কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

সুকান্ত পাল

 

সমকালীন ছোটগল্প


ঘৃণা

শ্যালক শকুনির কাছ থেকে খবরটা পেয়ে ধৃতরাষ্ট্র খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। তাই তো, তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুর্যোধনের কিসের এতো শোক! উদ্বিগ্ন মন নিয়ে দুর্যোধনকে জিজ্ঞাসা করলেন,

-- তোমার এতো বিপুল সম্পদ, আমার রাজ্য শাসনের ভার তোমার উপরেই ন্যস্ত করে আমি নিশ্চিন্ত আছি। আমি মনে করি তুমি রাজ্য শাসনের পক্ষে প্রকৃতই একজন যোগ্য ব্যক্তি। অথচ তোমার মনে কিসের শোক পুত্র?

-- না পিতা আমার মনে শান্তি নেই।

-- কেন? তোমার মনোরঞ্জনের জন্য রয়েছে বিপুল ধনরাশি এবং সুন্দরী রমণীকূল। তোমার মনোরঞ্জনের জন্য বিপুল আয়োজন, প্রজাদের উপর তোমার যথেষ্ট আধিপত্য আছে। তারা তোমাকে মান্য করে। তবুও...

-- হ্যাঁ, পিতা। তবুও আমার মনে শান্তি নেই।

-- কারণটা জানতে পারি কি?

-- ইন্দ্রপ্রস্থে যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে গিয়ে যে বিপুল ধনরাশি আর সমৃদ্ধি দেখলাম তার কাছে আমাদের হস্তিনাপুর নিতান্তই দরিদ্র। শুধু তাই নয়…

-- আর কী?

-- রাজসূয় যজ্ঞের পর কয়েকদিন ইন্দ্রপ্রস্থে অবস্থানকালে সেখানকার রাজপ্রাসাদের বৈচিত্র্য আমাকে শুধু মুগ্ধই করেনি, যথেষ্ট বিড়ম্বনায় ফেলেছে। খোলা দরজা মনে করে বেরোতে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে আমার কপাল আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ভাই নকুল ও সহদেব আমাকে সাহায্য করার নামে ব্যাঙ্গের সুরে বলেছে, এদিকে না দরজা ওদিকে। আর…

-- আর কী?

--- এই অবস্থা দেখে ভৃত্যের দল হাসাহাসি করেছে। আমার বিষ খেয়ে জীবন শেষ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

ছেলের মুখে একথা শুনে চমকে উঠলেন ধৃতরাষ্ট্র। তাঁর সমস্ত অস্তিত্ব যেন কেঁপে উঠল। তিনি চিৎকার করে উঠলেন,

-- না। এ হতে পারে না পুত্র। তুমি শান্ত হও।

-- আমি শান্ত হতে পারছি না পিতা। আমাকে আপনি মাফ করুন।

-- ধৈর্য ধরো।

-- এর একটা বিহিত করতেই হবে।

ধৃতরাষ্ট্রের কপালের চামড়ায় হাজার কুঞ্চন।

আহারে কোনো রুচিবোধ নেই। রাতের ঘুম উধাও হয়ে গেছে। তার মনের মধ্যে একই চিন্তা ঘুরপাক খায়, প্রিয়পুত্র দুর্যোধনের শোক কীভাবে নির্বাপন করা যায়!

রাজমহিষী গান্ধারীর চোখ বস্ত্রখন্ডে বন্ধ থাকলেও তাঁর বুঝতে কোনো অসুবিধা হয় না ধৃতরাষ্ট্রের মনের উথালপাথাল অবস্থা। কিন্তু সঠিক কিসের জন্য এই অবস্থা তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে এক প্রবল উদ্বিগ্নতা তাকে ঘিরে রাখে সবসময়।

এখন চৈত্র মাস। রাজপ্রাসাদের বাইরে প্রখর রোদে হস্তিনাপুরের বালি ও পাথরের ধূ ধূ প্রান্তরে শুধুই জলকণাহীন রুক্ষ বাতাসের অহেতুক নির্মম আঘাতে দু একটি গাছ যেন নতশিরে পাতা ঝরিয়ে দেবার বাধ্যবাধকতায় দাঁড়িয়ে আছে।

বিরাট ও বিপুল প্রসাদের ঘুলঘুলি দিয়ে তপ্ত বাতাস ভিতরে এসে ঢুকে যেন নিজেকেই শান্ত করতে চাইছে। একেবারে অন্দরমহলে এই প্রখর গরমের কোনো লেশমাত্র নেই।

অন্দরমহলে নিজ গৃহে ধৃতরাষ্ট্র একাকী পায়চারি করছেন। একদিকে তাঁর নিজের সন্তান অন্যদিকে তাঁর আপনজন ভ্রাতুষ্পুত্ররা। কেউ তো আর পর নয়! সবাই তাঁর প্রিয়জন।

এদিকে তাঁর শ্যালক শকুনি দিনরাত তাকে দুর্যোধনের মনোকষ্টের কথা, ইন্দ্রপ্রস্থে যুধিষ্ঠির রাজসূয় যজ্ঞে দুর্যোধনের অপমানিত হওয়ার কাহিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেই চলেছেন।

-- মহারাজ, আপনি একবার গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন রাজসূয় যজ্ঞে আগন্তুক হাজার হাজার অতিথিদের কাছ থেকে তাদের আনা মূল্যবান সব উপহার গ্রহণ করার দায়িত্ব যুধিষ্ঠির ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্যোধনের উপর দিয়েছিল।

-- এতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব! যুধিষ্ঠির তো সঠিক লোককেই, তার ভ্রাতা দুর্যোধনকে দায়িত্ব দিয়ে তাকে তো সম্মানিতই করেছে।

ধৃতরাষ্ট্রের একথা শুনে শকুনির ঠোঁটের কোণা থেকে এক ভয়ঙ্কর বিদ্রুপের নীরব হাসি গড়িয়ে পড়ল। নিজেকে যতটা সম্ভব শান্ত ও স্থির রেখে বললেন,

-- মহারাজ, আমার ধৃষ্টতা মাফ করবেন। আসলে যুধিষ্ঠির দুর্যোধনকে এই দায়িত্ব দিয়ে তাকে দেখাতে চেয়েছে যুধিষ্ঠিরের ক্ষমতা, বৈভব এবং তার জনপ্রিয়তা। সমগ্র ভারতবর্ষের প্রায় সব রাজ্যের নৃপতিরা এই রাজসূয় যজ্ঞে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। এর দ্বারা কি তিনি পরোক্ষে দুর্যোধনকে তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতে চাননি?

--- কিন্তু…

-- আবার কিন্তু কেন মহারাজ? এই অপমানের অনলেই তো আপনার পুত্র, আমার প্রিয় ভাগিনেয় সবসময় দগ্ধ হচ্ছে।

শকুনির কথায় মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র চুপ হয়ে রইলেন। তাঁর মাথায় হাজার লক্ষ চিন্তা নাকি দুশ্চিন্তা তা তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না।

(দুই)

ইন্দ্রপ্রস্থের রাজমহলে আয়োজিত বিশাল রাজসূয় যজ্ঞে পাঞ্চালী লক্ষ্য করেছে এই যজ্ঞকে কেন্দ্র করে পঞ্চপান্ডবের বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ পান্ডব যুধিষ্ঠিরের চোখে মুখে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে এক অলৌকিক আনন্দের সঙ্গে প্রচ্ছন্ন অহং। সেই অহং সবার চোখে ধরা পড়ে না। কিন্তু পঞ্চালীর চোখে তা ঠিকই ধরা পড়েছে। শুধু তাই না, নিজের জ্যাঠতুতো ভাইদের সঙ্গেও যে আচরণ করা হয়েছে তা ভ্রাতৃস্নেহের আড়ালে বিদ্রুপ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিশাল রাজপ্রাসাদে মামা শকুনিকে নিয়ে যখন দুর্যোধন বিভিন্ন মহল্লায় ঘুরে ঘুরে দেখছেন, তখন মাঝেমধ্যেই তাদের বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কখনো  স্ফটিকের চত্বরকে জল ভেবে পরনের বসন হাঁটুর উপর তুলে হেঁটে দেখেছেন শুকনো খটখটে চাতাল। আবার কখনো কখনো জলকে স্ফটিক মনে করে একেবারে পরনের বসন শুদ্ধু ভিজে গেছেন। তাদের এই হেনস্থা দেখে, কেউ কেউ মন্তব্য করেছে, আজীবন রাজপ্রাসাদে বসবাস করেও এ দেখছি কিছুই জানে না!

নিজের দেওরদের এই হেনস্থা দেখে পাঞ্চালী উদ্বিগ্ন হয়েছে। রাজপরিবারের একজন সদস্যকে, নিজের পরিবারের একজনকে এভাবে অপদস্থ হতে দেখে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলেও কিছু করার ছিল না। বিয়ের আগে পিতৃগৃহে তখন সে দ্রৌপদী নামে পরিচিত। তার পিতা ধ্রুপদ এক ব্রাহ্মণ পন্ডিতকে তাঁর গৃহে রেখেছিলেন পুত্রদের নীতিশিক্ষার জন্য। সেই ব্রাহ্মণকে অর্থাৎ অতিথিকে শুশ্রূষার ভার ছিল তার উপর। তখন সে সেই ব্রাহ্মণের কাছে অনেক নীতিকথা শুনে নিজেকে তৈরি করেছে। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই ন্যায় ও নীতিপরায়নতার বিষয়ে সে নিজেও কোনোদিক থেকে যে জ্যেষ্ঠ পান্ডবের থেকে একেবারে কম ছিল, তা নয়।

পাঞ্চালী অনেক ভেবেও উত্তর পায় না, যুধিষ্ঠিরের মতো ন্যায়পরায়ণ মানুষ কিভাবে এসব মেনে নিচ্ছেন? তবে কি বারাবনতে পান্ডবদের পুড়িয়ে মারার দুর্যোধনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হাওয়ায় এভাবে তার প্রতিশোধ নিচ্ছেন?

কিন্তু তাও তো উচিত না। কেন না দুর্যোধনরা তো আমন্ত্রিত এবং জ্ঞাতি। আমন্ত্রিতদের সঙ্গে এরূপ আচরণ অন্তত পান্ডবদের শোভা পায় না। আমন্ত্রিতদের অপমানে পাঞ্চলী নিজের কাছে নিজেই লজ্জিত হয়ে পড়ে। অথচ তার কিছু করার নেই। অন্তঃপুরেই তাদের অধিকার। তার বাইরে কোনো কালে তাদের কোনো অধিকার যেমন ছিল না তেমনি আজও নেই।

সেই অপমান দুর্যোধনের হৃদয়কে দিনরাত পুড়িয়ে খাক করে দিচ্ছে। মনে মনে সে প্রতিজ্ঞা করে যেমন করেই হোক পান্ডবদের বিপুল ঐশ্বর্য, প্রতিপত্তি সে ধ্বংস করে ছারখার করে ছাড়বে। পান্ডবদের রাজ্য এবং তাদের সমস্ত ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি সব কেড়ে নিতে হবে। এর জন্য যদি যুদ্ধ করতে হয় তবে সে তাই করবে।

ভাগিনেয়ের মতিগতি বুঝতে পেরে শকুনি বলল, ধীরে বৎস। ধীরে। ভুলে যেও না পান্ডবদের শক্তির কথা। পান্ডবদের সঙ্গে সপুত্র দ্রুপদ এমন শক্তি ধারণ করে যে দেবতারাও কিন্তু তাদের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারবে না।

-- তাহলে কী করনীয়?

--- তুমি তো জানো যুধিষ্ঠিরের পাশা খেলার নেশা প্রবল অথচ সে কিন্তু খেলায় মোটেই পারদর্শী নয়। আর আমার পাশার চাল তো তুমি জানোই দুর্যোধন।

---  বিলক্ষণ জানি। তবে কি...

--- হ্যাঁ, পাশা খেলায় আহ্বান করো।

(তিন)

পাশা খেলার কথা জানতে পেরে ধৃতরাষ্ট্র বললেন, প্রবল প্রতাপশালী পান্ডবদের সঙ্গে ঝগড়া বাধানো একেবারেই অনুচিত কাজ হবে।

--- এতে অসুবিধা কি আছে পিতা? প্রাচীনকাল থেকেই তো লোকে পাশা খেলে। এ নিয়ে ঝগড়াঝাঁটির কিছুই নেই। আপনি আমাদের অনুমতি দিন।

-- আমি বিদুরের সঙ্গে একটু পরামর্শ করে তবে সিদ্ধান্ত জানাব।

বিদুর সব কথা শুনে বললেন, এ অসম্ভব। দুর্যোগ ঘনিয়ে উঠবে। কিন্তু বিদুরের চেতাবাণী কোনো কাজ করল না পুত্রান্ধ ধৃতরাষ্ট্রের কাছে। জেদী দুর্যোধন ও শকুনির কাছে প্রায় পরাজিতের মতো বললেন, তোমরা যা ভালো বোঝ করো। তবে সাবধান।

পিতার এই বাক্য দুর্যোধনের কাছে পিতার অনুমতি বলেই বোধ হলো।

(চার)

পাশাখেলা যখন চলছিল তখন যুধিষ্ঠিরের চোখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল ভাইদের রাজ্য, সম্পত্তি, তাদের সব কিছু ছিনিয়ে নেওয়ার এক ভয়ঙ্কর অভীপ্সা ও লালসা। সেই লালসার আগুনে তার বাস্তববুদ্ধি পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল।  ন্যায়পরায়ণতার সব আবরণ নিমিষেই ধুলিসাৎ হয়ে গেল।

পঞ্চালীর মনে শত প্রশ্ন। কেন যুধিষ্ঠির এ খেলায় রাজি হলেন? তিনি তো জানতেন এ খেলা শুধু খেলা নয়। এ তো দু পক্ষের মধ্যে পরস্পরের রাজ্য গ্রাস করার এক কৌশলী খেলা। দুর্যোধনের লোভ, লালসা ও  প্রতিহিংসা থাকতে পারে। তাই বলে জ্যেষ্ঠ পান্ডবেরও তাই থাকবে? এ যে অন্য এক যুধিষ্ঠির! এই জ্ঞাতি বৈরিতাকে তিনি কি করে মেনে নিলেন ? তবে তাঁর সঙ্গে দুর্যোধনের কি পার্থক্য রইল? ক্ষত্রিয়ের পক্ষে তো এ খেলা উপযুক্ত নয়? ক্ষত্রিয়ের পরিচয় অস্ত্রে, যুদ্ধে এবং প্রজাদের সুরক্ষা দেওয়া! সব জেনেও তিনি পাশা খেলায় রাজি হয়েছেন। তবে নিশ্চয়ই তাঁর মনের গভীরে তিনি নিঃশব্দে লালন করেন অধার্মিক ইচ্ছা!

পাঞ্চালী আর ভাবতে পারে না। তার মনের আকাশে তখন শ্রাবণ মেঘের ঘনঘটা, নাকি প্রখর চৈত্রের অসহনীয় দাবদাহ, সে বুঝতে পারে না।

খেলা শুরু হলো। দুর্যোধনের হয়ে পাশার চাল দিচ্ছেন মামা শকুনি। সেই চালে যুধিষ্ঠির বারবার পরাজিত হয়ে একে একে  সব হারাতে শুরু করলেন। ধনদৌলত, সোনা-গয়না, রথ, গোরু, ঘোড়া, হাতী, সৈন্যবাহিনী সব কিছু একের পর এক হেরেই চলেছেন। সিংহাসন থেকে শুরু করে যাবতীয় রাজ্যপাট সবকিছুই হারিয়ে একবারে নিঃস্ব হয়ে গেলেন। এমনকী তাঁর একলক্ষ দাসীকেও বাজি রেখে হেরে গেলেন। নারীদের এভাবে সস্তা পণ্যে পরিণত করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা হলো না যুধিষ্ঠিরের। অবশিষ্ট আর কিছুই থাকল না। ততক্ষণে তাঁর হৃদয়ের ও মস্তিষ্কের উপর দখল নিয়ে নিয়েছে পৃথিবীর যাবতীয় লোভ, লালসার এক ভয়ানক আগুনের লেলিহান শিখা।

তখনও তাঁর ধারণা, শেষ চালে তিনি সব ফিরিয়ে আনবেন নিজের কাছে । নিজের দখলে যা ছিল তার সঙ্গে কৌরবদের যাবতীয় ধন-সম্পত্তি সব দখল করে নিতে পারবেন শেষ চালে। কিন্তু বাজি রাখার মতো তাঁর কাছে তো আর কোনোও সম্বল ছিল না। পরপর ভাইদের এবং নিজেকেও বাজি রেখে হারলেন। আক্ষরিক অর্থে একবারে নিঃস্ব বলতে যা বোঝায় তাই হয়ে গেলেন। তবুও তাঁর অপরিসীম লোভ এবং প্রতিহিংসার আগুন তখন হৃদয়ে দাউ দাউ করে জ্বলছে। দুর্যোধন আর যুধিষ্ঠির একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে। কোনো পার্থক্য আর নেই।

জেদী, একগুঁয়ে, লোভী যুধিষ্ঠির অন্য পান্ডবদের কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করলেন না। যা নিজের একার নয়, তাকেই, অর্থাৎ পাঞ্চলীকেই বাজি রাখলেন।

এই বাজির কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতচকিত হয়ে গেল। এ যে বিনা মেঘে বজ্রপাত! প্রায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গেল অপর চার পান্ডবের। তৃতীয় পান্ডবও নতগ্রীবে বসে রয়েছে মাটির দিকে তাকিয়ে। উপস্থিত অতিথিরা এবং বিভিন্ন রাজন্যবর্গ যারা এই পাশা খেলা দেখার জন্য এসেছিলেন তাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেল গুঞ্জরণ। কেউ কেউ হতবাকও হয়ে গেলেন।

দুর্যোধনের চোখে হাসির ঝিলিক। অন্ধ হলেও ধৃতরাষ্ট্রের বুকটা ক্ষণিকের জন্য কেঁপে উঠল।

তারই পরিবারের একজন বধূও শেষ পর্যন্ত দাসীদের মতোই পণ্য হয়ে উঠল! তাও আবার পাঞ্চালী! অথচ তিনি বধা দিতে পারছেন না!

অন্তঃপুরে সেই ভয়াবহ সংবাদ পৌঁছতেই সবাই হায় হায় করে উঠলেও পাঞ্চালীর চোখেমুখে ফুটে উঠল এক অবিশ্বাস্য হাসি, যে হাসিতে ঝরে পড়ছে দলা দলা থুতুর মতো ঘৃণা আর ঘৃণা। সমগ্র পুরুষ কূলের প্রতি এক অবিমিশ্র ঘৃণার স্রোত।

 

 


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন