![]() |
| কবিতার কালিমাটি ১৫৫ |
অতিকায় পিঁপড়ের হন্টন
ভিতরে পুষ্টির বাটি, জীবাণুমুক্ত
চামচ
চারপাশে গজিয়ে ওঠা ফ্রেম
কারুকার্যময়
যে-কে-সেই পড়ে আছে
লোকটা চলে গেছে ফ্রেম টপকে
দূরের পিকনিক স্পটে
যেখানে ছায়া বিক্রি চলছে বাঁশের
ডগায় প্লাস্টিক টাঙিয়ে
সেই অপূর্ব টুকলির সামনে মোষের
চাহনির মতো নির্বিকার
শ্রোতা হয়ে
দর্শক হয়ে
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
কেউ যেন বুঝে ফেলে
কিছুরই স্পর্শ নেই - তবু মিথ্যে
আইসপ্যাক
হাতড়ে হাতড়ে শুধু উষ্ণ শিলার
গড়িয়ে নামা, উল্লম্ফন, ঠোকাঠুকি,
ক্ষয় -
একেকটা ঘরে সেই একেক সময়
সিলিং থেকে ঝুলে থাকা পুতুলেরা
মাথার ওপর নাচে পাক খায়
দ্রাঘে দ্রিম উহুঁ সাঁইয়া তানা
দ্রিম তাক-এ
সবে তো সন্ধ্যে, কোনও ঘরে দুপুরের
নিরামিষ
বদলে গেছে গুটি গুটি পায়ে অন্য
ঘরে গিয়ে
ধারালো কৃপাণের রাতে
কোনও এক প্রাকবসন্তের বন্দীশ
ছিঁড়ে খেয়ে সুড়সুড়ি দিয়েছে
এ বাড়ির মনুষ্যজীবের সঙ্গে নির্দোষ
পোষ্যকেও
কথা শেষ না-করা আঁকুপাঁকু ওস্তাদের
বুলি
বর্তমানের আলিঙ্গন চেয়ে
হঠাৎ গিলোটিনের গন্ধে বোঝে
তাদের কবর দেবে বলে শাসাচ্ছে কেউ
পিছনের চিৎকারে সামনের পিনপতনের
নৈঃশব্দ্যে
আমি
বুরবাক আমি
সদলবলে দাঁড়িয়ে থাকি ভরা-পোয়াতি
হলুদ সর্ষেক্ষেতের থরোথরো উষ্ণতায়
আর আমারই দলের লোকেরা
চোখ বেঁধে আমাকে দু-তিন পাক ঘুরিয়ে
দিতেই
দিক গুলিয়ে যায় আমার
ভাবতে থাকি আমার চতুর্দিকেই বুঝি
সর্ষেক্ষেত
দোদুল্যমান হলুদ অকার-লেমন-গ্যাম্বোস
বিতর্কেই মুক্তি জেনে তথ্যের ঝড়ে
কাবু হতে হতে
দেখি কখন যে আমার ওপর
ক্লোরোফর্ম চার্জ করে মিটিমিটি
হাসছে লক্ষকোটি
নামের তালিকা
মতামতের লিস্ট
দূরত্বের মাপ
দেরাজে সোনা
হাতে ভিক্ষাপাত্র
চকচকে জিভ
ভেজা চোখের আড়ালে এরা কারা?
এদের তালস্বর্বস্ব গানে আমাদের
মগজে
অসংখ্য জেড আর এক্স এসে ঘুরে বেড়ায়
মশার ঝাঁকের মতো
অতিকায় পিঁপড়েদের লাইন ভাঙে
দূরের পাহাড়ি ধুন কখন যে ফিরে
যায়
নিজের নদীতে
অদৃশ্য কারা যেন নির্লিপ্ত চোখে
জীবের মৃত্যু দেখে
বোঝে এইসব তথ্য ক্লান্ত করে শুধু
বিভ্রান্তি বিভ্রান্তি ওম
জল অন্ন শান্তি হ্রীং ভুবঃ
ভাবতে থাকি
ভূপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট
নাকি
ভূপৃষ্ঠ থেকে রসাতল
কোন দূরত্বটা বেশি
সিগমাকে যোগফল ভাবব আর চিহ্ন...
ভাগশেষ নাকি এপসাইলন...
নাকি...
গুলিয়ে যায়, গুলিয়ে যায়
প্যারেড তবু চলে, চলে, চলতেই থাকে
বংশলতিকার লেজ কুন্ডলী পাকিয়ে
গুঁজে দেওয়া থাকে
সহ্যের সরলরেখায়
বালির সমুদ্র থেকে ভেসে আসে মিস্টি
একটা গন্ধ
ভাবি আকাশধোয়া বৃষ্টির পর দেখব
অতিকায় পিঁপড়েরা হাঁটছে হাঁটছে
জলের ফোঁটার সঙ্গে
অন্তহীন মাকড়সার জাল বেয়ে
হাড়ের গাঁথুনি
তুমিও কি একদিন কৃতি মানুষের অন্তর্বাস
টেনে খুলে দিতে পারার পৌরুষে ভর
করে
ফুটন্ত তেলের কার্বনে
ছেড়েছিলে সুস্বাদু রাধাবল্লভী!
নিশানা
হাতুড়ি হাতে নিয়ে ঠিকই তো দেখেছিলে
পেরেকের মাথা!
তবুও টিপ ফস্কালো?
নির্দোষ তক্তাই টেনে নেয় আসল আঘাত!
ভিতর থেকে কি কেউ বলে - পারো না,
পারো না!
তোমার সর্বস্ব শুধু জলে যায় ওই
কণ্ঠকে আজীবন নিশ্চুপ করাতে

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন