![]() |
| কালিমাটির ঝুরোগল্প ১৪৫ |
অম্বল
ধীরে ধীরে পুরনো জ্যাকেটের চেইন উপরে তুলল পলাশ। ধুলো পড়া বুকে সন্ধ্যার চাদর টেনে নিচ্ছে আকাশটা, পলাশ সেইদিকে অন্যমনস্ক তাকিয়ে রইল। হাজার হাজার শব্দের মধ্যে বসেও কোনো শব্দকে ছুঁতে পারছে না সে। তার বুকে কাঁটার মত বিঁধে আছে আশিকপি বই। কাল পর্যন্ত দাস এন্ড ঘোষের স্টলের বেঞ্চের নিচে জগাদা জায়গা দেবে, কিন্তু পরশু মেলা শেষ হলে সে কোথায় রাখবে এদের? চন্দনা যে কানের দুলটা পলাশকে সারাতে দিয়েছিল, সেই দুলটা বাঁধা দিয়েই বইটা করা! মেলার পর তুলে নেবে ভেবেছিল। এখন যে কী বলবে চন্দনাকে! প্রাইভেট নার্সিংহোমে সিস্টার কাম আয়ার কাজ করে সামান্য রোজগার চন্দনার, যার প্রায় পুরোটায় পলাশদের গোটা সংসার খেয়ে ফেলে। পলাশের প্রাইভেট কোম্পানির হাঁড়ির হাল, জুট ফুট কী আর চলে? সবাই প্লাস্টিকে খুশি, ইউজ আন্ড থ্রো! দু:খের কপাল তাদের দুজনেরই! কিন্তু নব্বইয়ের বিখ্যাত কবির বইটাও যে কেউ কিনবে না, সে এটা ভাবতেও পারেনি। কতকাল বাদে মাস্টারমশাই লিখলেন! মাস্টারমশাইয়ের রুগ্ন চোখেও সে কি কম আলো দেখেছে? প্রতিটি দিন, আটঘন্টা ধরে সে হাতে তুলে শিরা ফুলিয়ে চেঁচিয়েছে, শাশ্বত চক্রবর্তী ফিরেছেন কবিতার জগতে, তাঁর লেখা নতুন বই ‘আসঙ্গে কবিতার জন্ম’! নাহ, কেউ, নেয়নি। কয়েকজন আসছি আসছি বলে সেই যে গেল, গোটা সাতদিন কেটে গে্ল, এলো না।
--- ও পলাশদা, এত তাড়াতাড়ি টেবিল ছাড়ছ যে!
-- তুই বস রে শঙ্খ, আমাকে একটু
তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে। ছেলেটাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব!
--- আজ কিছু হলো পলাশদা? ফিসফিস
করল শঙ্খজিৎ, আমার মাত্র দুটো!
পলাশ এবার হাসল, বলল, আমার একটাও
নয়, মানুষ কবিতা আর পড়বে না রে, নিজেরা লিখবে।
এবার শঙ্খজিত হো হো করে হেসে বলল,
মানুষ কি আর মানুষ আছে? শালা কবিতার অপমান!
প্যাভেলিয়ানের একেবারে সামনে থেকে
তুমুল হই হই ভেসে এল।
--- আজ আবার তরুণ তুর্কি কবি কাম
ফেমাস ইউ টুইবারের আসার কথা আছে! ঢুকেছে মনে হয় পলাশদা!
-হবে হয়তো, বিড়বিড় করল পলাশ। ভরন্ত
শরীর নিয়ে গোটা মেলাটা দাঁড়িয়ে আছে। শুধু তার বইগুলোর একটু জায়গা হলো না! পরশু আশিকপি
বই সে কোথায় নিয়ে যাবে? মুখ থেকে টকজল উঠে আসছে, সেই সকালে আনা রুটি তরকারিটা মনে হয়
---
বুক ভর্তি এখন অম্বল!

0 কমেন্টস্:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন