কালিমাটি অনলাইন

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

দশম বর্ষ / একাদশ সংখ্যা / ১১০

চতুর্দশ বর্ষ / প্রথম সংখ্যা / ১৪০

শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

অজিত বাইরী

 

কবিতার কালিমাটি ১৫৫


দৌড়

 

লোকটা দৌড়োচ্ছে খর-রোদ্দুরে;

দৌড়োতে দৌড়োতে এক একবার

সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে পিছন ফিরে;

পেছন থেকে কারা যেন তাড়া করছে

উন্মত্ত, হিংস্র, অপ্রকৃতিস্থ।

 

পেছনে দাউদাউ জ্বলছে বাড়িঘর...

জ্বালিয়ে দে, পুড়িয়ে দে বলে কাদের উল্লাস

দুপুরকে চিরে চিরে ফাল-ফাল করছে।

এরা কি প্রতিপক্ষ? রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ?

ভিন্ন দলের সমর্থকদের সর্বস্ব লুঠ করতে চাইছে?

এদের অত্যাচার থেকে বাদ যাচ্ছে না

নারী, শিশু, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা।

ক্ষমতা দখলের জন্য এত হিংস্র হতে পারে

ঈশ্বরের হাতে গড়া রক্তমাংসের মানুষ?

 

লোকটা দৌড়োচ্ছে, দৌড়েও কী রক্ষা পাবে

হিংস্র উন্মাদদের কবল থেকে?

হা ঈশ্বর, এরাই দলের সম্পদ, এরাই

গণতন্ত্রের ধারক-বাহক।

 

দিন-দুপুরে লোকটার চোখে নেমে আসছে অন্ধকার,

পা দুটো টেনে তুলতে পারছে না,

মাথার উপর গনগনে সূর্যের আঁচ।

লোকটা হঠাৎ দৌড়োতে দৌড়োতে

প্রতিরোধের ভঙ্গিতে ঘুরে দাঁড়াল;

তাকে এখন দেখাচ্ছে ডোরা-কাটা বাঘের মতো।

 

বাঘ নিয়ে খেলা

 

যে লোকটা বাঘ নিয়ে সার্কাসে খেলা দেখায়

সে এখন তাঁবুর বাইরে

গাছতলায় পাতা বেঞ্চে বসে বিড়ি ফুঁকছে।

ডাক পড়লে তাঁবুর ভেতর বাঘ নিয়ে

খলা দেখাতে ঢুকবে জমকালো জোব্বা পরে।

নানা কসরতের পর বাঘ যখন তার সামনে

হাঁ করে দাঁড়াবে, লোকটা

সেই হাঁয়ের ভেতর ঢুকিয়ে দেবে মাথা।

বউ চোখ বুজে ভয়ে সিঁটিয়ে থাকবে,

বাচ্ছাটা মায়ের বুকে মুখ গুঁজে ডুকরে উঠবে,

আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হবে গ্যালারি।

কয়েক মুহূর্তের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা ;

তারপর সন্তর্পণে মাথা বের করে আনবে লোকটা।

বউ চোখ খুলে তাকাবে, তার বুক থেকে

বেরিয়ে আসবে দমচাপা দীর্ঘশ্বাস,

বাচ্ছাটা কান্না থামিয়ে ভয়চকিত চোখ মেলবে।

টুপি খুলে দর্শকদের অভিবাদন জানাতে জানাতে

লোকটা ফিরে যাবে ড্রেসিংরুমে।

সেদিনের মতো আশ্বস্ত হলেও বউ জানে,

খেলা দেখাতে দেখাতেই লোকটা একদিন

বাঘের পেটে যাবে।

 

একটি খুনের ঘটনা

 

আকাশে লাগলো রঙ;

ছুরির আঘাতে

সৌমেনের বুক থেকে ছিটকে উঠল রক্ত।

 

দূর থেকে শোনা গেল বিলাপের সুর;

কোন নারীর বুক ভাঙলো

শাঁখা ভাঙলো

ঘর ভাঙলো।

 

দৈনিক সংবাদপত্রে, গণমাধ্যমে, দলীয় প্রতিবেদনে

প্রচারিত হল নানা বর্ণের সংবাদ।

কেউ লিখলো রাজনৈতিক খুন

কেউ লিখলো সামাজিক সংঘর্ষ

কারও বয়ানে পারিবারিক কলহ।

 

প্রত্যক্ষদর্শীর মুখ বন্ধ হল

দলীয় মদতপুষ্ট গুণ্ডাবাহিনীর

তর্জনী শাসনে।

 

ঘোলাজলের মতো ঘেঁটে গেল একটি খুনের ঘটনা;

না প্রশাসন, না আদালত

কোন সদুত্তর মিললো না কারুর কাছেই।

 

গোধূলি গগনে মেঘে ঢেকেছিল তারা।


0 কমেন্টস্:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন