের নির্বাসনে,
তারপর অনিবার্য এসেছে
রেনেসাঁ …
এখন সৌরমণ্ডলের অবিসংবাদিত
অধিপতি হয়ে বসে আছেন সূর্যদেব,
আপাতত অল কোয়ায়েট অন দি
কসমিক ফ্রন্ট …
এখনও তবু আমারই চেতনার
রঙে
পান্না উঠছে সবুজ হয়ে
---
আত্মকেন্দ্রিক বিশ্ববীক্ষা
থেকে মানুষের মুক্তি কি হবে কোনদিন?
দিশাহীন
পূর্বজেরা সকলেই গত হয়েছেন
এই আক্ষেপ নিয়ে--
নতুন প্রজন্ম দিশাহীন।
সমাগত অন্তিম প্রহরে এই
প্রশ্ন কুরে কুরে খায়--
আমরা কি এমনই ভাবি নি?
আঙুলের ফাঁক দিয়ে জীবনের
গলে যাওয়ার আগে
কখনও কি ভেবেছি একবার
–
পূর্বজদের যেমন ভেবেছি
আহাম্মক
আমাদের অনুজেরা তেমনই
কি ভাববে না আমাদের?
স্বার্থপর জীন তার কাজ
করে যায় নিরলস
প্রতিকূল পরিবেশে নিরন্তর
বাঁচার সংগ্রামে।
মূল্যবোধ বদলায় তাই,
বদলায় আচরণ অনিবার্যভাবে,
না-হলে তো অবসান অবলুপ্তিতে!
দিশা কিছু সুস্থিত লক্ষ্য
নয়,
সেটা আপেক্ষিক – বেদনাপূর্ণভাবে
আপেক্ষিক।

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন